রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

ট্যাক্সির স্টিয়ারিং থেকে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন মোশাররফ হোসেন


মো: শাহজাহান বাশার
সাব এডিটর , 1 ফলোয়ার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

ট্যাক্সির স্টিয়ারিং থেকে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন মোশাররফ হোসেন
নিউইয়র্কে ট্যাক্সি, মনে পড়ে থাকত ধান্যদৌল স্থানীয় মানুষের কাছে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ত সড়কে ট্যাক্সির স্টিয়ারিং হাতে জীবনের তিন দশকেরও বেশি সময় পার করেছেন তিনি। প্রতিদিনের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, প্রবাসজীবনের নানা প্রতিকূলতা এবং পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্ট—কোনোটিই তাঁকে নিজের শেকড় ও জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। বরং প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ তিনি ব্যয় করেছেন জন্মভূমির মানুষের শিক্ষা ও কল্যাণে। 

নিজের জন্য বিলাসী জীবন কিংবা বিপুল সম্পদ গড়ার পরিবর্তে একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি শিক্ষাকেন্দ্রিক সামাজিক উদ্যোগ। তিনি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ তাঁর শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি দেশ-বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। 

প্রবাসজীবনে কঠোর পরিশ্রম করে অর্জিত অর্থ নিজ এলাকার শিক্ষা ও জনকল্যাণে ব্যয় করার তাঁর উদ্যোগ অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল নিজ এলাকার অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় নিউইয়র্ক সিটিতে ট্যাক্সিক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। 

প্রবাসে নাগরিকত্ব ও বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে থাকার মানসিক কষ্টও তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু জন্মভূমির মানুষের ভবিষ্যৎ এবং এলাকার সন্তানদের সুন্দর জীবন গড়ার প্রত্যয় তাঁকে তাঁর লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হতে দেয়নি। মূলত বাবা-মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এবং নিজ এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয় থেকেই তাঁর সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সূচনা। 

১৯৯৭ সালে ধান্যদৌল গ্রামে ‘আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী হাই স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়। একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর উদ্যোগ ও অর্থায়নে গড়ে ওঠে আরও একাধিক শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, মরিয়ম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ্ব আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী হাইস্কুল কাম কারিগরি কলেজ, মুম-রোহান চাইল্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল এবং ধান্যদৌল আশেদা-জোবেদা খান চৌধুরী ফোরকানিয়া মাদ্রাসা। মানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী ফাউন্ডেশনও। 

শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। ধান্যদৌল ও আশপাশের এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে একটি মেডিকেল ক্লিনিক/হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দুটি আধুনিক লাইব্রেরি। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। 

দরিদ্র, অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়াকে তাঁর শিক্ষা উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ফলে এলাকার অনেক পরিবারের সন্তান নিজ এলাকার কাছাকাছি শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে এবং শিক্ষার পরিধিও ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। নিউইয়র্কে বসবাস করলেও নিজের গ্রামের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। প্রবাসে দীর্ঘদিন ট্যাক্সিক্যাব চালিয়ে উপার্জন করলেও সেই অর্থের একটি বড় অংশ তিনি জন্মভূমির শিক্ষা ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। 

নিজের জন্য গাড়ি-বাড়ি, বিলাসী জীবন কিংবা ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ানোর পরিবর্তে শিক্ষাকে তিনি মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, একটি সমাজের টেকসই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো সুশিক্ষা। শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে একজন মানুষের জীবন যেমন পরিবর্তন করা সম্ভব, তেমনি একটি পরিবার, একটি সমাজ এমনকি একটি দেশও বদলে দেওয়া সম্ভব। 

স্থানীয় মানুষের কাছে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর পরিচয় তাই শুধু একজন প্রবাসী কিংবা সমাজসেবক হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখার কারণে অনেকেই তাঁকে ‘শিক্ষার আলোর ফেরিওয়ালা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি একটি বড় সামাজিক পরিসর তৈরি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে গড়ে উঠছে নতুন প্রজন্ম, যাদের অনেকেই ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। 

একজন প্রবাসী বাংলাদেশি নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে জন্মভূমির শিক্ষা ও জনকল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে যে ভূমিকা রেখে চলেছেন, তা নিঃসন্দেহে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। তবে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা নিশ্চিত করাও ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তার ধারাবাহিক মানোন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনাই পারে সেই উদ্যোগকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কার্যকর রাখতে। 

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার ধান্যদৌল গ্রামের এই প্রবাসী সন্তান তাঁর জীবনের অর্জনকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগিয়ে যে পথ দেখিয়েছেন, সেটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে সম্পৃক্ত হওয়ার একটি উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা গ্রহণ করে আগামী দিনের শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে—এটাই তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। 

আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই প্রবাসের কঠোর পরিশ্রম, ব্যক্তিগত ত্যাগ ও অর্জিত সম্পদকে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত করেছেন মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী।

লেখক: মোঃ শাহজাহান বাশার-সাংবাদিক, দৈনিক জনতার মতামত ও দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন/যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ অনলাইন গণমাধ্যম সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ৩/৫ (১ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


ট্যাক্সির স্টিয়ারিং থেকে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন মোশাররফ হোসেন

প্রকাশের তারিখ : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ণ

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ত সড়কে ট্যাক্সির স্টিয়ারিং হাতে জীবনের তিন দশকেরও বেশি সময় পার করেছেন তিনি। প্রতিদিনের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, প্রবাসজীবনের নানা প্রতিকূলতা এবং পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্ট—কোনোটিই তাঁকে নিজের শেকড় ও জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। বরং প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ তিনি ব্যয় করেছেন জন্মভূমির মানুষের শিক্ষা ও কল্যাণে। 

নিজের জন্য বিলাসী জীবন কিংবা বিপুল সম্পদ গড়ার পরিবর্তে একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি শিক্ষাকেন্দ্রিক সামাজিক উদ্যোগ। তিনি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ তাঁর শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি দেশ-বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। 

প্রবাসজীবনে কঠোর পরিশ্রম করে অর্জিত অর্থ নিজ এলাকার শিক্ষা ও জনকল্যাণে ব্যয় করার তাঁর উদ্যোগ অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল নিজ এলাকার অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় নিউইয়র্ক সিটিতে ট্যাক্সিক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। 

প্রবাসে নাগরিকত্ব ও বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে থাকার মানসিক কষ্টও তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু জন্মভূমির মানুষের ভবিষ্যৎ এবং এলাকার সন্তানদের সুন্দর জীবন গড়ার প্রত্যয় তাঁকে তাঁর লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হতে দেয়নি। মূলত বাবা-মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এবং নিজ এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয় থেকেই তাঁর সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সূচনা। 

১৯৯৭ সালে ধান্যদৌল গ্রামে ‘আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী হাই স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়। একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর উদ্যোগ ও অর্থায়নে গড়ে ওঠে আরও একাধিক শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, মরিয়ম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ্ব আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী হাইস্কুল কাম কারিগরি কলেজ, মুম-রোহান চাইল্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল এবং ধান্যদৌল আশেদা-জোবেদা খান চৌধুরী ফোরকানিয়া মাদ্রাসা। মানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী ফাউন্ডেশনও। 

শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। ধান্যদৌল ও আশপাশের এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে একটি মেডিকেল ক্লিনিক/হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দুটি আধুনিক লাইব্রেরি। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। 

দরিদ্র, অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়াকে তাঁর শিক্ষা উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ফলে এলাকার অনেক পরিবারের সন্তান নিজ এলাকার কাছাকাছি শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে এবং শিক্ষার পরিধিও ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। নিউইয়র্কে বসবাস করলেও নিজের গ্রামের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। প্রবাসে দীর্ঘদিন ট্যাক্সিক্যাব চালিয়ে উপার্জন করলেও সেই অর্থের একটি বড় অংশ তিনি জন্মভূমির শিক্ষা ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। 

নিজের জন্য গাড়ি-বাড়ি, বিলাসী জীবন কিংবা ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ানোর পরিবর্তে শিক্ষাকে তিনি মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, একটি সমাজের টেকসই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো সুশিক্ষা। শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে একজন মানুষের জীবন যেমন পরিবর্তন করা সম্ভব, তেমনি একটি পরিবার, একটি সমাজ এমনকি একটি দেশও বদলে দেওয়া সম্ভব। 

স্থানীয় মানুষের কাছে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর পরিচয় তাই শুধু একজন প্রবাসী কিংবা সমাজসেবক হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখার কারণে অনেকেই তাঁকে ‘শিক্ষার আলোর ফেরিওয়ালা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি একটি বড় সামাজিক পরিসর তৈরি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে গড়ে উঠছে নতুন প্রজন্ম, যাদের অনেকেই ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। 

একজন প্রবাসী বাংলাদেশি নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে জন্মভূমির শিক্ষা ও জনকল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে যে ভূমিকা রেখে চলেছেন, তা নিঃসন্দেহে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। তবে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা নিশ্চিত করাও ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তার ধারাবাহিক মানোন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনাই পারে সেই উদ্যোগকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কার্যকর রাখতে। 

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার ধান্যদৌল গ্রামের এই প্রবাসী সন্তান তাঁর জীবনের অর্জনকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগিয়ে যে পথ দেখিয়েছেন, সেটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে সম্পৃক্ত হওয়ার একটি উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা গ্রহণ করে আগামী দিনের শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে—এটাই তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। 

আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই প্রবাসের কঠোর পরিশ্রম, ব্যক্তিগত ত্যাগ ও অর্জিত সম্পদকে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত করেছেন মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী।

লেখক: মোঃ শাহজাহান বাশার-সাংবাদিক, দৈনিক জনতার মতামত ও দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন/যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ অনলাইন গণমাধ্যম সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত
চেয়ারম্যান- মো: এনায়েত হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর- মো: মনিরুজ্জামান
প্রধান সম্পাদক:
নির্বাহী সম্পাদক-
বার্তা সম্পাদক-

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ট্যাক্সির স্টিয়ারিং থেকে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন মোশাররফ হোসেন
0:00 / 0:00
1x