মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড় চিনিকল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মানব কল্যাণ যুব সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে এসব দৃশ্য মঞ্চস্থ করা হয়।
অভিনয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সামাজিক বাস্তবতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তরুণ অভিনয়শিল্পীরা। কখনো মাদকাসক্ত তরুণের চরিত্রে, কখনো ইভটিজিংয়ের শিকার কিশোরীর ভূমিকায়, আবার কখনো বাল্যবিবাহের শিকার এক শিক্ষার্থীর চরিত্রে তাঁদের উপস্থাপনা উপস্থিত দর্শকদের নজর কাড়ে।
আয়োজকদের মতে, শুধু সভা-সেমিনারে বক্তব্য দিয়ে সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মানুষের কাছে বার্তাটি সহজে পৌঁছে দিতে এবার অভিনয়কে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। বাস্তবধর্মী অভিনয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর ভয়াবহতা তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। অন্যদিকে মাদক একটি তরুণের জীবনকে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি একটি পরিবারকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ইভটিজিংও কিশোর-কিশোরীদের স্বাভাবিক জীবন ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণদের এমন উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। দর্শকদের অনেকেই বলেন, তরুণদের এমন সৃজনশীল উদ্যোগ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে মানুষকে উৎসাহিত করবে।
মানব কল্যাণ যুব সংগঠনের সভাপতি পারভেজ ইসলাম রাজ ও সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর রাহাত বলেন, সামাজিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকেও তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণে কর্মসূচির সঙ্গে বৃক্ষ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও যুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও মাদকের মতো সামাজিক সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণদের এমন সৃজনশীল উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এর আগে আয়োজন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মানব কল্যাণ যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিদর্শক এবং পঞ্চগড় চিনিকল উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলারা আলোর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিদর্শক নিশাদুর রহমান, সভাপতি পারভেজ ইসলাম রাজ ও সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর রাহাতসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পরে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। ফলে একই আয়োজন থেকে একদিকে যেমন বাল্যবিবাহ, মাদক ও ইভটিজিংবিরোধী সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও সামনে আসে।
জানা যায়, ২০২১ সাল থেকে মানব কল্যাণ যুব সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বাল্যবিবাহ ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি সভা, প্রচারাভিযান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে সংগঠনটি।
আয়োজকেরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে শুধু দর্শক হিসেবে নয়, সামাজিক পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতেই এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও অভিনয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রচারাভিযান ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, মাদক ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য ক্ষতিকর নানা সামাজিক প্রবণতার বিরুদ্ধে সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তাঁদের প্রত্যাশা, একটি অভিনয়ের বার্তা যদি একজন তরুণকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পারে কিংবা একটি পরিবারকে বাল্যবিবাহের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে, তাহলেই এমন আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য সফল হবে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ পূর্বাহ্ণ
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড় চিনিকল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মানব কল্যাণ যুব সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে এসব দৃশ্য মঞ্চস্থ করা হয়।
অভিনয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সামাজিক বাস্তবতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তরুণ অভিনয়শিল্পীরা। কখনো মাদকাসক্ত তরুণের চরিত্রে, কখনো ইভটিজিংয়ের শিকার কিশোরীর ভূমিকায়, আবার কখনো বাল্যবিবাহের শিকার এক শিক্ষার্থীর চরিত্রে তাঁদের উপস্থাপনা উপস্থিত দর্শকদের নজর কাড়ে।
আয়োজকদের মতে, শুধু সভা-সেমিনারে বক্তব্য দিয়ে সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মানুষের কাছে বার্তাটি সহজে পৌঁছে দিতে এবার অভিনয়কে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। বাস্তবধর্মী অভিনয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর ভয়াবহতা তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। অন্যদিকে মাদক একটি তরুণের জীবনকে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি একটি পরিবারকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ইভটিজিংও কিশোর-কিশোরীদের স্বাভাবিক জীবন ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণদের এমন উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। দর্শকদের অনেকেই বলেন, তরুণদের এমন সৃজনশীল উদ্যোগ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে মানুষকে উৎসাহিত করবে।
মানব কল্যাণ যুব সংগঠনের সভাপতি পারভেজ ইসলাম রাজ ও সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর রাহাত বলেন, সামাজিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকেও তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণে কর্মসূচির সঙ্গে বৃক্ষ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও যুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও মাদকের মতো সামাজিক সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণদের এমন সৃজনশীল উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এর আগে আয়োজন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মানব কল্যাণ যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিদর্শক এবং পঞ্চগড় চিনিকল উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলারা আলোর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিদর্শক নিশাদুর রহমান, সভাপতি পারভেজ ইসলাম রাজ ও সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর রাহাতসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পরে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। ফলে একই আয়োজন থেকে একদিকে যেমন বাল্যবিবাহ, মাদক ও ইভটিজিংবিরোধী সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও সামনে আসে।
জানা যায়, ২০২১ সাল থেকে মানব কল্যাণ যুব সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বাল্যবিবাহ ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি সভা, প্রচারাভিযান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে সংগঠনটি।
আয়োজকেরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে শুধু দর্শক হিসেবে নয়, সামাজিক পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতেই এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও অভিনয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রচারাভিযান ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, মাদক ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য ক্ষতিকর নানা সামাজিক প্রবণতার বিরুদ্ধে সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তাঁদের প্রত্যাশা, একটি অভিনয়ের বার্তা যদি একজন তরুণকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পারে কিংবা একটি পরিবারকে বাল্যবিবাহের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে, তাহলেই এমন আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য সফল হবে।
