রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

মোরেলগঞ্জের শিক্ষক মনিরুল ইসলামের বিদায়


এস এম সাইফুল ইসলাম কবির
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি , 0 ফলোয়ার
প্রকাশ : সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

মোরেলগঞ্জের শিক্ষক মনিরুল ইসলামের বিদায়

১৩ বার উপজেলা, ৫ বার জেলা, ২ বার বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ, জাতীয় পর্যায়েও দ্বিতীয়—অবসরজনিত বিদায়ে অশ্রুসিক্ত মোরেলগঞ্জের গুণী শিক্ষক মনিরুল ইসলাম। 


শিক্ষকতা শুধু একটি চাকরি নয়—একটি প্রজন্মকে আলোর পথ দেখানোর মহান দায়িত্ব। সেই দায়িত্বকে পেশাগত কর্তব্যের গণ্ডি পেরিয়ে জীবনের ব্রত হিসেবে ধারণ করে দীর্ঘদিন শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৩৪ নং কামলা জিলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম।

দীর্ঘ কর্মজীবনের সফল পথচলা শেষে অবসরজনিত বিদায় নিলেন এই গুণী শিক্ষক। তবে বিদায়ের মুহূর্তে যেন শেষ হয়নি তাঁর পথচলা; বরং সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর ভালোবাসা-শ্রদ্ধায় স্মরণীয় হয়ে উঠেছে তাঁর কর্মজীবনের দীর্ঘ অধ্যায়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তন কক্ষে আয়োজিত হয় প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলামের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা। অনুষ্ঠানে ছিল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, স্মৃতিচারণ ও আবেগের এক অনন্য আবহ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শেফাইনুর অরেফিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আসাদুজ্জামান।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খান হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শিক্ষক উম্মে কুলসুম, কে গড়ঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার মন্ডল, বর্শিবাওয়া কেজে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিনকে কচুবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুবিয়া খানম, পশ্চিম কচুবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সহকারী শিক্ষক হাসেম আলী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শেখ আলী আফসার, স্যামা প্রসাদ মন্ডল, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুর রহমান এবং সমকাল প্রতিনিধি ফজলুল হক খোকনসহ শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

স্বীকৃতিতে অনন্য এক শিক্ষক

মো. মনিরুল ইসলামের কর্মজীবন শুধু শিক্ষকতার বছর দিয়ে পরিমাপ করার মতো নয়। তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের সাফল্যের ঝুলিতে রয়েছে একের পর এক মর্যাদাপূর্ণ অর্জন।

তিনি উপজেলা পর্যায়ে ১৩ বার, জেলা পর্যায়ে ৫ বার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ২ বার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে ধারাবাহিকভাবে এতবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন তাঁর দক্ষতা, নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদানের উজ্জ্বল স্বাক্ষর বহন করে।

এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তাঁর কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি পৌঁছে গেছে জাতীয় পর্যায়েও। জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে মোরেলগঞ্জ তথা বাগেরহাটের শিক্ষা অঙ্গনের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন তিনি।

এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ গুণী প্রধান শিক্ষক ক্যাটাগরিতে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়েও অংশগ্রহণ করেন মো. মনিরুল ইসলাম।

তাঁর এই অর্জনগুলো শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এগুলো একটি বিদ্যালয়, একটি উপজেলা এবং একটি অঞ্চলের শিক্ষা অঙ্গনেরও গর্বের বিষয়।

শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন প্রিয় মানুষ

সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল একজন প্রধান শিক্ষক; আর শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন একজন অভিভাবকতুল্য শিক্ষক। পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও সুশিক্ষায় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনায় দক্ষতা, সহকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা তাঁকে অন্যদের কাছে আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছে।

তাঁর কর্মজীবনের সাফল্যের পেছনে ছিল নিয়মিত পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসা। এ কারণেই বছরের পর বছর তিনি পেয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি।

বিদায়ের আয়োজনে আবেগঘন পরিবেশ

বিদায় সংবর্ধনায় বক্তারা বলেন, একজন ভালো শিক্ষক অবসরে গেলেও তাঁর আদর্শ ও শিক্ষা কখনো অবসরে যায় না। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে একদিন তাঁর অর্জনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

বক্তারা আরও বলেন, মো. মনিরুল ইসলাম তাঁর কর্মজীবনে যে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা শুধু বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষক নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে অনুষ্ঠানে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্মৃতিচারণে উঠে আসে তাঁর কর্মজীবনের নানা সাফল্য, সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিকতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ।

চাকরির অবসান, দায়িত্বের নয়

অবসর মানেই থেমে যাওয়া নয়—বরং জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ। মো. মনিরুল ইসলামের ক্ষেত্রেও তাই। সরকারি চাকরির নিয়মিত দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেও শিক্ষার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা, অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং মানুষের ভালোবাসা তাঁকে সবসময়ই ঘিরে থাকবে।

একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁর দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো কোনো সনদ বা পুরস্কার নয়; বরং তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থীর সফলতা এবং তাঁদের হৃদয়ে শিক্ষক হিসেবে বেঁচে থাকা।

মোরেলগঞ্জের প্রত্যন্ত জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে, একের পর এক শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি অর্জন করে এবং জাতীয় পর্যায়েও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে অবসরে গেলেন মো. মনিরুল ইসলাম। তাঁর বিদায় তাই কেবল একটি চাকরির সমাপ্তি নয়—এটি মোরেলগঞ্জের শিক্ষা অঙ্গনের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি।

তাঁর কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত সবাই অবসর-পরবর্তী জীবনে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

গুণী এই শিক্ষকের কর্মজীবনের অর্জন নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য হয়ে থাকুক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত—এটাই প্রত্যাশা মোরেলগঞ্জবাসীর।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


মোরেলগঞ্জের শিক্ষক মনিরুল ইসলামের বিদায়

প্রকাশের তারিখ : সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ণ

featured Image

১৩ বার উপজেলা, ৫ বার জেলা, ২ বার বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ, জাতীয় পর্যায়েও দ্বিতীয়—অবসরজনিত বিদায়ে অশ্রুসিক্ত মোরেলগঞ্জের গুণী শিক্ষক মনিরুল ইসলাম। 


শিক্ষকতা শুধু একটি চাকরি নয়—একটি প্রজন্মকে আলোর পথ দেখানোর মহান দায়িত্ব। সেই দায়িত্বকে পেশাগত কর্তব্যের গণ্ডি পেরিয়ে জীবনের ব্রত হিসেবে ধারণ করে দীর্ঘদিন শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৩৪ নং কামলা জিলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম।

দীর্ঘ কর্মজীবনের সফল পথচলা শেষে অবসরজনিত বিদায় নিলেন এই গুণী শিক্ষক। তবে বিদায়ের মুহূর্তে যেন শেষ হয়নি তাঁর পথচলা; বরং সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর ভালোবাসা-শ্রদ্ধায় স্মরণীয় হয়ে উঠেছে তাঁর কর্মজীবনের দীর্ঘ অধ্যায়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তন কক্ষে আয়োজিত হয় প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলামের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা। অনুষ্ঠানে ছিল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, স্মৃতিচারণ ও আবেগের এক অনন্য আবহ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শেফাইনুর অরেফিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আসাদুজ্জামান।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খান হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শিক্ষক উম্মে কুলসুম, কে গড়ঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার মন্ডল, বর্শিবাওয়া কেজে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিনকে কচুবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুবিয়া খানম, পশ্চিম কচুবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সহকারী শিক্ষক হাসেম আলী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শেখ আলী আফসার, স্যামা প্রসাদ মন্ডল, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুর রহমান এবং সমকাল প্রতিনিধি ফজলুল হক খোকনসহ শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

স্বীকৃতিতে অনন্য এক শিক্ষক

মো. মনিরুল ইসলামের কর্মজীবন শুধু শিক্ষকতার বছর দিয়ে পরিমাপ করার মতো নয়। তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের সাফল্যের ঝুলিতে রয়েছে একের পর এক মর্যাদাপূর্ণ অর্জন।

তিনি উপজেলা পর্যায়ে ১৩ বার, জেলা পর্যায়ে ৫ বার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ২ বার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে ধারাবাহিকভাবে এতবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন তাঁর দক্ষতা, নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদানের উজ্জ্বল স্বাক্ষর বহন করে।

এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তাঁর কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি পৌঁছে গেছে জাতীয় পর্যায়েও। জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে মোরেলগঞ্জ তথা বাগেরহাটের শিক্ষা অঙ্গনের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন তিনি।

এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ গুণী প্রধান শিক্ষক ক্যাটাগরিতে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়েও অংশগ্রহণ করেন মো. মনিরুল ইসলাম।

তাঁর এই অর্জনগুলো শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এগুলো একটি বিদ্যালয়, একটি উপজেলা এবং একটি অঞ্চলের শিক্ষা অঙ্গনেরও গর্বের বিষয়।

শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন প্রিয় মানুষ

সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল একজন প্রধান শিক্ষক; আর শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন একজন অভিভাবকতুল্য শিক্ষক। পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও সুশিক্ষায় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনায় দক্ষতা, সহকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা তাঁকে অন্যদের কাছে আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছে।

তাঁর কর্মজীবনের সাফল্যের পেছনে ছিল নিয়মিত পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসা। এ কারণেই বছরের পর বছর তিনি পেয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি।

বিদায়ের আয়োজনে আবেগঘন পরিবেশ

বিদায় সংবর্ধনায় বক্তারা বলেন, একজন ভালো শিক্ষক অবসরে গেলেও তাঁর আদর্শ ও শিক্ষা কখনো অবসরে যায় না। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে একদিন তাঁর অর্জনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

বক্তারা আরও বলেন, মো. মনিরুল ইসলাম তাঁর কর্মজীবনে যে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা শুধু বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষক নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে অনুষ্ঠানে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্মৃতিচারণে উঠে আসে তাঁর কর্মজীবনের নানা সাফল্য, সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিকতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ।

চাকরির অবসান, দায়িত্বের নয়

অবসর মানেই থেমে যাওয়া নয়—বরং জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ। মো. মনিরুল ইসলামের ক্ষেত্রেও তাই। সরকারি চাকরির নিয়মিত দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেও শিক্ষার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা, অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং মানুষের ভালোবাসা তাঁকে সবসময়ই ঘিরে থাকবে।

একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁর দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো কোনো সনদ বা পুরস্কার নয়; বরং তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থীর সফলতা এবং তাঁদের হৃদয়ে শিক্ষক হিসেবে বেঁচে থাকা।

মোরেলগঞ্জের প্রত্যন্ত জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে, একের পর এক শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি অর্জন করে এবং জাতীয় পর্যায়েও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে অবসরে গেলেন মো. মনিরুল ইসলাম। তাঁর বিদায় তাই কেবল একটি চাকরির সমাপ্তি নয়—এটি মোরেলগঞ্জের শিক্ষা অঙ্গনের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি।

তাঁর কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত সবাই অবসর-পরবর্তী জীবনে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

গুণী এই শিক্ষকের কর্মজীবনের অর্জন নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য হয়ে থাকুক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত—এটাই প্রত্যাশা মোরেলগঞ্জবাসীর।


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত
চেয়ারম্যান- মো: এনায়েত হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর- মো: মনিরুজ্জামান
প্রধান সম্পাদক:
নির্বাহী সম্পাদক-
বার্তা সম্পাদক-

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
মোরেলগঞ্জের শিক্ষক মনিরুল ইসলামের বিদায়
0:00 / 0:00
1x