রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

পদ ও বিভাগ পাল্টে নিয়োগ

বিপাকে নোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষক


মোঃ মাজাহারুল ইসলাম সিপন
নিজস্ব প্রতিনিধি , 11 ফলোয়ার
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

বিপাকে নোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষক
ছবি: সংগৃহীত

অনুমোদিত পদ ও বিভাগ পরিবর্তন করে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১৭ শিক্ষকের বেতন-ভাতা বরাদ্দ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। কমিশনের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এসব শিক্ষকের সংশ্লিষ্ট পদে বেতন-ভাতা বরাদ্দ না রাখার সুপারিশ করেছে ইউজিসি।

ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট-সংক্রান্ত নথি থেকে জানা যায়, কমিশনের অনুমোদিত পদ পরিবর্তন করে অন্য বিভাগে এবং উচ্চতর পদের বিপরীতে নিম্নতর পদে এসব শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের অনুমোদন ছাড়া এভাবে পদ পরিবর্তন করে নিয়োগ দেওয়াকে অনুমোদনের শর্তের ব্যত্যয় এবং আর্থিক ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইলের সময়ে এসব নিয়োগ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ইউজিসির পর্যবেক্ষণে রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপকের পদ পরিবর্তন করে ইইই বিভাগে, সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষকের পদ পরিবর্তন করে আইন বিভাগে, আইসিই বিভাগের প্রভাষকের পদ পরিবর্তন করে রসায়ন বিভাগে এবং ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষকের পদ পরিবর্তন করে বিএমবি বিভাগে নিয়োগসহ মোট ১৭টি পদ পরিবর্তনের বিষয় উঠে এসেছে।

ইউজিসির নথিতে আরও বলা হয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অনিয়মিতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত পদগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ স্থগিত রাখা এবং এ ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের কারণে উচ্চতর পদের বিপরীতে বেতন-ভাতা বাবদ কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।

নতুন পাওয়া ইউজিসির ‘সংলগ্নী-০৩’ নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দল নোবিপ্রবির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় মোট ২৫টি পর্যবেক্ষণ উঠে আসে। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অনুরোধ ও স্মরণ করানো হলেও আশানুরূপ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ইউজিসির পক্ষ থেকে বেতন-ভাতা বরাদ্দ স্থগিত রাখার সুপারিশ থাকলেও মানবিক দিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব শিক্ষকের বেতন-ভাতা চালু রেখেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে ইউজিসি একটি কমিটি গঠন করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বিগত সময়ে যেসব নিয়োগ হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ডে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। বিগত সময়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তদন্ত কমিটি তা উদঘাটন করবে। বিভাগ পরিবর্তন করে শিক্ষক নিয়োগ শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সময়েই হয়নি; এর আগেও এ ধরনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিগত সময়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই এসব নিয়োগ দিয়েছেন। এটি প্রশাসনে থাকা সংশ্লিষ্টদের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

১৭ শিক্ষকের বেতন বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, ইউজিসি এসব শিক্ষকের বেতন ছাড় না করলেও মানবিক দিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বেতন চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইউজিসিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। কমিটি যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


বিপাকে নোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ণ

featured Image

অনুমোদিত পদ ও বিভাগ পরিবর্তন করে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১৭ শিক্ষকের বেতন-ভাতা বরাদ্দ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। কমিশনের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এসব শিক্ষকের সংশ্লিষ্ট পদে বেতন-ভাতা বরাদ্দ না রাখার সুপারিশ করেছে ইউজিসি।

ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট-সংক্রান্ত নথি থেকে জানা যায়, কমিশনের অনুমোদিত পদ পরিবর্তন করে অন্য বিভাগে এবং উচ্চতর পদের বিপরীতে নিম্নতর পদে এসব শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের অনুমোদন ছাড়া এভাবে পদ পরিবর্তন করে নিয়োগ দেওয়াকে অনুমোদনের শর্তের ব্যত্যয় এবং আর্থিক ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইলের সময়ে এসব নিয়োগ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ইউজিসির পর্যবেক্ষণে রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপকের পদ পরিবর্তন করে ইইই বিভাগে, সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষকের পদ পরিবর্তন করে আইন বিভাগে, আইসিই বিভাগের প্রভাষকের পদ পরিবর্তন করে রসায়ন বিভাগে এবং ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষকের পদ পরিবর্তন করে বিএমবি বিভাগে নিয়োগসহ মোট ১৭টি পদ পরিবর্তনের বিষয় উঠে এসেছে।

ইউজিসির নথিতে আরও বলা হয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অনিয়মিতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত পদগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ স্থগিত রাখা এবং এ ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের কারণে উচ্চতর পদের বিপরীতে বেতন-ভাতা বাবদ কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।

নতুন পাওয়া ইউজিসির ‘সংলগ্নী-০৩’ নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দল নোবিপ্রবির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় মোট ২৫টি পর্যবেক্ষণ উঠে আসে। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অনুরোধ ও স্মরণ করানো হলেও আশানুরূপ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ইউজিসির পক্ষ থেকে বেতন-ভাতা বরাদ্দ স্থগিত রাখার সুপারিশ থাকলেও মানবিক দিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব শিক্ষকের বেতন-ভাতা চালু রেখেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে ইউজিসি একটি কমিটি গঠন করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বিগত সময়ে যেসব নিয়োগ হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ডে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। বিগত সময়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তদন্ত কমিটি তা উদঘাটন করবে। বিভাগ পরিবর্তন করে শিক্ষক নিয়োগ শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সময়েই হয়নি; এর আগেও এ ধরনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিগত সময়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই এসব নিয়োগ দিয়েছেন। এটি প্রশাসনে থাকা সংশ্লিষ্টদের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

১৭ শিক্ষকের বেতন বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, ইউজিসি এসব শিক্ষকের বেতন ছাড় না করলেও মানবিক দিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বেতন চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইউজিসিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। কমিটি যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত
চেয়ারম্যান- মো: এনায়েত হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর- মো: মনিরুজ্জামান
প্রধান সম্পাদক:
নির্বাহী সম্পাদক-
বার্তা সম্পাদক-

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বিপাকে নোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষক
0:00 / 0:00
1x