খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি কোনো বিভেদ চায় না। আমরা কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় হিসেবে মানুষকে আলাদা করে দেখতে চাই না। বিএনপি সরকার সবাইকে সমান অধিকার ও সমমর্যাদা দিয়ে মানবজাতির অংশ হিসেবে দেখতে চায়।
তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ কিংবা সম্প্রদায়ভেদে মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হোক, তা আমরা চাই না। এ দেশের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে, প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে এবং সবাই মিলেমিশে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলা বিএনপি আয়োজিত উপজেলার ৭৬টি পূজা মন্দিরের কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও শারদীয় শুভেচ্ছা প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আজিজুল বারী হেলাল বলেন, একটি নির্দিষ্ট দল দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য পাঁয়তারা করছে। দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা বিএনপি সরকার কখনোই মেনে নেবে না। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। এই সম্প্রীতি ও ঐক্য অটুট রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, দেবী দুর্গা যেমন অশুভ শক্তির দমনে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং অশুভ শক্তিকে দমন করে ফিরে গিয়েছিলেন, তেমনি আমাদেরও সব ধরনের অনাচার ও অন্যায় থেকে দূরে থাকতে হবে। শুধু ব্যক্তিজীবন নয়, সমাজ থেকেও অন্যায়, অবিচার ও অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে হবে। সত্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
এ সময় তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট নিয়েছে, কিন্তু তাদের কল্যাণে কার্যকরভাবে কিছুই করেনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অথচ এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।
বর্তমান সরকার এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের কথা চিন্তা করে তাদের ধর্মীয় উৎসব ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রত্যেকটি মন্দিরে পূর্বের তুলনায় অধিক পরিমাণে সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগে এক দিনের সরকারি ছুটি থাকলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে তিন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক ও জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী দল রূপসা উপজেলা শাখার পূজা উদযাপন পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রূপসা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল সেন।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ণ
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি কোনো বিভেদ চায় না। আমরা কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় হিসেবে মানুষকে আলাদা করে দেখতে চাই না। বিএনপি সরকার সবাইকে সমান অধিকার ও সমমর্যাদা দিয়ে মানবজাতির অংশ হিসেবে দেখতে চায়।
তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ কিংবা সম্প্রদায়ভেদে মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হোক, তা আমরা চাই না। এ দেশের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে, প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে এবং সবাই মিলেমিশে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলা বিএনপি আয়োজিত উপজেলার ৭৬টি পূজা মন্দিরের কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও শারদীয় শুভেচ্ছা প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আজিজুল বারী হেলাল বলেন, একটি নির্দিষ্ট দল দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য পাঁয়তারা করছে। দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা বিএনপি সরকার কখনোই মেনে নেবে না। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। এই সম্প্রীতি ও ঐক্য অটুট রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, দেবী দুর্গা যেমন অশুভ শক্তির দমনে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং অশুভ শক্তিকে দমন করে ফিরে গিয়েছিলেন, তেমনি আমাদেরও সব ধরনের অনাচার ও অন্যায় থেকে দূরে থাকতে হবে। শুধু ব্যক্তিজীবন নয়, সমাজ থেকেও অন্যায়, অবিচার ও অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে হবে। সত্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
এ সময় তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট নিয়েছে, কিন্তু তাদের কল্যাণে কার্যকরভাবে কিছুই করেনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অথচ এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।
বর্তমান সরকার এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের কথা চিন্তা করে তাদের ধর্মীয় উৎসব ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রত্যেকটি মন্দিরে পূর্বের তুলনায় অধিক পরিমাণে সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগে এক দিনের সরকারি ছুটি থাকলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে তিন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক ও জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী দল রূপসা উপজেলা শাখার পূজা উদযাপন পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রূপসা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল সেন।
