রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ড

প্রশ্নবিদ্ধ অভিভাবকত্ব ও আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা


আবদুর রহমান মোল্লা
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার , 4 ফলোয়ার
প্রকাশ : শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

প্রশ্নবিদ্ধ অভিভাবকত্ব ও আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা

গত দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইউটিউব—যেখানেই চোখ রাখা হচ্ছে, সেখানেই যেন এক বুকফাটা আর্তনাদ আর মর্মান্তিক ঘটনার চিত্র ভেসে আসছে। ভিকটিম একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ফুলঝুরি মেয়ে, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫)। তার এই নৃশংস ও পৈশাচিক পরিণতি পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছে, প্রশ্ন তুলেছে আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসনের ওপর।  

​খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাত্র ১৫ বছর বয়সী একটি মেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে পরিবারের চোখের আড়ালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজার পর্যন্ত ঘুরে বেলাল, অথচ তার পরিবার জানতেই পারল না তাদের সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে বা কার আশ্রয়ে রয়েছে! অতীতে যে বয়সে পরিবারের কাউকে ছাড়া ঘরের বাইরে পা বাড়াতেও সংকোচ বোধ হতো, সেই বয়সে ক্লাস সেভেনের একটি মেয়ে একা একা বা বান্ধবীর সঙ্গে এত দূরে চলে যাওয়ার পরও অভিভাবকদের এমন উদাসীনতা সত্যি আমাদের অবাক করে। সন্তানের প্রতি এই আচ্ছন্ন বা বেখেয়ালি মনোভাব কোন ধরণের পরিবার গঠন করে?

​ঘটনার পর যখন সংবাদকর্মীরা ভিকটিমের মায়ের সঙ্গে কথা বলতে যান, তখন তার উল্টো প্রতিক্রিয়া আরও বেশি রহস্যজনক ও বেদনাদায়ক ঠেকেছে। শোকে কাতর মা সাংবাদিকদের দেখে চড়াও হয়ে বলেন, “আমার মেয়ে মারা গেছে, এই দেশে বিচার নাই, আপনাদের বিচার করা লাগবে না, আল্লাহ বিচার করবে।” সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন, “কোনো অভিভাবক যেন মেয়ে সন্তান না পায়!”

​প্রশ্ন জাগে, একটি সন্তানের সবচেয়ে বড় পাঠশালা ও প্রথম শিক্ষক তো তার পরিবার, তার মা-বাবা। বাবা-মা যদি সন্তানকে সঠিক সুশিক্ষা ও অনুশাসনে বড় করেন, তবে একটি সন্তান সহজে বিপথগামী হতে পারে না। মা-বাবা কিংবা পরিবারের যদি ন্যূনতম তদারকি থাকত, তবে এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়তো এড়ানো যেত। অনেকে মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিবারেরও কোথাও না কোথাও দায় বা غفلت (বেখেয়ালিপনা) লুকিয়ে রয়েছে। তা না হলে ঘটনার পর সঠিক তদন্তের দাবি বা সুষ্ঠু বিচারের আকুতি থাকার কথা, কিন্তু একশ্রেণির অনীহা যেন অন্য কোনো রহস্যের দিকে ইঙ্গিত করে।

​সন্তানকে জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি তাকে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বও অভিভাবকদের। যে অভিভাবক সন্তানকে সঠিক পথে রাখতে ব্যর্থ হন, তাদের অভিভাবকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। আল্লাহ যেন এমন উদাসীন ও বেখেয়ালি অভিভাবক কাউকে না দেন।

জান্নাতুল তাজমিনের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর নেপথ্যে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আমাদের জোর দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে এর আসল রহস্য উন্মোচন করা হোক। 

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


প্রশ্নবিদ্ধ অভিভাবকত্ব ও আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা

প্রকাশের তারিখ : শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ণ

featured Image

গত দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইউটিউব—যেখানেই চোখ রাখা হচ্ছে, সেখানেই যেন এক বুকফাটা আর্তনাদ আর মর্মান্তিক ঘটনার চিত্র ভেসে আসছে। ভিকটিম একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ফুলঝুরি মেয়ে, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫)। তার এই নৃশংস ও পৈশাচিক পরিণতি পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছে, প্রশ্ন তুলেছে আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসনের ওপর।  

​খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাত্র ১৫ বছর বয়সী একটি মেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে পরিবারের চোখের আড়ালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজার পর্যন্ত ঘুরে বেলাল, অথচ তার পরিবার জানতেই পারল না তাদের সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে বা কার আশ্রয়ে রয়েছে! অতীতে যে বয়সে পরিবারের কাউকে ছাড়া ঘরের বাইরে পা বাড়াতেও সংকোচ বোধ হতো, সেই বয়সে ক্লাস সেভেনের একটি মেয়ে একা একা বা বান্ধবীর সঙ্গে এত দূরে চলে যাওয়ার পরও অভিভাবকদের এমন উদাসীনতা সত্যি আমাদের অবাক করে। সন্তানের প্রতি এই আচ্ছন্ন বা বেখেয়ালি মনোভাব কোন ধরণের পরিবার গঠন করে?

​ঘটনার পর যখন সংবাদকর্মীরা ভিকটিমের মায়ের সঙ্গে কথা বলতে যান, তখন তার উল্টো প্রতিক্রিয়া আরও বেশি রহস্যজনক ও বেদনাদায়ক ঠেকেছে। শোকে কাতর মা সাংবাদিকদের দেখে চড়াও হয়ে বলেন, “আমার মেয়ে মারা গেছে, এই দেশে বিচার নাই, আপনাদের বিচার করা লাগবে না, আল্লাহ বিচার করবে।” সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন, “কোনো অভিভাবক যেন মেয়ে সন্তান না পায়!”

​প্রশ্ন জাগে, একটি সন্তানের সবচেয়ে বড় পাঠশালা ও প্রথম শিক্ষক তো তার পরিবার, তার মা-বাবা। বাবা-মা যদি সন্তানকে সঠিক সুশিক্ষা ও অনুশাসনে বড় করেন, তবে একটি সন্তান সহজে বিপথগামী হতে পারে না। মা-বাবা কিংবা পরিবারের যদি ন্যূনতম তদারকি থাকত, তবে এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়তো এড়ানো যেত। অনেকে মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিবারেরও কোথাও না কোথাও দায় বা غفلت (বেখেয়ালিপনা) লুকিয়ে রয়েছে। তা না হলে ঘটনার পর সঠিক তদন্তের দাবি বা সুষ্ঠু বিচারের আকুতি থাকার কথা, কিন্তু একশ্রেণির অনীহা যেন অন্য কোনো রহস্যের দিকে ইঙ্গিত করে।

​সন্তানকে জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি তাকে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বও অভিভাবকদের। যে অভিভাবক সন্তানকে সঠিক পথে রাখতে ব্যর্থ হন, তাদের অভিভাবকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। আল্লাহ যেন এমন উদাসীন ও বেখেয়ালি অভিভাবক কাউকে না দেন।

জান্নাতুল তাজমিনের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর নেপথ্যে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আমাদের জোর দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে এর আসল রহস্য উন্মোচন করা হোক। 


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত
চেয়ারম্যান- মো: এনায়েত হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর- মো: মনিরুজ্জামান
প্রধান সম্পাদক:
নির্বাহী সম্পাদক-
বার্তা সম্পাদক-

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
প্রশ্নবিদ্ধ অভিভাবকত্ব ও আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা
0:00 / 0:00
1x