বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দাপট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কিছু কিশোর গ্যাং সদস্য তাদের আশ্রয় ও পরিচয় বদলে আবারও অপরাধে সক্রিয় হচ্ছে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, মারামারি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের মতো অভিযোগ রয়েছে এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে। আজ (মঙ্গলবার )৬ /১০ / ২০২৬ ইংরেজি
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বগুড়া জেলায় কিশোর গ্যাং-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রায় ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলায় সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা প্রায় ৮৫টি। এর মধ্যে শিবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাতেও কিশোরদের দলবদ্ধ চলাফেরা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বয়সে ছোট হলেও দলবদ্ধ অবস্থায় এসব কিশোর অনেক সময় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগও ওঠে। ফলে এক পক্ষের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে পরিচয় বা পক্ষ বদলে নতুন আশ্রয়ে ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে শুধু রাজনৈতিক প্রভাব নয়, পারিবারিক পরিবেশ, বন্ধুমহলের প্রভাব, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারির ঘাটতি এবং মাদকের বিস্তারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক ভূমিকা জরুরি। অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী লক্ষ্য নির্ধারণে উৎসাহ দেওয়া, নৈতিক শিক্ষা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রথমে তাদের ডেকে বুঝিয়ে মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে। এরপরও অপরাধে জড়ালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক সেমিনার এবং কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন, কিশোরদের প্রথমে বুঝিয়ে মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে। এরপরও কেউ অপরাধে জড়ালে তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নিয়মিত অভিযান চলছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, শুধু কিশোর সদস্যদের গ্রেপ্তার করে কি এ সমস্যা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? তাদের দাবি, কিশোরদের পাশাপাশি এসব গ্রুপের পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তি, মদদদাতা ও অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্তদেরও শনাক্ত করতে হবে।
বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে একই ব্যক্তিদের বারবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ সত্য হলে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় একজন কিশোরকে আইনের আওতায় আনার পর তার জায়গায় নতুন সদস্য যুক্ত হয়ে সমস্যাটি আরও জটিল হতে পারে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ণ
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দাপট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কিছু কিশোর গ্যাং সদস্য তাদের আশ্রয় ও পরিচয় বদলে আবারও অপরাধে সক্রিয় হচ্ছে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, মারামারি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের মতো অভিযোগ রয়েছে এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে। আজ (মঙ্গলবার )৬ /১০ / ২০২৬ ইংরেজি
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বগুড়া জেলায় কিশোর গ্যাং-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রায় ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলায় সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা প্রায় ৮৫টি। এর মধ্যে শিবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাতেও কিশোরদের দলবদ্ধ চলাফেরা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বয়সে ছোট হলেও দলবদ্ধ অবস্থায় এসব কিশোর অনেক সময় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগও ওঠে। ফলে এক পক্ষের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে পরিচয় বা পক্ষ বদলে নতুন আশ্রয়ে ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে শুধু রাজনৈতিক প্রভাব নয়, পারিবারিক পরিবেশ, বন্ধুমহলের প্রভাব, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারির ঘাটতি এবং মাদকের বিস্তারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক ভূমিকা জরুরি। অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী লক্ষ্য নির্ধারণে উৎসাহ দেওয়া, নৈতিক শিক্ষা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রথমে তাদের ডেকে বুঝিয়ে মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে। এরপরও অপরাধে জড়ালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক সেমিনার এবং কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন, কিশোরদের প্রথমে বুঝিয়ে মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে। এরপরও কেউ অপরাধে জড়ালে তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নিয়মিত অভিযান চলছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, শুধু কিশোর সদস্যদের গ্রেপ্তার করে কি এ সমস্যা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? তাদের দাবি, কিশোরদের পাশাপাশি এসব গ্রুপের পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তি, মদদদাতা ও অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্তদেরও শনাক্ত করতে হবে।
বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে একই ব্যক্তিদের বারবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ সত্য হলে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় একজন কিশোরকে আইনের আওতায় আনার পর তার জায়গায় নতুন সদস্য যুক্ত হয়ে সমস্যাটি আরও জটিল হতে পারে।
