রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

বিশ্ব সেরিবাল পালসি দিবসে তানজিম আহমেদ তারেক এর কলাম


মোঃ এমরুল ইসলাম
মনোহরদী, নরসিংদী প্রতিনিধি , 0 ফলোয়ার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

বিশ্ব সেরিবাল পালসি দিবসে তানজিম আহমেদ তারেক এর কলাম

প্রতিবছর ৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস (World Cerebral Palsy Day)। দিনটি শুধু একটি রোগ সম্পর্কে মানুষকে জানানোর দিন নয়; বরং সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশু ও ব্যক্তিদের অধিকার, সক্ষমতা, মর্যাদা এবং সমাজে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

সেরিব্রাল পালসি বা CP হলো এমন একটি স্নায়বিক অবস্থা, যা সাধারণত শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশকালীন ক্ষতির কারণে দেখা দেয় এবং ব্যক্তির নড়াচড়া, পেশির নিয়ন্ত্রণ, ভারসাম্য ও অঙ্গভঙ্গিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। কারও ক্ষেত্রে হাঁটাচলায় সমস্যা হতে পারে, আবার কারও কথা বলা, হাতের সূক্ষ্ম কাজ, খাবার গ্রহণ বা দৈনন্দিন কার্যক্রমেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি—সেরিব্রাল পালসি একজন মানুষের সম্পূর্ণ পরিচয় নয়।

আমাদের সমাজে এখনো অনেক পরিবার সেরিব্রাল পালসি নিয়ে নানা ভুল ধারণা, ভয় ও সামাজিক চাপের মুখোমুখি হয়। অনেক সময় শিশুর বিকাশে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলেও পরিবার চিকিৎসা বা পুনর্বাসন গ্রহণে দেরি করে। অথচ শিশুর বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে সঠিক মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় intervention শুরু করা গেলে তার কার্যক্ষমতা ও স্বাধীনতা অনেকাংশে বাড়ানো সম্ভব।

এখানেই আসে পুনর্বাসন ও ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 সেরিব্রাল পালসিতে ফিজিওথেরাপির লক্ষ্য শুধু শিশুকে হাঁটানো নয়; বরং তার সামগ্রিক functional ability উন্নত করা। পেশির শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি, range of motion বজায় রাখা, balance ও coordination উন্নত করা, posture ঠিক রাখা এবং দৈনন্দিন কাজে স্বাধীনতা বাড়ানোর জন্য ব্যক্তিভেদে থেরাপি পরিকল্পনা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী gait training, functional exercise, positioning, stretching, strengthening এবং mobility training ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে শুধু থেরাপি সেশনই যথেষ্ট নয়। একটি শিশুর উন্নয়নে পরিবার, ফিজিওথেরাপিস্ট, চিকিৎসক, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট, শিক্ষক এবং সমাজ—সবার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুটিকে তার সমস্যার জন্য নয়, তার সম্ভাবনার জন্য দেখতে শেখা।

সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দিয়ে সব কাজ থেকে দূরে রাখা তার স্বাধীনতা অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বরং নিরাপদ পরিবেশে তাকে নিজের মতো করে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। ছোট ছোট অগ্রগতিও এখানে বড় অর্জন—নিজে বসতে পারা, একটি খেলনা ধরতে পারা, কয়েক পা হাঁটতে পারা কিংবা নিজের প্রয়োজন প্রকাশ করতে পারাও একটি শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস আমাদের তাই একটি সহজ বার্তা দেয়—অক্ষমতা নয়, সক্ষমতার দিকটি দেখুন। একটি শিশুর শরীর হয়তো কিছু কাজে সীমাবদ্ধ হতে পারে, কিন্তু তার শেখার ক্ষমতা, অনুভূতি, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা সীমাবদ্ধ নয়।

আমাদের প্রয়োজন এমন একটি সমাজ, যেখানে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুকে করুণা নয়, সুযোগ দেওয়া হবে; উপেক্ষা নয়, গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হবে; আর সীমাবদ্ধতার পরিচয়ে আটকে না রেখে তার সক্ষমতাকে সামনে নিয়ে আসা হবে।

কারণ পুনর্বাসনের প্রকৃত লক্ষ্য শুধু একজন মানুষকে হাঁটতে শেখানো নয়—তাকে যতটা সম্ভব স্বাধীন, আত্মনির্ভর এবং সমাজের সক্রিয় অংশ হয়ে উঠতে সাহায্য করা।

এই বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবসে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক—

“সীমাবদ্ধতা নয়, সম্ভাবনাই হোক প্রতিটি মানুষের পরিচয়।”

লেখকঃ

তানজিম কামাল তারেক

৪র্থ বর্ষ, বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি। 

বিএইচপিআই, সি আর পি।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


বিশ্ব সেরিবাল পালসি দিবসে তানজিম আহমেদ তারেক এর কলাম

প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ণ

featured Image

প্রতিবছর ৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস (World Cerebral Palsy Day)। দিনটি শুধু একটি রোগ সম্পর্কে মানুষকে জানানোর দিন নয়; বরং সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশু ও ব্যক্তিদের অধিকার, সক্ষমতা, মর্যাদা এবং সমাজে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

সেরিব্রাল পালসি বা CP হলো এমন একটি স্নায়বিক অবস্থা, যা সাধারণত শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশকালীন ক্ষতির কারণে দেখা দেয় এবং ব্যক্তির নড়াচড়া, পেশির নিয়ন্ত্রণ, ভারসাম্য ও অঙ্গভঙ্গিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। কারও ক্ষেত্রে হাঁটাচলায় সমস্যা হতে পারে, আবার কারও কথা বলা, হাতের সূক্ষ্ম কাজ, খাবার গ্রহণ বা দৈনন্দিন কার্যক্রমেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি—সেরিব্রাল পালসি একজন মানুষের সম্পূর্ণ পরিচয় নয়।

আমাদের সমাজে এখনো অনেক পরিবার সেরিব্রাল পালসি নিয়ে নানা ভুল ধারণা, ভয় ও সামাজিক চাপের মুখোমুখি হয়। অনেক সময় শিশুর বিকাশে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলেও পরিবার চিকিৎসা বা পুনর্বাসন গ্রহণে দেরি করে। অথচ শিশুর বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে সঠিক মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় intervention শুরু করা গেলে তার কার্যক্ষমতা ও স্বাধীনতা অনেকাংশে বাড়ানো সম্ভব।

এখানেই আসে পুনর্বাসন ও ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 সেরিব্রাল পালসিতে ফিজিওথেরাপির লক্ষ্য শুধু শিশুকে হাঁটানো নয়; বরং তার সামগ্রিক functional ability উন্নত করা। পেশির শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি, range of motion বজায় রাখা, balance ও coordination উন্নত করা, posture ঠিক রাখা এবং দৈনন্দিন কাজে স্বাধীনতা বাড়ানোর জন্য ব্যক্তিভেদে থেরাপি পরিকল্পনা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী gait training, functional exercise, positioning, stretching, strengthening এবং mobility training ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে শুধু থেরাপি সেশনই যথেষ্ট নয়। একটি শিশুর উন্নয়নে পরিবার, ফিজিওথেরাপিস্ট, চিকিৎসক, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট, শিক্ষক এবং সমাজ—সবার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুটিকে তার সমস্যার জন্য নয়, তার সম্ভাবনার জন্য দেখতে শেখা।

সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দিয়ে সব কাজ থেকে দূরে রাখা তার স্বাধীনতা অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বরং নিরাপদ পরিবেশে তাকে নিজের মতো করে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। ছোট ছোট অগ্রগতিও এখানে বড় অর্জন—নিজে বসতে পারা, একটি খেলনা ধরতে পারা, কয়েক পা হাঁটতে পারা কিংবা নিজের প্রয়োজন প্রকাশ করতে পারাও একটি শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস আমাদের তাই একটি সহজ বার্তা দেয়—অক্ষমতা নয়, সক্ষমতার দিকটি দেখুন। একটি শিশুর শরীর হয়তো কিছু কাজে সীমাবদ্ধ হতে পারে, কিন্তু তার শেখার ক্ষমতা, অনুভূতি, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা সীমাবদ্ধ নয়।

আমাদের প্রয়োজন এমন একটি সমাজ, যেখানে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুকে করুণা নয়, সুযোগ দেওয়া হবে; উপেক্ষা নয়, গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হবে; আর সীমাবদ্ধতার পরিচয়ে আটকে না রেখে তার সক্ষমতাকে সামনে নিয়ে আসা হবে।

কারণ পুনর্বাসনের প্রকৃত লক্ষ্য শুধু একজন মানুষকে হাঁটতে শেখানো নয়—তাকে যতটা সম্ভব স্বাধীন, আত্মনির্ভর এবং সমাজের সক্রিয় অংশ হয়ে উঠতে সাহায্য করা।

এই বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবসে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক—

“সীমাবদ্ধতা নয়, সম্ভাবনাই হোক প্রতিটি মানুষের পরিচয়।”

লেখকঃ

তানজিম কামাল তারেক

৪র্থ বর্ষ, বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি। 

বিএইচপিআই, সি আর পি।


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত
চেয়ারম্যান- মো: এনায়েত হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর- মো: মনিরুজ্জামান
প্রধান সম্পাদক:
নির্বাহী সম্পাদক-
বার্তা সম্পাদক-

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বিশ্ব সেরিবাল পালসি দিবসে তানজিম আহমেদ তারেক এর কলাম
0:00 / 0:00
1x