ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নে তিতাস নদীর বুকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা-২০২৬।
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার বিকেলে দেওড়া, মলাইশ ও গাজীপুর এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই জমকালো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
গ্রামীণ যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদন দেওয়া এবং সচেতনতা বাড়াতে এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘মাদক বিরোধী নৌকা বাইচ’।আবহমান বাংলার এই লোকজ ঐতিহ্য দেখতে দুপুর গড়ানোর আগেই তিতাস নদীর দুই তীরে নেমে আসে হাজারো উৎসুক মানুষের ঢল।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সুসজ্জিত ও গতিময় নৌকা নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় মোট ৬টি দল অংশ নেয়। ঢাক-ঢোল ও কাংস্যের তালে তালে মাঝিমাল্লাদের সম্মিলিত সারিগান এবং বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে তিতাসের বুক যেন এক মহামিলনমেলায় পরিণত হয়।
নদীর বুকে প্রতিযোগী নৌকাগুলোর তীব্র গতির লড়াই উপস্থিত দর্শকদের মাঝে টানটান উত্তেজনা ও ব্যাপক করতালির সৃষ্টি করে।
লায়ন মো. আবদুর রহিমের সভাপতিত্বে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।
তিনি তিতাসের ঐতিহ্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনিসুল ইসলাম ঠাকুর।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফুল করিম রিপন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পুরো অনুষ্ঠানটি সমন্বয় ও পরিচালনায় ছিলেন হাবিবুল হক রাজিব এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নৌকা বাইচ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জনাব সৈয়দ সরকার।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন (প্রথম স্থান) হওয়ার গৌরব অর্জন করে ক্ষমতাপুর গ্রামের দল। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে বুড্ডা গ্রামের দল এবং তৃতীয় স্থান পায় ইকতার গ্রামের দল।
খেলা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ গ্র্যান্ড বিজয়ী প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী দলের হাতে আকর্ষণীয় রেফ্রিজারেটর (ফ্রিজ) পুরস্কারের টোকেন ও ট্রফি তুলে দেন।
মাদককে ‘না’ বলে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার এই অনন্য উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সরাইলের সচেতন মহল।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নে তিতাস নদীর বুকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা-২০২৬।
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার বিকেলে দেওড়া, মলাইশ ও গাজীপুর এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই জমকালো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
গ্রামীণ যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদন দেওয়া এবং সচেতনতা বাড়াতে এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘মাদক বিরোধী নৌকা বাইচ’।আবহমান বাংলার এই লোকজ ঐতিহ্য দেখতে দুপুর গড়ানোর আগেই তিতাস নদীর দুই তীরে নেমে আসে হাজারো উৎসুক মানুষের ঢল।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সুসজ্জিত ও গতিময় নৌকা নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় মোট ৬টি দল অংশ নেয়। ঢাক-ঢোল ও কাংস্যের তালে তালে মাঝিমাল্লাদের সম্মিলিত সারিগান এবং বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে তিতাসের বুক যেন এক মহামিলনমেলায় পরিণত হয়।
নদীর বুকে প্রতিযোগী নৌকাগুলোর তীব্র গতির লড়াই উপস্থিত দর্শকদের মাঝে টানটান উত্তেজনা ও ব্যাপক করতালির সৃষ্টি করে।
লায়ন মো. আবদুর রহিমের সভাপতিত্বে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।
তিনি তিতাসের ঐতিহ্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনিসুল ইসলাম ঠাকুর।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফুল করিম রিপন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পুরো অনুষ্ঠানটি সমন্বয় ও পরিচালনায় ছিলেন হাবিবুল হক রাজিব এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নৌকা বাইচ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জনাব সৈয়দ সরকার।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন (প্রথম স্থান) হওয়ার গৌরব অর্জন করে ক্ষমতাপুর গ্রামের দল। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে বুড্ডা গ্রামের দল এবং তৃতীয় স্থান পায় ইকতার গ্রামের দল।
খেলা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ গ্র্যান্ড বিজয়ী প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী দলের হাতে আকর্ষণীয় রেফ্রিজারেটর (ফ্রিজ) পুরস্কারের টোকেন ও ট্রফি তুলে দেন।
মাদককে ‘না’ বলে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার এই অনন্য উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সরাইলের সচেতন মহল।
