রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

যশোর সদরে সারের কৃত্রিম সংকট

ডিলার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে যশোর সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় পাচারের অভিযোগ


মো: রফিকুল ইসলাম সবুজ
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার , 0 ফলোয়ার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

ডিলার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে যশোর সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় পাচারের অভিযোগ

যশোর সদর উপজেলার কৃষি খাতে চরম অরাজকতা ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ১ নং হৈবতপুর  ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত সরকারি সার প্রকাশ্যেই চলে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও বারবাজারের বিভিন্নও কাশিমপুর লাইসেন্সবিহীন দোকানে। ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গঠিত এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষকেরা।

হৈবতপুর ইউনিয়নের সার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তা অবৈধভাবে কালীগঞ্জের বারবাজারস্থ ‘বাদেডিহি ডক্টর ট্রেডার্স’ (প্রো: তাইজুল ইসলাম) এবং ‘ফজলু ট্রেডার্স’ (প্রো: রবিউল বিশ্বাস)-এ সরবরাহ করা হচ্ছে। 

 সাতমাইল (বারিনগর) বাজারের ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন ও আশরাফুল ইসলাম নামের দুই ভাই কোনো প্রকার বৈধ্য সারের লাইসেন্স ছাড়াই নিয়মিত সার বিক্রি করছেন। সরজমিনে দেখা গেছে, সার বিক্রির নিয়ম না থাকলেও বিভিন্ন কীটনাশকের দোকান এবং মুদি দোকানে বস্তায় বস্তায় সার মজুদ রাখা হয়েছে।

 হৈবতপুর ইউনিয়নের ডিলার রাজন ও স্বপনের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার কিনে কাশিমপুর ইউনিয়নের লাইসেন্সবিহীন দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। কাশিমপুরের ‘মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ (প্রো: আবদুস সালাম) ডিলার রাজনের কাছ থেকে এবং ৫ নং ওয়ার্ডের সোহেল ডিলার স্বপনের কাছ থেকে সরাসরি সার সংগ্রহ করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ—যেখানে  ১০ কেজি সারের প্রয়োজন, সেখানে সরকারি বরাদ্দের দোহাই দিয়ে তাদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ কেজি। অথচ অতিরিক্ত লাভের আশায় লাইসেন্সবিহীন দোকানে বস্তায় বস্তায় সার ঢেলে দেওয়া হচ্ছে।

​লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, "কিছুদিন আগে ২০ বস্তা সার বিক্রি করেছি, এখন আর করি না।"

​হৈবতপুর ইউনিয়নের অভিযুক্ত ডিলার রাজন ও স্বপন বাবুকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারাও একইভাবে দায় এড়িয়ে বলেন, "আগে বিক্রি করেছি, এখন আর বিক্রি করি না।"

​কৃষকদের এই ভোগান্তি ও সার পাচারের বিষয়ে উপজেলা ও জেলা কৃষি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ লক্ষ্য করা গেছে:

সহকারি কৃষি কর্মকর্তা হাসানকে ফোন করা হলে "আমি গাড়িতে আছি" বলে লাইন কেটে দেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা কে  একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কৃষি সম্প্রসারণ  অতিরিক্ত উপপরিচালক আবুল হাসান কে প্রশ্ন করলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত ডিডি-কে ফোন দেওয়ার পরামর্শ দেন।

ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক জাহিদ  হাসান কে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক কে জানালে তিনি বলেন বিস্তারিত লিখে দিন ব্যাবস্থা নিচ্ছি। 

​কাগজে-কলমে কৃষি বিভাগের নানা মনিটরিংয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ নেই। তাহলে এই মনিটরিং দিয়ে কৃষকের লাভ কী—এখন জনমনে এই বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সিন্ডিকেটের হাত থেকে সার খাতকে মুক্ত করতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


ডিলার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে যশোর সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় পাচারের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

featured Image

যশোর সদর উপজেলার কৃষি খাতে চরম অরাজকতা ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ১ নং হৈবতপুর  ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত সরকারি সার প্রকাশ্যেই চলে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও বারবাজারের বিভিন্নও কাশিমপুর লাইসেন্সবিহীন দোকানে। ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গঠিত এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষকেরা।

হৈবতপুর ইউনিয়নের সার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তা অবৈধভাবে কালীগঞ্জের বারবাজারস্থ ‘বাদেডিহি ডক্টর ট্রেডার্স’ (প্রো: তাইজুল ইসলাম) এবং ‘ফজলু ট্রেডার্স’ (প্রো: রবিউল বিশ্বাস)-এ সরবরাহ করা হচ্ছে। 

 সাতমাইল (বারিনগর) বাজারের ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন ও আশরাফুল ইসলাম নামের দুই ভাই কোনো প্রকার বৈধ্য সারের লাইসেন্স ছাড়াই নিয়মিত সার বিক্রি করছেন। সরজমিনে দেখা গেছে, সার বিক্রির নিয়ম না থাকলেও বিভিন্ন কীটনাশকের দোকান এবং মুদি দোকানে বস্তায় বস্তায় সার মজুদ রাখা হয়েছে।

 হৈবতপুর ইউনিয়নের ডিলার রাজন ও স্বপনের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার কিনে কাশিমপুর ইউনিয়নের লাইসেন্সবিহীন দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। কাশিমপুরের ‘মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ (প্রো: আবদুস সালাম) ডিলার রাজনের কাছ থেকে এবং ৫ নং ওয়ার্ডের সোহেল ডিলার স্বপনের কাছ থেকে সরাসরি সার সংগ্রহ করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ—যেখানে  ১০ কেজি সারের প্রয়োজন, সেখানে সরকারি বরাদ্দের দোহাই দিয়ে তাদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ কেজি। অথচ অতিরিক্ত লাভের আশায় লাইসেন্সবিহীন দোকানে বস্তায় বস্তায় সার ঢেলে দেওয়া হচ্ছে।

​লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, "কিছুদিন আগে ২০ বস্তা সার বিক্রি করেছি, এখন আর করি না।"

​হৈবতপুর ইউনিয়নের অভিযুক্ত ডিলার রাজন ও স্বপন বাবুকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারাও একইভাবে দায় এড়িয়ে বলেন, "আগে বিক্রি করেছি, এখন আর বিক্রি করি না।"

​কৃষকদের এই ভোগান্তি ও সার পাচারের বিষয়ে উপজেলা ও জেলা কৃষি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ লক্ষ্য করা গেছে:

সহকারি কৃষি কর্মকর্তা হাসানকে ফোন করা হলে "আমি গাড়িতে আছি" বলে লাইন কেটে দেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা কে  একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কৃষি সম্প্রসারণ  অতিরিক্ত উপপরিচালক আবুল হাসান কে প্রশ্ন করলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত ডিডি-কে ফোন দেওয়ার পরামর্শ দেন।

ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক জাহিদ  হাসান কে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক কে জানালে তিনি বলেন বিস্তারিত লিখে দিন ব্যাবস্থা নিচ্ছি। 

​কাগজে-কলমে কৃষি বিভাগের নানা মনিটরিংয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ নেই। তাহলে এই মনিটরিং দিয়ে কৃষকের লাভ কী—এখন জনমনে এই বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সিন্ডিকেটের হাত থেকে সার খাতকে মুক্ত করতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত
চেয়ারম্যান- মো: এনায়েত হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর- মো: মনিরুজ্জামান
প্রধান সম্পাদক:
নির্বাহী সম্পাদক-
বার্তা সম্পাদক-

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ডিলার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে যশোর সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় পাচারের অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x