সমাজের সবচেয়ে বড় সংকট শুধু খারাপ মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নয়; বরং ভালো মানুষগুলোর নীরব হয়ে যাওয়া। অন্যায় দেখে চুপ থাকা, দায়িত্ব এড়িয়ে চলা এবং ধীরে ধীরে নিজেকে সমাজ থেকে গুটিয়ে নেওয়াই আজকের বড় বাস্তবতা।
যারা সত্য কথা বলতে জানেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে জানেন, বিপদে মানুষের পাশে থাকেন এবং নিজের স্বার্থের আগে সমাজের কল্যাণকে গুরুত্ব দেন—তাদের অনেকেই আজ হতাশ। কারণ তারা দেখছেন, সততার মূল্য কমছে; অন্যদিকে তোষামোদ, স্বার্থপরতা ও ব্যক্তিস্বার্থ অনেক সময় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
কিন্তু এভাবে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে উঠতে পারে না। সমাজে ন্যায় ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সৎ, যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্বশীল মানুষদের সামনে আনতে হবে। তাদের সম্মান দিতে হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
মনে রাখতে হবে—ভালো মানুষ দায়িত্বে থাকলে সমাজ নিরাপদ থাকে। ন্যায়পরায়ণ মানুষ নেতৃত্ব দিলে মানুষ ন্যায্য অধিকার পায়। আর ভালো মানুষ যখন নীরব হয়ে যায়, তখন অন্যায়কারীরা আরও সাহসী হয়ে ওঠে।
এই দায়িত্বের শুরু কিন্তু নিজের পরিবার থেকেই।
যে বাবা-মা আমাদের শৈশবে হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছেন, অসুস্থ হলে রাত জেগে পাশে থেকেছেন, নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিয়েছেন—জীবনের শেষ সময়ে সেই মানুষগুলোরই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সন্তানের সময়, ভালোবাসা, সম্মান ও একটু যত্ন।
অথচ আজ অনেক বাবা-মা বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের ভালোবাসার বদলে অবহেলা, একাকিত্ব ও অসহায়ত্বের শিকার হচ্ছেন। একই পরিবারের মানুষগুলোও ধীরে ধীরে একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলছে। একই ছাদের নিচে থেকেও হৃদয়ের দূরত্ব বাড়ছে।
বৃদ্ধ বাবা-মা কোনো বোঝা নন। তারা আমাদের জীবনের সেই মানুষ, যাদের ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব নয়। আর মনে রাখবেন—আজ আপনি আপনার বাবা-মায়ের সঙ্গে যেমন আচরণ করছেন, আপনার সন্তানরাও একদিন আপনার কাছ থেকেই তেমন আচরণ শিখবে।
তাই সামাজিক অবক্ষয় রোধের পরিবর্তনটা শুরু হোক নিজের পরিবার থেকে। বাবা-মাকে সময় দিন। পরিবারের সদস্যদের মূল্য দিন। ভালো মানুষকে সম্মান করুন। সৎ ও যোগ্য মানুষদের দায়িত্ব দিন। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না। আর যারা ভালো কাজ করতে গিয়ে হতাশ হয়ে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন, তাদের পাশে দাঁড়ান।
কারণ অর্থ-সম্পদ দিয়ে বড় বাড়ি তৈরি করা যায়, কিন্তু ভালোবাসা, ন্যায়, সততা ও মানবিকতা ছাড়া একটি সুন্দর পরিবার কিংবা সুন্দর সমাজ তৈরি করা যায় না।
আসুন, ভালো মানুষগুলোকে আবার সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনি। সততাকে মূল্য দিই, ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করি এবং যোগ্য ও সৎ মানুষদের দায়িত্ব দিই।
পরিবর্তনের অপেক্ষায় না থেকে—পরিবর্তনের শুরু হোক আমাদের নিজেদের পরিবার, সমাজ ও দায়িত্ববোধ থেকে।
আল্লাহ আমাদের বাবা-মা, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও পারস্পরিক ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করুন। আমিন।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
সমাজের সবচেয়ে বড় সংকট শুধু খারাপ মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নয়; বরং ভালো মানুষগুলোর নীরব হয়ে যাওয়া। অন্যায় দেখে চুপ থাকা, দায়িত্ব এড়িয়ে চলা এবং ধীরে ধীরে নিজেকে সমাজ থেকে গুটিয়ে নেওয়াই আজকের বড় বাস্তবতা।
যারা সত্য কথা বলতে জানেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে জানেন, বিপদে মানুষের পাশে থাকেন এবং নিজের স্বার্থের আগে সমাজের কল্যাণকে গুরুত্ব দেন—তাদের অনেকেই আজ হতাশ। কারণ তারা দেখছেন, সততার মূল্য কমছে; অন্যদিকে তোষামোদ, স্বার্থপরতা ও ব্যক্তিস্বার্থ অনেক সময় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
কিন্তু এভাবে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে উঠতে পারে না। সমাজে ন্যায় ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সৎ, যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্বশীল মানুষদের সামনে আনতে হবে। তাদের সম্মান দিতে হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
মনে রাখতে হবে—ভালো মানুষ দায়িত্বে থাকলে সমাজ নিরাপদ থাকে। ন্যায়পরায়ণ মানুষ নেতৃত্ব দিলে মানুষ ন্যায্য অধিকার পায়। আর ভালো মানুষ যখন নীরব হয়ে যায়, তখন অন্যায়কারীরা আরও সাহসী হয়ে ওঠে।
এই দায়িত্বের শুরু কিন্তু নিজের পরিবার থেকেই।
যে বাবা-মা আমাদের শৈশবে হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছেন, অসুস্থ হলে রাত জেগে পাশে থেকেছেন, নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিয়েছেন—জীবনের শেষ সময়ে সেই মানুষগুলোরই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সন্তানের সময়, ভালোবাসা, সম্মান ও একটু যত্ন।
অথচ আজ অনেক বাবা-মা বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের ভালোবাসার বদলে অবহেলা, একাকিত্ব ও অসহায়ত্বের শিকার হচ্ছেন। একই পরিবারের মানুষগুলোও ধীরে ধীরে একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলছে। একই ছাদের নিচে থেকেও হৃদয়ের দূরত্ব বাড়ছে।
বৃদ্ধ বাবা-মা কোনো বোঝা নন। তারা আমাদের জীবনের সেই মানুষ, যাদের ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব নয়। আর মনে রাখবেন—আজ আপনি আপনার বাবা-মায়ের সঙ্গে যেমন আচরণ করছেন, আপনার সন্তানরাও একদিন আপনার কাছ থেকেই তেমন আচরণ শিখবে।
তাই সামাজিক অবক্ষয় রোধের পরিবর্তনটা শুরু হোক নিজের পরিবার থেকে। বাবা-মাকে সময় দিন। পরিবারের সদস্যদের মূল্য দিন। ভালো মানুষকে সম্মান করুন। সৎ ও যোগ্য মানুষদের দায়িত্ব দিন। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না। আর যারা ভালো কাজ করতে গিয়ে হতাশ হয়ে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন, তাদের পাশে দাঁড়ান।
কারণ অর্থ-সম্পদ দিয়ে বড় বাড়ি তৈরি করা যায়, কিন্তু ভালোবাসা, ন্যায়, সততা ও মানবিকতা ছাড়া একটি সুন্দর পরিবার কিংবা সুন্দর সমাজ তৈরি করা যায় না।
আসুন, ভালো মানুষগুলোকে আবার সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনি। সততাকে মূল্য দিই, ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করি এবং যোগ্য ও সৎ মানুষদের দায়িত্ব দিই।
পরিবর্তনের অপেক্ষায় না থেকে—পরিবর্তনের শুরু হোক আমাদের নিজেদের পরিবার, সমাজ ও দায়িত্ববোধ থেকে।
আল্লাহ আমাদের বাবা-মা, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও পারস্পরিক ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করুন। আমিন।
