রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

বিদ্যুৎ সংকট, তীব্র যানজট আর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে নাকাল দেশবাসী


নিপা আক্তার
ক্রাইম রিপোর্টার, 2 ফলোয়ার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

বিদ্যুৎ সংকট, তীব্র যানজট আর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে নাকাল দেশবাসী

উচ্চপর্যায়ের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও থামছে না ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট যেমন জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে, তেমনি অবৈধ গ্যারেজগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে তীব্র আকার ধারণ করেছে জাতীয় বিদ্যুৎ সংকট। সাধারণ জনগণের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশের দ্বিমুখী নীতি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই মূলত এই অনিয়ম চলছে।

​শাহবাগে ট্রাফিকের ‘ধরি-ছাড়ি’ নাটক

রাজধানীর শাহবাগ ট্রাফিক ডিভিশন নিয়মিতভাবে যানজট সৃষ্টির অভিযোগে অটোরিকশা জব্দ করে ডাম্পিংয়ে পাঠালেও, রহস্যজনকভাবে মাত্র তিন দিন পরেই সেই গাড়িগুলো পুনরায় সড়কে বুক ফুলিয়ে চলাচল করছে। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এটি যানজট নিরসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নয়; বরং এটি পুলিশ প্রশাসনের পকেট ভারী করার একটি সুপরিকল্পিত ‘লাভজনক নাটক’। প্রশাসনের এই লুকোচুরি খেলাকে সাধারণ যাত্রীরা এক প্রকার ‘ভেলকি’ বলে অভিহিত করেছেন।

​কেরানীগঞ্জের গ্যারেজে কোটি টাকার বিদ্যুৎ বাণিজ্য

দেশজুড়ে যখন সাধারণ মানুষ ও জনজীবন তীব্র লোডশেডিংয়ে জর্জরিত, তখন অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব গ্যারেজে অবৈধ সংযোগ সচল রেখেছেন।

​স্থানীয় গ্যারেজ মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু কেরানীগঞ্জ অঞ্চলেই রয়েছে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার অটোরিকশার গ্যারেজ। যেখান থেকে প্রতি মাসে নগদ কোটি কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হচ্ছে।

​এ বিষয়ে গ্যারেজ মালিক মোঃ আক্তার হোসেন জানান, "আমার ১৬টি অটোরিকশা রয়েছে। এই গাড়িগুলোর চার্জ বাবদ প্রতি মাসে আমাকে ৯৬ থেকে ৯৭ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে।"

​অন্য একজন গ্যারেজ মালিক মোঃ ইউসুফ বলেন, "আমার গ্যারেজে ৪০টি গাড়ি রয়েছে। প্রতি মাসে আমার গ্যারেজে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসছে।"

​কার্ড মিটারের ফাঁদ ও অতিরিক্ত অর্থ কর্তন

গ্যারেজ মালিকরা জানিয়েছেন, তারা কার্ড মিটার ব্যবহার করছেন যেখানে টাকা রিচার্জ করলেই কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল থাকে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করতে গেলেই অতিরিক্ত প্রায় ৭ শতাংশ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা মালিকদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

​স্থায়ী সমাধানের দাবি

উচ্চ মহলের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে অটোরিকশার অবাধ চলাচল এবং বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও গ্যারেজগুলোতে বিদ্যুৎ অপচয়ের ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যানজটে নাকাল নাগরিক জীবন, অন্যদিকে তীব্র লোডশেডিং—এই দুই সংকটের স্থায়ী সমাধানে অবিলম্বে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কেরানীগঞ্জ ও ঢাকাবাসী।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


বিদ্যুৎ সংকট, তীব্র যানজট আর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে নাকাল দেশবাসী

প্রকাশের তারিখ : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ণ

featured Image

উচ্চপর্যায়ের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও থামছে না ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট যেমন জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে, তেমনি অবৈধ গ্যারেজগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে তীব্র আকার ধারণ করেছে জাতীয় বিদ্যুৎ সংকট। সাধারণ জনগণের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশের দ্বিমুখী নীতি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই মূলত এই অনিয়ম চলছে।

​শাহবাগে ট্রাফিকের ‘ধরি-ছাড়ি’ নাটক

রাজধানীর শাহবাগ ট্রাফিক ডিভিশন নিয়মিতভাবে যানজট সৃষ্টির অভিযোগে অটোরিকশা জব্দ করে ডাম্পিংয়ে পাঠালেও, রহস্যজনকভাবে মাত্র তিন দিন পরেই সেই গাড়িগুলো পুনরায় সড়কে বুক ফুলিয়ে চলাচল করছে। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এটি যানজট নিরসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নয়; বরং এটি পুলিশ প্রশাসনের পকেট ভারী করার একটি সুপরিকল্পিত ‘লাভজনক নাটক’। প্রশাসনের এই লুকোচুরি খেলাকে সাধারণ যাত্রীরা এক প্রকার ‘ভেলকি’ বলে অভিহিত করেছেন।

​কেরানীগঞ্জের গ্যারেজে কোটি টাকার বিদ্যুৎ বাণিজ্য

দেশজুড়ে যখন সাধারণ মানুষ ও জনজীবন তীব্র লোডশেডিংয়ে জর্জরিত, তখন অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব গ্যারেজে অবৈধ সংযোগ সচল রেখেছেন।

​স্থানীয় গ্যারেজ মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু কেরানীগঞ্জ অঞ্চলেই রয়েছে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার অটোরিকশার গ্যারেজ। যেখান থেকে প্রতি মাসে নগদ কোটি কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হচ্ছে।

​এ বিষয়ে গ্যারেজ মালিক মোঃ আক্তার হোসেন জানান, "আমার ১৬টি অটোরিকশা রয়েছে। এই গাড়িগুলোর চার্জ বাবদ প্রতি মাসে আমাকে ৯৬ থেকে ৯৭ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে।"

​অন্য একজন গ্যারেজ মালিক মোঃ ইউসুফ বলেন, "আমার গ্যারেজে ৪০টি গাড়ি রয়েছে। প্রতি মাসে আমার গ্যারেজে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসছে।"

​কার্ড মিটারের ফাঁদ ও অতিরিক্ত অর্থ কর্তন

গ্যারেজ মালিকরা জানিয়েছেন, তারা কার্ড মিটার ব্যবহার করছেন যেখানে টাকা রিচার্জ করলেই কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল থাকে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করতে গেলেই অতিরিক্ত প্রায় ৭ শতাংশ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা মালিকদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

​স্থায়ী সমাধানের দাবি

উচ্চ মহলের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে অটোরিকশার অবাধ চলাচল এবং বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও গ্যারেজগুলোতে বিদ্যুৎ অপচয়ের ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যানজটে নাকাল নাগরিক জীবন, অন্যদিকে তীব্র লোডশেডিং—এই দুই সংকটের স্থায়ী সমাধানে অবিলম্বে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কেরানীগঞ্জ ও ঢাকাবাসী।


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত
চেয়ারম্যান- মো: এনায়েত হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর- মো: মনিরুজ্জামান
প্রধান সম্পাদক:
নির্বাহী সম্পাদক-
বার্তা সম্পাদক-

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বিদ্যুৎ সংকট, তীব্র যানজট আর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে নাকাল দেশবাসী
0:00 / 0:00
1x