দেশের বৃহত্তম এবং এশিয়া মহাদেশের অন্যতম তথা বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব চিনিকল গুলোর মধ্যে একটি লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড।
দেশে বিদেশী মদের আমদানি কমে যাওয়ায় মদের বেচাবিক্রি ও মুনাফায় সব রেকর্ড ভেঙে সর্বকালের সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে ৮৯ বছরেরও বেশি পুরনো প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি।
স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের যোগদানের পর নির্ভরযোগ্য নির্দেশনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে হিসেব অনুযায়ী চিনিকলটি প্রতিষ্ঠাকালের সকল রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে।
সরকারের রাজস্ব খাতে ১৫৩ কোটি টাকা ভ্যাট ও আয়কর জমা দিয়েছে ও চিনি কারখানার ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা লোকসান পুষিয়েও মুনাফা অর্জন হয়েছে১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মদ উৎপাদন ও বাজার জাত করণ এই হিসেব অনুযায়ী চিনিকলটি প্রতিষ্ঠার ৮৯ বছরের সকল রেকর্ড ভেঙেছে যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান জানান, দেশের বৃহত্তম এবং এশিয়া মহাদেশের অন্যতম তথা বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব চিনিকলটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৩৮ সালে। যাত্রা শুরু থেকে এত পরিমাণ লাভের মুখ দেখেনি কেরু।
শিল্পমন্ত্রী মহোদয়, শিল্প সচিব মহোদয় ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান- এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় মোতাবেক সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আরও বলেন ৮৯ বছর পেরিয়েছে চিনিকলটি।
পুরোনো আমলের যন্ত্র দিয়ে কোনোরকমে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে মিলটিকে। চিনি উৎপাদনের সময় মাঝেমধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এসব কারণে চিনিখাতে লাভবান হওয়া যায়নি।
চিনিতে ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা লোকসান পুষিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার।
সরকারের রাজস্ব খাতে ১৫৩ কোটি টাকা ভ্যাট ও আয়কর জমা দেওয়া হয়েছে।ঐতিহ্যবাহী কেরু চিনি শিল্পের প্রধান কাঁচামাল আখ। চিনি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আখ চাষের কোন বিকল্প নেই। আগামীতে আরও লাভের দিকে অগ্রসর হবে কেরু ইনশাল্লাহ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৩৮ সালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে প্রতিষ্ঠিত হয় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। বর্তমানে ছয়টি ইউনিটে চিনি, ডিস্টিলারি, ফার্মাসিউটিক্যালস, বাণিজ্যিক খামার, আকন্দবাড়িয়া খামার (পরীক্ষামূলক) এবং জৈব সার উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এরমধ্যে শুধু ডিস্টিলারি (মদ) ইউনিটই লাভজনক।
২০২৫-২৬ অর্থ বছর লাভ-ক্ষতির হিসাব অনুযায়ী, সব ইউনিট মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য নিট মুনাফা দাড়াতে পারে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা।
এই হিসাব বাস্তবায়িত হলে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে করা প্রতিষ্ঠার পর সর্বোচ্চ ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকার নিট মুনাফার রেকর্ড ভেঙে যাবে।
২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ছয় টির মধ্যে পাঁচটি ইউনিটে লাভ দেখানো হয়েছে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি বায়ো-ফার্টিলাইজার ইউনিটে সম্ভাব্য লাভ ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, বাণিজ্যিক খামারে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার টাকা, আকন্দবাড়ীয়া ইউনিটে ৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ডিস্টিলারি ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিটে ৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা লাভ দেখানো হয়েছে।
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি ইউনিট নয়টি ব্র্যান্ডের মদ তৈরি করে। এরমধ্যে- ইয়েলো লেভেল মল্টেড হুইস্কি, গোল্ড রিবন জিন, ফাইন ব্র্যান্ডি, চেরি ব্র্যান্ডি, ইম্পেরিয়াল হুইস্কি, অরেঞ্জ কুরাসাও, জারিনা ভদকা, রোজা রাম এবং ওল্ড রাম। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির তিনটি বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে।
এছাড়া সারাদেশে কেরুর ১৩টি ওয়্যারহাউস রয়েছে। কারখানা আরও বেশি উৎপাদনে সক্ষম। এখানে অ্যালকোহলের পাশাপাশি ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সার, চিনি ও গুড়ের মতো অন্যান্য পণ্যও উৎপাদন করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।
১৮০৩ সালে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী জন ম্যাক্সওয়েল চোলাই মদের কারখানা (ডিস্টিলারি) হিসেবে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এটিই উপমহাদেশের প্রথম ডিস্টিলারি। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর এটি পূর্ব পাকিস্তানে অধীনে পড়ে।
পরে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তারপর থেকে এটি বাংলাদেশের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকার দর্শনার ডিস্টিলারিটি জাতীয়করণ করে। তখন থেকে এটি "কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড" নামে পরিচিত।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ণ
দেশের বৃহত্তম এবং এশিয়া মহাদেশের অন্যতম তথা বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব চিনিকল গুলোর মধ্যে একটি লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড।
দেশে বিদেশী মদের আমদানি কমে যাওয়ায় মদের বেচাবিক্রি ও মুনাফায় সব রেকর্ড ভেঙে সর্বকালের সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে ৮৯ বছরেরও বেশি পুরনো প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি।
স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের যোগদানের পর নির্ভরযোগ্য নির্দেশনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে হিসেব অনুযায়ী চিনিকলটি প্রতিষ্ঠাকালের সকল রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে।
সরকারের রাজস্ব খাতে ১৫৩ কোটি টাকা ভ্যাট ও আয়কর জমা দিয়েছে ও চিনি কারখানার ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা লোকসান পুষিয়েও মুনাফা অর্জন হয়েছে১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মদ উৎপাদন ও বাজার জাত করণ এই হিসেব অনুযায়ী চিনিকলটি প্রতিষ্ঠার ৮৯ বছরের সকল রেকর্ড ভেঙেছে যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান জানান, দেশের বৃহত্তম এবং এশিয়া মহাদেশের অন্যতম তথা বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব চিনিকলটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৩৮ সালে। যাত্রা শুরু থেকে এত পরিমাণ লাভের মুখ দেখেনি কেরু।
শিল্পমন্ত্রী মহোদয়, শিল্প সচিব মহোদয় ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান- এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় মোতাবেক সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আরও বলেন ৮৯ বছর পেরিয়েছে চিনিকলটি।
পুরোনো আমলের যন্ত্র দিয়ে কোনোরকমে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে মিলটিকে। চিনি উৎপাদনের সময় মাঝেমধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এসব কারণে চিনিখাতে লাভবান হওয়া যায়নি।
চিনিতে ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা লোকসান পুষিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার।
সরকারের রাজস্ব খাতে ১৫৩ কোটি টাকা ভ্যাট ও আয়কর জমা দেওয়া হয়েছে।ঐতিহ্যবাহী কেরু চিনি শিল্পের প্রধান কাঁচামাল আখ। চিনি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আখ চাষের কোন বিকল্প নেই। আগামীতে আরও লাভের দিকে অগ্রসর হবে কেরু ইনশাল্লাহ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৩৮ সালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে প্রতিষ্ঠিত হয় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। বর্তমানে ছয়টি ইউনিটে চিনি, ডিস্টিলারি, ফার্মাসিউটিক্যালস, বাণিজ্যিক খামার, আকন্দবাড়িয়া খামার (পরীক্ষামূলক) এবং জৈব সার উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এরমধ্যে শুধু ডিস্টিলারি (মদ) ইউনিটই লাভজনক।
২০২৫-২৬ অর্থ বছর লাভ-ক্ষতির হিসাব অনুযায়ী, সব ইউনিট মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য নিট মুনাফা দাড়াতে পারে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা।
এই হিসাব বাস্তবায়িত হলে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে করা প্রতিষ্ঠার পর সর্বোচ্চ ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকার নিট মুনাফার রেকর্ড ভেঙে যাবে।
২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ছয় টির মধ্যে পাঁচটি ইউনিটে লাভ দেখানো হয়েছে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি বায়ো-ফার্টিলাইজার ইউনিটে সম্ভাব্য লাভ ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, বাণিজ্যিক খামারে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার টাকা, আকন্দবাড়ীয়া ইউনিটে ৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ডিস্টিলারি ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিটে ৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা লাভ দেখানো হয়েছে।
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি ইউনিট নয়টি ব্র্যান্ডের মদ তৈরি করে। এরমধ্যে- ইয়েলো লেভেল মল্টেড হুইস্কি, গোল্ড রিবন জিন, ফাইন ব্র্যান্ডি, চেরি ব্র্যান্ডি, ইম্পেরিয়াল হুইস্কি, অরেঞ্জ কুরাসাও, জারিনা ভদকা, রোজা রাম এবং ওল্ড রাম। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির তিনটি বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে।
এছাড়া সারাদেশে কেরুর ১৩টি ওয়্যারহাউস রয়েছে। কারখানা আরও বেশি উৎপাদনে সক্ষম। এখানে অ্যালকোহলের পাশাপাশি ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সার, চিনি ও গুড়ের মতো অন্যান্য পণ্যও উৎপাদন করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।
১৮০৩ সালে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী জন ম্যাক্সওয়েল চোলাই মদের কারখানা (ডিস্টিলারি) হিসেবে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এটিই উপমহাদেশের প্রথম ডিস্টিলারি। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর এটি পূর্ব পাকিস্তানে অধীনে পড়ে।
পরে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তারপর থেকে এটি বাংলাদেশের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকার দর্শনার ডিস্টিলারিটি জাতীয়করণ করে। তখন থেকে এটি "কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড" নামে পরিচিত।
