নেত্রকোনায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আগে সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা বাজারে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে সালিশ বৈঠক বসে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা আব্দুল হাই মুন্সি, আতাউর রহমান, স্থানীয় জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন ও দৌলত মিয়াসহ এলাকাবাসী বিচারে রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য ৭ দিনের সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়।
তবে বিএনপি কার্যালয়ে ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ সালিশে নিষ্পত্তির চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা এটিকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার শামিল বলে দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত রিপন মিয়া (৪০) নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী (১৫) তার প্রতিবেশী।
এলাকাবাসী ও মেয়েটির পরিবারের ভাষ্য, গত কয়েক মাস ধরে রিপন মিয়া ওই কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাড়ির উঠানে রান্নার সময় কৌশলে তাকে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয় দুজন ঘটনাটি দেখে ফেললে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সালিশের ভিডিওতে রিপন মিয়াকে বলতে শোনা যায়, "আমার দোষ থাকলেও আছে, না থাকলেও আমি সবার সিদ্ধান্ত মেনে নেব।" ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসীরা বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে নিষ্পত্তি করা ঠিক হয়নি। এ ধরনের অপরাধের বিচার আদালতেই হওয়া উচিত।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান জানান, "মেয়েটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের। টাকার লোভ দেখিয়ে রিপন তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। ঘটনাটি জোরপূর্বক ধর্ষণ নয় বলেই আমরা জেনেছি। পরিবারের মামলা চালানোর সামর্থ্য নেই, তাই সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছে।"
অভিযুক্তের স্ত্রী চম্পা আক্তার দাবি করেন, "ধর্ষণের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এলাকার কিছু লোক হিংসাত্মক মনোভাব থেকে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।"
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রিপন মিয়া পলাতক রয়েছেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো. আবুল খায়ের বলেন, "মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ণ
নেত্রকোনায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আগে সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা বাজারে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে সালিশ বৈঠক বসে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা আব্দুল হাই মুন্সি, আতাউর রহমান, স্থানীয় জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন ও দৌলত মিয়াসহ এলাকাবাসী বিচারে রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য ৭ দিনের সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়।
তবে বিএনপি কার্যালয়ে ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ সালিশে নিষ্পত্তির চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা এটিকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার শামিল বলে দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত রিপন মিয়া (৪০) নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী (১৫) তার প্রতিবেশী।
এলাকাবাসী ও মেয়েটির পরিবারের ভাষ্য, গত কয়েক মাস ধরে রিপন মিয়া ওই কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাড়ির উঠানে রান্নার সময় কৌশলে তাকে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয় দুজন ঘটনাটি দেখে ফেললে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সালিশের ভিডিওতে রিপন মিয়াকে বলতে শোনা যায়, "আমার দোষ থাকলেও আছে, না থাকলেও আমি সবার সিদ্ধান্ত মেনে নেব।" ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসীরা বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে নিষ্পত্তি করা ঠিক হয়নি। এ ধরনের অপরাধের বিচার আদালতেই হওয়া উচিত।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান জানান, "মেয়েটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের। টাকার লোভ দেখিয়ে রিপন তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। ঘটনাটি জোরপূর্বক ধর্ষণ নয় বলেই আমরা জেনেছি। পরিবারের মামলা চালানোর সামর্থ্য নেই, তাই সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছে।"
অভিযুক্তের স্ত্রী চম্পা আক্তার দাবি করেন, "ধর্ষণের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এলাকার কিছু লোক হিংসাত্মক মনোভাব থেকে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।"
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রিপন মিয়া পলাতক রয়েছেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো. আবুল খায়ের বলেন, "মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
