গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে এক কথিত সাংবাদিকসহ তিন যুবককে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযুক্তদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া যুবকরা হলেন— তাজিম চৌধুরী (১৯), সোহাগ সেন (১৯) ও সম্পদ বিশ্বাস (২১)। ঘটনার সাথে জড়িত ইউসুফ বিশ্বাস (২১) নামে অপর এক আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আটককৃতদের মধ্যে সোহাগ সেন নিজেকে দৈনিক ‘আমাদের বাংলা’ ও ‘ডেইলি প্রেসিডেন্ট টাইমস’-এর জেলা প্রতিনিধি এবং ‘চ্যানেল-এস’ টেলিভিশনের চিত্রগ্রাহক (ক্যামেরাপার্সন) হিসেবে দাবি করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, রাতে অ্যাকাডেমিক প্রেজেন্টেশন শেষে তিনি ও তাঁর সহপাঠীরা একসঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বহিরাগত ওই চার যুবক তাঁর এক সহপাঠীকে ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীর বিস্তারিত পরিচয় ও তথ্য জানতে চান। বিষয়টি বুঝতে পেরে সহপাঠী সেখান থেকে সরে আসেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা একটি অটোরিকশায় করে ক্যাম্পাসে ফেরার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁদের পিছু নেন এবং উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা টের পেয়ে তিনজনকে ধরে গণধোলাই দেন এবং তাঁদের দুটি মোটরসাইকেল ভেঙে ফেলেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীরা তিন যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আটককৃতদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আহসান বলেন, "অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় যে ঘাটতি ছিল, সে বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে এক কথিত সাংবাদিকসহ তিন যুবককে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযুক্তদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া যুবকরা হলেন— তাজিম চৌধুরী (১৯), সোহাগ সেন (১৯) ও সম্পদ বিশ্বাস (২১)। ঘটনার সাথে জড়িত ইউসুফ বিশ্বাস (২১) নামে অপর এক আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আটককৃতদের মধ্যে সোহাগ সেন নিজেকে দৈনিক ‘আমাদের বাংলা’ ও ‘ডেইলি প্রেসিডেন্ট টাইমস’-এর জেলা প্রতিনিধি এবং ‘চ্যানেল-এস’ টেলিভিশনের চিত্রগ্রাহক (ক্যামেরাপার্সন) হিসেবে দাবি করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, রাতে অ্যাকাডেমিক প্রেজেন্টেশন শেষে তিনি ও তাঁর সহপাঠীরা একসঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বহিরাগত ওই চার যুবক তাঁর এক সহপাঠীকে ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীর বিস্তারিত পরিচয় ও তথ্য জানতে চান। বিষয়টি বুঝতে পেরে সহপাঠী সেখান থেকে সরে আসেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা একটি অটোরিকশায় করে ক্যাম্পাসে ফেরার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁদের পিছু নেন এবং উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা টের পেয়ে তিনজনকে ধরে গণধোলাই দেন এবং তাঁদের দুটি মোটরসাইকেল ভেঙে ফেলেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীরা তিন যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আটককৃতদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আহসান বলেন, "অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় যে ঘাটতি ছিল, সে বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
