যশোরের চৌগাছা উপজেলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলামকে ঘিরে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের পুরোনো নথি, মামলার কাগজপত্র এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বক্তব্যে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পাওয়া যাচ্ছে পরস্পরবিরোধী তথ্য। বিএনপির একটি অংশের দাবি, রবিউল একসময় আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে গ্রেপ্তারের পর তাকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
রবিউল ইসলাম যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। গত ১ অক্টোবর রাত সোয়া ১১টার দিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে চৌগাছা থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বরের একটি নথির কথা সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই নথিতে তৎকালীন চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হাবিবুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে এবং রবিউল ইসলামকে ১০ নম্বর নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি যশোর আদালতে দায়ের করা একটি জমিজমা-সংক্রান্ত মামলার নথিতেও রবিউল নিজেকে আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই মামলার নথিতে প্রতিপক্ষকে জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রবিউল প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করতেন। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের হয়রানি, পুলিশ দিয়ে চাপ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রবিউলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চৌগাছার গুয়াতলী গ্রামের বাজে খানপুর এলাকায় মোস্তফার পোল্ট্রি ফার্মের কাছে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। এসব অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলাম বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গ্রেপ্তারের পর রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা রবিউলকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশের কাছে তার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার পুরোনো নথি থাকায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এ বিষয়ে নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডাবলু বলেন, “২০১৩ সালে রবিউল আওয়ামী লীগের কমিটিতে ছিল। ওই কমিটি ২০১৮ সালে বিলুপ্ত হয়। এরপর সে বিএনপির সঙ্গে আছে।”
তবে বিএনপির স্থানীয় একটি অংশের নেতাকর্মীরা এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা অনেক ব্যক্তি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে বিএনপির পরিচয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। রবিউলকেও একই প্রক্রিয়ায় বিএনপির কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আজিজুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সেলিম রেজা, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম এবং যশোর জেলা শ্রমিক দলের সহসভাপতি মহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরা যদি হঠাৎ বিএনপির পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন, তাহলে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এতে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, নারায়ণপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকা ব্যক্তিদের একটি অংশ বর্তমানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। তাদের আরও অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা অর্থের বিনিময়ে এসব ব্যক্তিকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, রবিউলের মতো আরও কয়েকজন ব্যক্তি চৌগাছায় রয়েছেন, যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে এলাকায় পরিচিত। বর্তমানে তারা বিএনপির পরিচয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, এ বিষয়ে দলীয়ভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মী ও সুবিধাবাদীদের আলাদা করা প্রয়োজন।
এদিকে রবিউলকে আদালতে পাঠানোর পর চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে আসে। রবিউলের ছেলে আলামিন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে ওসি মামুনুর রশিদসহ অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ করা হয়েছে।
গ করা হয়েছে।
রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের দাবি, তাকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় করিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই ওসি মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে পুলিশ কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রবিউলের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় আরেকটি পক্ষের দাবি, ওসি মামুনুর রশিদ দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার ওপর ক্ষুব্ধ। ওই মহলই পুলিশ কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্য ছড়াচ্ছে বলে তাদের দাবি।
ফলে রবিউল ইসলামকে ঘিরে এখন দুটি বিষয় সামনে এসেছে—একদিকে তার প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় কী ছিল, অন্যদিকে গ্রেপ্তারের পর তাকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না। পাশাপাশি পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান দাবি বা কোনো দলীয় প্যাডের প্রত্যয়ন নয়, বরং পুরোনো দলীয় নথি, সাংগঠনিক রেকর্ড, মামলা-মোকদ্দমার কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আলামিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রবিউল ইসলামের রাজনৈতিক পরিচয়, তাকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ—সবকিছুর প্রকৃত সত্য সংশ্লিষ্ট নথি, তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ণ
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলামকে ঘিরে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের পুরোনো নথি, মামলার কাগজপত্র এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বক্তব্যে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পাওয়া যাচ্ছে পরস্পরবিরোধী তথ্য। বিএনপির একটি অংশের দাবি, রবিউল একসময় আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে গ্রেপ্তারের পর তাকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
রবিউল ইসলাম যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। গত ১ অক্টোবর রাত সোয়া ১১টার দিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে চৌগাছা থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বরের একটি নথির কথা সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই নথিতে তৎকালীন চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হাবিবুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে এবং রবিউল ইসলামকে ১০ নম্বর নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি যশোর আদালতে দায়ের করা একটি জমিজমা-সংক্রান্ত মামলার নথিতেও রবিউল নিজেকে আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই মামলার নথিতে প্রতিপক্ষকে জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রবিউল প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করতেন। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের হয়রানি, পুলিশ দিয়ে চাপ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রবিউলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চৌগাছার গুয়াতলী গ্রামের বাজে খানপুর এলাকায় মোস্তফার পোল্ট্রি ফার্মের কাছে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। এসব অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলাম বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গ্রেপ্তারের পর রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা রবিউলকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশের কাছে তার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার পুরোনো নথি থাকায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এ বিষয়ে নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডাবলু বলেন, “২০১৩ সালে রবিউল আওয়ামী লীগের কমিটিতে ছিল। ওই কমিটি ২০১৮ সালে বিলুপ্ত হয়। এরপর সে বিএনপির সঙ্গে আছে।”
তবে বিএনপির স্থানীয় একটি অংশের নেতাকর্মীরা এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা অনেক ব্যক্তি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে বিএনপির পরিচয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। রবিউলকেও একই প্রক্রিয়ায় বিএনপির কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আজিজুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সেলিম রেজা, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম এবং যশোর জেলা শ্রমিক দলের সহসভাপতি মহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরা যদি হঠাৎ বিএনপির পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন, তাহলে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এতে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, নারায়ণপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকা ব্যক্তিদের একটি অংশ বর্তমানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। তাদের আরও অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা অর্থের বিনিময়ে এসব ব্যক্তিকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, রবিউলের মতো আরও কয়েকজন ব্যক্তি চৌগাছায় রয়েছেন, যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে এলাকায় পরিচিত। বর্তমানে তারা বিএনপির পরিচয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, এ বিষয়ে দলীয়ভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মী ও সুবিধাবাদীদের আলাদা করা প্রয়োজন।
এদিকে রবিউলকে আদালতে পাঠানোর পর চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে আসে। রবিউলের ছেলে আলামিন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে ওসি মামুনুর রশিদসহ অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ করা হয়েছে।
গ করা হয়েছে।
রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের দাবি, তাকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় করিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই ওসি মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে পুলিশ কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রবিউলের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় আরেকটি পক্ষের দাবি, ওসি মামুনুর রশিদ দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার ওপর ক্ষুব্ধ। ওই মহলই পুলিশ কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্য ছড়াচ্ছে বলে তাদের দাবি।
ফলে রবিউল ইসলামকে ঘিরে এখন দুটি বিষয় সামনে এসেছে—একদিকে তার প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় কী ছিল, অন্যদিকে গ্রেপ্তারের পর তাকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না। পাশাপাশি পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান দাবি বা কোনো দলীয় প্যাডের প্রত্যয়ন নয়, বরং পুরোনো দলীয় নথি, সাংগঠনিক রেকর্ড, মামলা-মোকদ্দমার কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আলামিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রবিউল ইসলামের রাজনৈতিক পরিচয়, তাকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ—সবকিছুর প্রকৃত সত্য সংশ্লিষ্ট নথি, তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
