রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

বকশীগঞ্জের পাহাড়ি ঢালে শিমুল আলু: কৃষকের নতুন স্বপ্ন


তৌহিদ হাসান
জামালপুর জেলা প্রতিনিধি , 2 ফলোয়ার
প্রকাশ : রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

বকশীগঞ্জের পাহাড়ি ঢালে শিমুল আলু: কৃষকের নতুন স্বপ্ন

একসময় যা বিবেচিত হতো অবহেলিত ও অনাবাদি জমির অনাকাঙ্ক্ষিত ফসল হিসেবে, সেই শিমুল আলু বা ‘কাসাভা’ এখন জামালপুরের সীমান্ত জনপদে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হয়ে উঠেছে। স্থানীয়ভাবে ‘কাঠা আলু’ নামে পরিচিত পুষ্টিকর এই কন্দজাতীয় ফসলটি চাষ করে নতুন স্বপ্নের বুনন করছেন বকশীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকরা।

​উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের লাউচাপড়া, বালিঝুরি ও সুমন্নাতপাড়ার পাহাড়ি ঢালু জমিগুলোতে প্রথাগত ফসল ফলানো বেশ কঠিন ও ব্যয়বহুল। তবে মাটি ও আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও কাসাভার ক্ষেত্রে তা বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। অনুর্বর জমিতেও ভালো ফলন মেলায় স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

​সুমন্নাতপাড়া গ্রামের আদিবাসী কৃষক সাগর খাগসী কাসাভা চাষের এই ধারায় অন্যতম পথিকৃৎ। শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে অল্প জমিতে চাষ করলেও ফলন ভালো পেয়ে এবার বড় পরিসরে নেমেছেন তিনি। চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় দুই একর পাহাড়ি জমিতে শিমুল আলুর আবাদ করেছেন। সাগর খাগসী জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় এতে বাড়তি পরিচর্যা, সার কিংবা কীটনাশকের প্রয়োজন পড়ে না বললেই চলে। পাহাড়ি ঢালে সহজেই বেড়ে ওঠার কারণে এর উৎপাদন খরচও তুলনামূলক অনেক কম।

​স্থানীয় অন্য কৃষকদের মধ্যেও এখন ছড়িয়ে পড়ছে শিমুল আলু চাষের আগ্রহ। জসিম ও প্রবিদ নামে দুজন স্থানীয় কৃষক জানান, পাহাড়ি জমির উর্বরতা কম হওয়ায় ধান বা অন্যান্য ফসল থেকে লাভ তোলা কঠিন ছিল। কিন্তু কাসাভা কম পরিচর্যাতেই ভালো ফলন দিচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগাতে কৃষি বিভাগের তদারকি এবং সঠিক বাজারজাতকরণের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

​খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, কাসাভা কেবল কৃষকের আয়ের উৎস নয়, বরং পুষ্টির এক অনন্য আধার। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এতে প্রয়োজনীয় খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও বিদ্যমান। কৃষকদের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে এই কাসাভা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি করা গেলে শুধু কাঁচা কন্দ বিক্রিই নয়, প্রক্রিয়াজাত পণ্যের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব।

​সার্বিক বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, কাসাভা বা শিমুল আলু তুলনামূলকভাবে কম উর্বর ও পাহাড়ি জমিতে চাষের উপযোগী একটি ফসল। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে এ ফসল থেকে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, বকশীগঞ্জের পাহাড়ি এলাকার যেসব জমিতে প্রচলিত ফসলের আবাদ তুলনামূলক কঠিন, সেসব জমিতে বিকল্প ফসল হিসেবে কাসাভা চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা যদি ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পান, তাহলে ভবিষ্যতে এ ফসলের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।


কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, কাসাভা চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি উৎপাদন, ফলন, বাজারজাতকরণ ও কৃষকের লাভ-ক্ষতির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে এ ফসলের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে।


এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


বকশীগঞ্জের পাহাড়ি ঢালে শিমুল আলু: কৃষকের নতুন স্বপ্ন

প্রকাশের তারিখ : রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

featured Image

একসময় যা বিবেচিত হতো অবহেলিত ও অনাবাদি জমির অনাকাঙ্ক্ষিত ফসল হিসেবে, সেই শিমুল আলু বা ‘কাসাভা’ এখন জামালপুরের সীমান্ত জনপদে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হয়ে উঠেছে। স্থানীয়ভাবে ‘কাঠা আলু’ নামে পরিচিত পুষ্টিকর এই কন্দজাতীয় ফসলটি চাষ করে নতুন স্বপ্নের বুনন করছেন বকশীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকরা।

​উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের লাউচাপড়া, বালিঝুরি ও সুমন্নাতপাড়ার পাহাড়ি ঢালু জমিগুলোতে প্রথাগত ফসল ফলানো বেশ কঠিন ও ব্যয়বহুল। তবে মাটি ও আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও কাসাভার ক্ষেত্রে তা বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। অনুর্বর জমিতেও ভালো ফলন মেলায় স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

​সুমন্নাতপাড়া গ্রামের আদিবাসী কৃষক সাগর খাগসী কাসাভা চাষের এই ধারায় অন্যতম পথিকৃৎ। শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে অল্প জমিতে চাষ করলেও ফলন ভালো পেয়ে এবার বড় পরিসরে নেমেছেন তিনি। চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় দুই একর পাহাড়ি জমিতে শিমুল আলুর আবাদ করেছেন। সাগর খাগসী জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় এতে বাড়তি পরিচর্যা, সার কিংবা কীটনাশকের প্রয়োজন পড়ে না বললেই চলে। পাহাড়ি ঢালে সহজেই বেড়ে ওঠার কারণে এর উৎপাদন খরচও তুলনামূলক অনেক কম।

​স্থানীয় অন্য কৃষকদের মধ্যেও এখন ছড়িয়ে পড়ছে শিমুল আলু চাষের আগ্রহ। জসিম ও প্রবিদ নামে দুজন স্থানীয় কৃষক জানান, পাহাড়ি জমির উর্বরতা কম হওয়ায় ধান বা অন্যান্য ফসল থেকে লাভ তোলা কঠিন ছিল। কিন্তু কাসাভা কম পরিচর্যাতেই ভালো ফলন দিচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগাতে কৃষি বিভাগের তদারকি এবং সঠিক বাজারজাতকরণের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

​খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, কাসাভা কেবল কৃষকের আয়ের উৎস নয়, বরং পুষ্টির এক অনন্য আধার। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এতে প্রয়োজনীয় খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও বিদ্যমান। কৃষকদের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে এই কাসাভা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি করা গেলে শুধু কাঁচা কন্দ বিক্রিই নয়, প্রক্রিয়াজাত পণ্যের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব।

​সার্বিক বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, কাসাভা বা শিমুল আলু তুলনামূলকভাবে কম উর্বর ও পাহাড়ি জমিতে চাষের উপযোগী একটি ফসল। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে এ ফসল থেকে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, বকশীগঞ্জের পাহাড়ি এলাকার যেসব জমিতে প্রচলিত ফসলের আবাদ তুলনামূলক কঠিন, সেসব জমিতে বিকল্প ফসল হিসেবে কাসাভা চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা যদি ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পান, তাহলে ভবিষ্যতে এ ফসলের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।


কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, কাসাভা চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি উৎপাদন, ফলন, বাজারজাতকরণ ও কৃষকের লাভ-ক্ষতির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে এ ফসলের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে।



ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত
চেয়ারম্যান- মো: এনায়েত হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর- মো: মনিরুজ্জামান
প্রধান সম্পাদক:
নির্বাহী সম্পাদক-
বার্তা সম্পাদক-

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বকশীগঞ্জের পাহাড়ি ঢালে শিমুল আলু: কৃষকের নতুন স্বপ্ন
0:00 / 0:00
1x