রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

গ্রাম বাচাঁতে মুন্সীগঞ্জে আমেরিকা প্রবাসী নিজের টাকায় নদী তীরে বাধ নির্মাণ


মোঃ রেজাউল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিনিধি , 2 ফলোয়ার
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

গ্রাম বাচাঁতে মুন্সীগঞ্জে আমেরিকা প্রবাসী নিজের টাকায় নদী তীরে বাধ নির্মাণ

নিজের জন্মভূমি, নিজের গ্রাম। নদীতে ভেঙে যাচ্ছে দেখে চুপ করে বসে থাকতে পারেননি। তাই আমেরিকা থেকে উড়ে এসে পৈতৃক ভিটা আর ১০ হাজার মানুষের ঠিকানা বাঁচাতে নিজের পকেটের প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করে নদী তীরে বাধ নির্মাণ করছেন ।

তিনি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বানারী গ্রামের সন্তান, আমেরিকান প্রবাসী ইমরান মিয়া। ১৯৯০ সালে পদ্মা গ্রাস করে নিয়েছিল তার পৈতৃক ভিটা। ৫ বছর পর সেই পদ্মার বুকেই আবার জেগে ওঠে চর। প্রায় ২০ বছর আগে সেই চরেই আবার বসতি গড়েন ইমরান।

শুধু বাড়ি নয়, গড়ে তোলেন অত্যাধুনিক এক পার্কের আদলে বাড়ি। দুই পাশে পদ্মা, মাঝে তার স্বপ্নের বাড়ি। সেখানে ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি পালতেন। পার্কটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন টিকিট ছাড়াই। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতো ঘুরতো এবং পিকনিক স্পট হিসাবে স্থানের পরিচিতও ছিল বেশ। প্রতি বছর আমেরিকা থেকে এসে স্ত্রীকে নিয়ে এখানেই থাকতেন তিনি। কিন্তু গত ১০ দিনে পদ্মার ভয়াল ভাঙন সব শেষ করে দেয়ার উপক্রম। মুহূর্তে ঝুঁকিতে পড়ে ইমরান মিয়ার বাড়িসহ পুরো বানারী গ্রাম।  গ্রামের অসহায় মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকিয়ে আর দেরি করেননি। নিজের অর্থায়নেই শুরু করেন ভাঙনরোধে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ। তার এই উদ্যেগ দেখে পাশে দারিয়েছে পানি উন্নায়ন বোর্ডও।  সরেজমিনে দেখা যায়, মিয়া বাড়ির বেশ কিছু অংশ এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর পাড়ে দিন-রাত চলছে বালুর বস্তা ফেলার কাজ।

ইমরান মিয়া বলেন, আমাদের পৈত্রিকা ভিটাটি ৯০ সালে পদ্মায় বিলীন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ৫ বছর পর আবার জেগে উঠে চর।  চর উঠার পরে দু-পাশেই পদ্মা নদী  কয়েক কিলোমিটার দূরে ছিল। নদী পার হয়ে ২০০ টাকা মটরসাইকেল ভাড়া দিয়ে বাড়িতে আসতাম। এখন বাড়ির গোড়ায় নদী। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু এখানে ১০ হাজার পরিবার। তাদের বাঁচাতে হলে সরকারিভাবে স্থায়ী বাঁধ চাই।

স্থাণীয়রা বলেন, বানারী গ্রামে রয়েছে বানারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুচ্ছগ্রাম ও একাধিক মসজিদ। এর পাশে বিধুয়াইল, নগর জোয়ার পাশেই ফরিদপুরের জাজিরা ইউনিয়ন। টঙ্গীবাড়ী ও জাজিরা মিলিয়ে এই অঞ্চলে  প্রায় ১০ হাজার পরিবারের বসবাস।
বানারী গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় বলেন, আমাদের গ্রামে কয়েকটি মসজিদ, গুচ্ছগ্রাম, স্কুল আছে। আগে পদ্মা এখানে ছিল না অনেক দূরে ছিলো ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এখন আসছে।
আরেক বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগেও নদী অনেক দূরে ছিল। অল্প অল্প করে ভাঙতে ভাঙতে এখন বাড়ির কাছে। অনেক জমি নদীতে চলে গেছে। এ বছর বর্ষার শুরু থেকেই ভাঙন তীব্র। যদি দ্রুত বালুর বস্তা না ফেলা হয় তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী বাঁধ নয়, পুরো গ্রাম রক্ষায় স্থায়ী ব্লক বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তানা হলে যেকোনো সময় নদীতে তলিয়ে যাবে স্কুল, মসজিদ, গুচ্ছগ্রামসহ পুরো জনপদ।

এই ভাঙনরোধে শুধু ইমরান মিয়া একা নন, পাশে দাঁড়িয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড – পাউবো।

পাউবোর মাঠ কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে এখানে ভাঙন চলছে। আগেও আমরা বালুর বস্তা ফেলেছিলাম, কিন্তু স্রোতে সরে গেছে। এখন ব্যক্তি উদ্যোগে ইমরান মিয়া বাঁধ দিচ্ছেন, পাশাপাশি আমরাও কাজ করছি।

এদিকে শুধু বানারী গ্রামে নয় উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মুন্সীগঞ্জ সংলগ্ন পদ্মা নদীতে  তীব্র স্রোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে  সদর উপজেলার শিলই রাকির কান্দিসহ নদীতীরের কয়েকটি এলাকায়। বাড়ছে ধলেশ্বরী নদীসহ মেঘনার পানিও। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, জেলার নদীগুলোতে পানির স্তর বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে। তবে এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে পানি। সরেজমিনে পদ্মা নদী পরের টঙ্গিবাড়ী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীতে পানির তীব্র প্রবাহ। ভাঙ্গনের কারনে নদীর স্রোতে চলাচল করতে বেগ পেতে হচ্ছে ছোট নৌযানগুলোকে। স্থানীয় কয়েকজন জানান, গত দুই দিন ধরে বেড়েছে স্রোতের তীব্রতা।

স্থানীয়  ট্রলারচালক শহিদুল বলেন, কয়েকদিন যাবৎ নদীতে ত্রীব স্রোত। পানি বারছে। পানি বাড়ার আমরাও ভাঙন-আতঙ্কেও আছি।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, উজান হতে পদ্মা  দিয়ে পানি নামছে। নদীতে স্রোতের ত্রীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারনে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আমরা ভাঙ্গনরোধে সর্বাত্নক চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের গরীব দেশ আমাদের পানি উন্নায়ন বোর্ডের লোকজনও কম তারপরেও নদী ভাঙ্গার বিষয়টি উদ্ধতন কর্তপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে ভাঙন রোধ আমাদের কাজ চলছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


গ্রাম বাচাঁতে মুন্সীগঞ্জে আমেরিকা প্রবাসী নিজের টাকায় নদী তীরে বাধ নির্মাণ

প্রকাশের তারিখ : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ণ

featured Image

নিজের জন্মভূমি, নিজের গ্রাম। নদীতে ভেঙে যাচ্ছে দেখে চুপ করে বসে থাকতে পারেননি। তাই আমেরিকা থেকে উড়ে এসে পৈতৃক ভিটা আর ১০ হাজার মানুষের ঠিকানা বাঁচাতে নিজের পকেটের প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করে নদী তীরে বাধ নির্মাণ করছেন ।

তিনি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বানারী গ্রামের সন্তান, আমেরিকান প্রবাসী ইমরান মিয়া। ১৯৯০ সালে পদ্মা গ্রাস করে নিয়েছিল তার পৈতৃক ভিটা। ৫ বছর পর সেই পদ্মার বুকেই আবার জেগে ওঠে চর। প্রায় ২০ বছর আগে সেই চরেই আবার বসতি গড়েন ইমরান।

শুধু বাড়ি নয়, গড়ে তোলেন অত্যাধুনিক এক পার্কের আদলে বাড়ি। দুই পাশে পদ্মা, মাঝে তার স্বপ্নের বাড়ি। সেখানে ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি পালতেন। পার্কটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন টিকিট ছাড়াই। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতো ঘুরতো এবং পিকনিক স্পট হিসাবে স্থানের পরিচিতও ছিল বেশ। প্রতি বছর আমেরিকা থেকে এসে স্ত্রীকে নিয়ে এখানেই থাকতেন তিনি। কিন্তু গত ১০ দিনে পদ্মার ভয়াল ভাঙন সব শেষ করে দেয়ার উপক্রম। মুহূর্তে ঝুঁকিতে পড়ে ইমরান মিয়ার বাড়িসহ পুরো বানারী গ্রাম।  গ্রামের অসহায় মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকিয়ে আর দেরি করেননি। নিজের অর্থায়নেই শুরু করেন ভাঙনরোধে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ। তার এই উদ্যেগ দেখে পাশে দারিয়েছে পানি উন্নায়ন বোর্ডও।  সরেজমিনে দেখা যায়, মিয়া বাড়ির বেশ কিছু অংশ এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর পাড়ে দিন-রাত চলছে বালুর বস্তা ফেলার কাজ।

ইমরান মিয়া বলেন, আমাদের পৈত্রিকা ভিটাটি ৯০ সালে পদ্মায় বিলীন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ৫ বছর পর আবার জেগে উঠে চর।  চর উঠার পরে দু-পাশেই পদ্মা নদী  কয়েক কিলোমিটার দূরে ছিল। নদী পার হয়ে ২০০ টাকা মটরসাইকেল ভাড়া দিয়ে বাড়িতে আসতাম। এখন বাড়ির গোড়ায় নদী। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু এখানে ১০ হাজার পরিবার। তাদের বাঁচাতে হলে সরকারিভাবে স্থায়ী বাঁধ চাই।

স্থাণীয়রা বলেন, বানারী গ্রামে রয়েছে বানারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুচ্ছগ্রাম ও একাধিক মসজিদ। এর পাশে বিধুয়াইল, নগর জোয়ার পাশেই ফরিদপুরের জাজিরা ইউনিয়ন। টঙ্গীবাড়ী ও জাজিরা মিলিয়ে এই অঞ্চলে  প্রায় ১০ হাজার পরিবারের বসবাস।
বানারী গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় বলেন, আমাদের গ্রামে কয়েকটি মসজিদ, গুচ্ছগ্রাম, স্কুল আছে। আগে পদ্মা এখানে ছিল না অনেক দূরে ছিলো ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এখন আসছে।
আরেক বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগেও নদী অনেক দূরে ছিল। অল্প অল্প করে ভাঙতে ভাঙতে এখন বাড়ির কাছে। অনেক জমি নদীতে চলে গেছে। এ বছর বর্ষার শুরু থেকেই ভাঙন তীব্র। যদি দ্রুত বালুর বস্তা না ফেলা হয় তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী বাঁধ নয়, পুরো গ্রাম রক্ষায় স্থায়ী ব্লক বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তানা হলে যেকোনো সময় নদীতে তলিয়ে যাবে স্কুল, মসজিদ, গুচ্ছগ্রামসহ পুরো জনপদ।

এই ভাঙনরোধে শুধু ইমরান মিয়া একা নন, পাশে দাঁড়িয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড – পাউবো।

পাউবোর মাঠ কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে এখানে ভাঙন চলছে। আগেও আমরা বালুর বস্তা ফেলেছিলাম, কিন্তু স্রোতে সরে গেছে। এখন ব্যক্তি উদ্যোগে ইমরান মিয়া বাঁধ দিচ্ছেন, পাশাপাশি আমরাও কাজ করছি।

এদিকে শুধু বানারী গ্রামে নয় উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মুন্সীগঞ্জ সংলগ্ন পদ্মা নদীতে  তীব্র স্রোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে  সদর উপজেলার শিলই রাকির কান্দিসহ নদীতীরের কয়েকটি এলাকায়। বাড়ছে ধলেশ্বরী নদীসহ মেঘনার পানিও। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, জেলার নদীগুলোতে পানির স্তর বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে। তবে এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে পানি। সরেজমিনে পদ্মা নদী পরের টঙ্গিবাড়ী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীতে পানির তীব্র প্রবাহ। ভাঙ্গনের কারনে নদীর স্রোতে চলাচল করতে বেগ পেতে হচ্ছে ছোট নৌযানগুলোকে। স্থানীয় কয়েকজন জানান, গত দুই দিন ধরে বেড়েছে স্রোতের তীব্রতা।

স্থানীয়  ট্রলারচালক শহিদুল বলেন, কয়েকদিন যাবৎ নদীতে ত্রীব স্রোত। পানি বারছে। পানি বাড়ার আমরাও ভাঙন-আতঙ্কেও আছি।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, উজান হতে পদ্মা  দিয়ে পানি নামছে। নদীতে স্রোতের ত্রীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারনে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আমরা ভাঙ্গনরোধে সর্বাত্নক চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের গরীব দেশ আমাদের পানি উন্নায়ন বোর্ডের লোকজনও কম তারপরেও নদী ভাঙ্গার বিষয়টি উদ্ধতন কর্তপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে ভাঙন রোধ আমাদের কাজ চলছে।


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত
চেয়ারম্যান- মো: এনায়েত হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর- মো: মনিরুজ্জামান
প্রধান সম্পাদক:
নির্বাহী সম্পাদক-
বার্তা সম্পাদক-

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
গ্রাম বাচাঁতে মুন্সীগঞ্জে আমেরিকা প্রবাসী নিজের টাকায় নদী তীরে বাধ নির্মাণ
0:00 / 0:00
1x