নোয়াখালীর সদর উপজেলা শহরের দত্তেরহাট এলাকায় একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে (১৩) বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
রোববার বিকেলে উক্ত প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার, আবুল হোসেনকে (৫৪) ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুধারাম থানার ওসি নজরুল ইসলাম।
উক্ত বিষয়টি নিয়ে, সরেজমিন বার্তাকে সুদাম থানার ওসি জানান, নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল পুলিশ। পরিবার মামলা করতে কিছুটা সময় নেওয়ায় আপাতত আবুল হোসেনকে (৫৪(ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা যাবে।
মৃত্যুর বিষয়ে স্বজনদের অভিযোগ, শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় (১৩) বছর বয়সী মো. মোসলেমের চোখে আঘাত লাগে। পরে চোখের কোণে রক্ত জমে ফুলে গেলে তাকে দত্তেরহাটের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের এমডি আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর পরপরই শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে।
শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বজনরা আবুল হোসেনসহ শিশুটিকে সেখানে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোসলেমকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মোসলেম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে।
ঘটনার পর শনিবার রাতে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় কাউকে না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালী সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনা তদন্তে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ হাসনাত জাকি চৌধুরী এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা ফাত্তাহেল আলীম।
এদিকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রাজিব আহম্মেদ চৌধুরী জানান, রোববার বিকেলে মোসলেমের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ণ
নোয়াখালীর সদর উপজেলা শহরের দত্তেরহাট এলাকায় একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে (১৩) বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
রোববার বিকেলে উক্ত প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার, আবুল হোসেনকে (৫৪) ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুধারাম থানার ওসি নজরুল ইসলাম।
উক্ত বিষয়টি নিয়ে, সরেজমিন বার্তাকে সুদাম থানার ওসি জানান, নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল পুলিশ। পরিবার মামলা করতে কিছুটা সময় নেওয়ায় আপাতত আবুল হোসেনকে (৫৪(ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা যাবে।
মৃত্যুর বিষয়ে স্বজনদের অভিযোগ, শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় (১৩) বছর বয়সী মো. মোসলেমের চোখে আঘাত লাগে। পরে চোখের কোণে রক্ত জমে ফুলে গেলে তাকে দত্তেরহাটের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের এমডি আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর পরপরই শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে।
শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বজনরা আবুল হোসেনসহ শিশুটিকে সেখানে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোসলেমকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মোসলেম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে।
ঘটনার পর শনিবার রাতে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় কাউকে না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালী সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনা তদন্তে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ হাসনাত জাকি চৌধুরী এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা ফাত্তাহেল আলীম।
এদিকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রাজিব আহম্মেদ চৌধুরী জানান, রোববার বিকেলে মোসলেমের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
