‘একটি চারা, একটি ভবিষ্যৎ’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন রওশন আরা মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আল আজাদ। শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে শুধু বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মাঝে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের রওশনআরা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩০০টি রেইনট্রি গাছের চারা বিতরণ করেন সাবেক অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আল আজাদ। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি গাছ লাগানো, পরিচর্যা ও সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
জাহাঙ্গীর আল আজাদের এই সবুজায়ন কার্যক্রম শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর আগে তিনি মোরেলগঞ্জের এসিলাহা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, আব্দুল আজিজ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেছেন। তার লক্ষ্য—শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তোলা।
চারা নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার উদ্যোগ
চারা বিতরণ প্রসঙ্গে সাবেক অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আল আজাদ বলেন, “শুধু চারা বিতরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; এসব চারাকে যত্ন নিয়ে বড় করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। একটি গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অক্সিজেন, ছায়া ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম সহায়ক। তাই শিক্ষার্থীদের গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছের পরিচর্যায়ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে একটি সুন্দর, বাসযোগ্য ও সবুজ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহ
চারা বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। হাতে একটি করে গাছের চারা পেয়ে তারা আনন্দ প্রকাশ করে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের বাড়ির আঙিনা, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ কিংবা উপযুক্ত স্থানে চারা রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
শিক্ষকদের মতে, বইয়ের পাতায় পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব পড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে গাছ লাগানো ও পরিচর্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হলে তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা আরও গভীর হবে। জাহাঙ্গীর আল আজাদের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করছে।
উপস্থিত ছিলেন যারা
চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রওশনআরা মহিলা কলেজের অধ্যাপক আবু জাফর ফাইজুল হক, অধ্যাপক শেখ নজরুল ইসলাম, রওশনআরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লিপিকা রানী, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নুরুজ্জামানসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রশংসিত উদ্যোগ
মোরেলগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে ধারাবাহিকভাবে গাছের চারা বিতরণের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, গাছের চারা বিতরণ একটি ছোট উদ্যোগ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। আজ যে শিক্ষার্থীর হাতে একটি চারা তুলে দেওয়া হচ্ছে, আগামী দিনে সেই চারাই বড় হয়ে ছায়া, অক্সিজেন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জাহাঙ্গীর আল আজাদের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং মোরেলগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়কের পাশ, খেলার মাঠ ও খোলা জায়গায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে একটি সবুজ বলয় গড়ে উঠবে।
প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় এমন উদ্যোগ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, বরং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যয়। আর সেই প্রত্যয়কে সামনে রেখেই মোরেলগঞ্জে নীরবে সবুজের বার্তা ছড়িয়ে চলেছেন সাবেক অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আল আজাদ।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ণ
‘একটি চারা, একটি ভবিষ্যৎ’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন রওশন আরা মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আল আজাদ। শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে শুধু বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মাঝে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের রওশনআরা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩০০টি রেইনট্রি গাছের চারা বিতরণ করেন সাবেক অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আল আজাদ। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি গাছ লাগানো, পরিচর্যা ও সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
জাহাঙ্গীর আল আজাদের এই সবুজায়ন কার্যক্রম শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর আগে তিনি মোরেলগঞ্জের এসিলাহা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, আব্দুল আজিজ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেছেন। তার লক্ষ্য—শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তোলা।
চারা নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার উদ্যোগ
চারা বিতরণ প্রসঙ্গে সাবেক অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আল আজাদ বলেন, “শুধু চারা বিতরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; এসব চারাকে যত্ন নিয়ে বড় করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। একটি গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অক্সিজেন, ছায়া ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম সহায়ক। তাই শিক্ষার্থীদের গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছের পরিচর্যায়ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে একটি সুন্দর, বাসযোগ্য ও সবুজ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহ
চারা বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। হাতে একটি করে গাছের চারা পেয়ে তারা আনন্দ প্রকাশ করে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের বাড়ির আঙিনা, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ কিংবা উপযুক্ত স্থানে চারা রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
শিক্ষকদের মতে, বইয়ের পাতায় পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব পড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে গাছ লাগানো ও পরিচর্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হলে তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা আরও গভীর হবে। জাহাঙ্গীর আল আজাদের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করছে।
উপস্থিত ছিলেন যারা
চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রওশনআরা মহিলা কলেজের অধ্যাপক আবু জাফর ফাইজুল হক, অধ্যাপক শেখ নজরুল ইসলাম, রওশনআরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লিপিকা রানী, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নুরুজ্জামানসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রশংসিত উদ্যোগ
মোরেলগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে ধারাবাহিকভাবে গাছের চারা বিতরণের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, গাছের চারা বিতরণ একটি ছোট উদ্যোগ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। আজ যে শিক্ষার্থীর হাতে একটি চারা তুলে দেওয়া হচ্ছে, আগামী দিনে সেই চারাই বড় হয়ে ছায়া, অক্সিজেন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জাহাঙ্গীর আল আজাদের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং মোরেলগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়কের পাশ, খেলার মাঠ ও খোলা জায়গায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে একটি সবুজ বলয় গড়ে উঠবে।
প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় এমন উদ্যোগ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, বরং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যয়। আর সেই প্রত্যয়কে সামনে রেখেই মোরেলগঞ্জে নীরবে সবুজের বার্তা ছড়িয়ে চলেছেন সাবেক অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আল আজাদ।
