রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

পরকীয়া ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ট্রিপল মার্ডার, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩

বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের তিন খুনের রহস্য উদঘাটন


এস এম সাইফুল ইসলাম কবির
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি , 0 ফলোয়ার
প্রকাশ : রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের তিন খুনের রহস্য উদঘাটন

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বিরোধ, ঝগড়া ও ক্ষোভের জেরেই পরিকল্পিতভাবে এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের যৌথ দল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে যেকোনো সময় কচুয়ার চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করা হয়। ৪ আগস্ট সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কচুয়া থানায় ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির নম্বর ০২ এবং এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তে বেরিয়ে আসে পরকীয়া ও পারিবারিক বিরোধের তথ্য

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা ও কচুয়া থানা পুলিশের যৌথ দল। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার দাবি করে।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ আগস্ট অভিযানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মূল আসামি জাহিদুল ইসলাম, পিতা—মৃত মজিদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে অপর দুই আসামি আসাদুল শেখ, পিতা—সুলতান শেখ এবং মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু, পিতা—বারিক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় আসাদুল শেখের ঘর থেকে আলামত হিসেবে একটি ZENX-2 মোবাইল ফোন ও চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‘পরকীয়া সম্পর্ক’ ঘিরেই বিরোধ

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জানা যায়, নিহত আহাদের পরিবারের এক নারীর সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি উভয় পরিবারের মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর পারিবারিক বিরোধ তীব্র হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়কে কেন্দ্র করে নিহতদের একজন মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের একাধিকবার ঝগড়াঝাঁটি হয়। একই বিষয় নিয়ে জাহিদুলের নিজের স্ত্রীর সঙ্গেও পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ বলছে, এসব বিরোধ, ক্ষোভ ও প্রতিশোধের জেরেই জাহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন এবং অন্য দুই আসামির সহযোগিতায় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তির দাবি

জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে তাদের কথিত স্বীকারোক্তির বিস্তারিত তথ্য এবং হত্যাকাণ্ডে প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রকাশ করেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, পরিকল্পনা, সহযোগীদের ভূমিকা এবং অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ বলছে, রহস্যের জট খুলেছে

একই পরিবারের তিন সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছিল। অবশেষে তদন্তে পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তার, উদ্ধার করা আলামত এবং পুলিশের তদন্তে উঠে আসা এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ কারণ, আসামিদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই এ হত্যাকাণ্ডের দায় ও প্রকৃত ঘটনা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।ছবি: সংযুক্ত

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের তিন খুনের রহস্য উদঘাটন

প্রকাশের তারিখ : রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ অপরাহ্ণ

featured Image

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বিরোধ, ঝগড়া ও ক্ষোভের জেরেই পরিকল্পিতভাবে এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের যৌথ দল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে যেকোনো সময় কচুয়ার চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করা হয়। ৪ আগস্ট সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কচুয়া থানায় ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির নম্বর ০২ এবং এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তে বেরিয়ে আসে পরকীয়া ও পারিবারিক বিরোধের তথ্য

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা ও কচুয়া থানা পুলিশের যৌথ দল। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার দাবি করে।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ আগস্ট অভিযানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মূল আসামি জাহিদুল ইসলাম, পিতা—মৃত মজিদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে অপর দুই আসামি আসাদুল শেখ, পিতা—সুলতান শেখ এবং মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু, পিতা—বারিক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় আসাদুল শেখের ঘর থেকে আলামত হিসেবে একটি ZENX-2 মোবাইল ফোন ও চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‘পরকীয়া সম্পর্ক’ ঘিরেই বিরোধ

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জানা যায়, নিহত আহাদের পরিবারের এক নারীর সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি উভয় পরিবারের মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর পারিবারিক বিরোধ তীব্র হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়কে কেন্দ্র করে নিহতদের একজন মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের একাধিকবার ঝগড়াঝাঁটি হয়। একই বিষয় নিয়ে জাহিদুলের নিজের স্ত্রীর সঙ্গেও পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ বলছে, এসব বিরোধ, ক্ষোভ ও প্রতিশোধের জেরেই জাহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন এবং অন্য দুই আসামির সহযোগিতায় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তির দাবি

জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে তাদের কথিত স্বীকারোক্তির বিস্তারিত তথ্য এবং হত্যাকাণ্ডে প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রকাশ করেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, পরিকল্পনা, সহযোগীদের ভূমিকা এবং অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ বলছে, রহস্যের জট খুলেছে

একই পরিবারের তিন সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছিল। অবশেষে তদন্তে পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তার, উদ্ধার করা আলামত এবং পুলিশের তদন্তে উঠে আসা এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ কারণ, আসামিদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই এ হত্যাকাণ্ডের দায় ও প্রকৃত ঘটনা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।ছবি: সংযুক্ত


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত
চেয়ারম্যান- মো: এনায়েত হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর- মো: মনিরুজ্জামান
প্রধান সম্পাদক:
নির্বাহী সম্পাদক-
বার্তা সম্পাদক-

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের তিন খুনের রহস্য উদঘাটন
0:00 / 0:00
1x