রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

সাময়িক বরখাস্ত দুই কর্মকর্তা

ঘিওর খাদ্যগুদামে বড় ঘাটতি


মোঃ মাজাহারুল ইসলাম সিপন
নিজস্ব প্রতিনিধি , 11 ফলোয়ার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

ঘিওর খাদ্যগুদামে বড় ঘাটতি
ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে মজুত খাদ্যশস্যের হিসাব ও বাস্তব মজুতে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তদন্তে গুদামটিতে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের ঘাটতির পাশাপাশি ৪১ টন ধান অতিরিক্ত এবং ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তার হিসাব না মেলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্রের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান।

জানা গেছে, খাদ্য অধিদপ্তরের বিশেষ অডিট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘিওর এলএসডির মজুত যাচাই করা হয়। এ সময় গুদামের নথিপত্রে উল্লেখ করা মজুতের সঙ্গে সরেজমিনে পাওয়া খাদ্যশস্যের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ধরা পড়ে। তদন্ত কমিটি ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম পাওয়ার পাশাপাশি ৪১ টন ধান বেশি থাকার তথ্য নথিভুক্ত করে। এছাড়া ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তারও ঘাটতি পাওয়া যায়।

খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্টের একটি অফিস আদেশের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঘিওর খাদ্যগুদামে গিয়ে মজুত যাচাই করে এসব অসঙ্গতি পায়। পরিদর্শনের ফল তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।

এরপর বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ১২ নম্বর বিধি অনুযায়ী দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট জেলার খাদ্যগুদামগুলোতে বিশেষ অডিটের অংশ হিসেবে ঘিওর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শন শেষে গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়। পরদিন ঢাকার খাদ্য অধিদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের দল সেখানে গিয়ে গুদামের কাগজপত্রের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব মজুত মিলিয়ে দেখে।

এদিকে, সর্বশেষ নিয়মিত পাক্ষিক প্রতিবেদনে গুদামের মজুত স্বাভাবিক দেখানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান। তাঁর ভাষ্য, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকেরা মাসে দুইবার গুদামের মজুতসংক্রান্ত প্রতিবেদন দেন। সর্বশেষ ১৫ আগস্টের প্রতিবেদনে কোনো ধরনের ঘাটতির তথ্য উল্লেখ ছিল না।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের তত্ত্বাবধানে জেলার খাদ্যগুদামগুলোতে বিশেষ অডিট চলছে। ঘিওরের গুদামে অডিটের সময় মজুতে গরমিল ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের স্বার্থে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারণ করা হবে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


ঘিওর খাদ্যগুদামে বড় ঘাটতি

প্রকাশের তারিখ : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ণ

featured Image

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে মজুত খাদ্যশস্যের হিসাব ও বাস্তব মজুতে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তদন্তে গুদামটিতে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের ঘাটতির পাশাপাশি ৪১ টন ধান অতিরিক্ত এবং ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তার হিসাব না মেলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্রের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান।

জানা গেছে, খাদ্য অধিদপ্তরের বিশেষ অডিট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘিওর এলএসডির মজুত যাচাই করা হয়। এ সময় গুদামের নথিপত্রে উল্লেখ করা মজুতের সঙ্গে সরেজমিনে পাওয়া খাদ্যশস্যের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ধরা পড়ে। তদন্ত কমিটি ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম পাওয়ার পাশাপাশি ৪১ টন ধান বেশি থাকার তথ্য নথিভুক্ত করে। এছাড়া ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তারও ঘাটতি পাওয়া যায়।

খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্টের একটি অফিস আদেশের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঘিওর খাদ্যগুদামে গিয়ে মজুত যাচাই করে এসব অসঙ্গতি পায়। পরিদর্শনের ফল তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।

এরপর বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ১২ নম্বর বিধি অনুযায়ী দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট জেলার খাদ্যগুদামগুলোতে বিশেষ অডিটের অংশ হিসেবে ঘিওর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শন শেষে গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়। পরদিন ঢাকার খাদ্য অধিদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের দল সেখানে গিয়ে গুদামের কাগজপত্রের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব মজুত মিলিয়ে দেখে।

এদিকে, সর্বশেষ নিয়মিত পাক্ষিক প্রতিবেদনে গুদামের মজুত স্বাভাবিক দেখানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান। তাঁর ভাষ্য, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকেরা মাসে দুইবার গুদামের মজুতসংক্রান্ত প্রতিবেদন দেন। সর্বশেষ ১৫ আগস্টের প্রতিবেদনে কোনো ধরনের ঘাটতির তথ্য উল্লেখ ছিল না।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের তত্ত্বাবধানে জেলার খাদ্যগুদামগুলোতে বিশেষ অডিট চলছে। ঘিওরের গুদামে অডিটের সময় মজুতে গরমিল ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের স্বার্থে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারণ করা হবে।


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত
চেয়ারম্যান- মো: এনায়েত হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর- মো: মনিরুজ্জামান
প্রধান সম্পাদক:
নির্বাহী সম্পাদক-
বার্তা সম্পাদক-

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ঘিওর খাদ্যগুদামে বড় ঘাটতি
0:00 / 0:00
1x