অবশেষে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান হলো। গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান রুটে পুনরায় চালু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত সরাসরি বাস সার্ভিস। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হাজারো যাত্রী। তবে আনন্দের মধ্যেও নতুন করে দেখা দিয়েছে নিরাপত্তা উদ্বেগ। রুটে চলাচলকারী বেশিরভাগ বাসই পুরোনো, জরাজীর্ণ এবং ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থাকায় যাত্রীদের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে।
সোমবার উপজেলার ঘোড়াশাল ফেরিঘাট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড (কেটিএল)-এর বাস সার্ভিস উদ্বোধন করেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন। উদ্বোধনের পরপরই কালীগঞ্জ-ঢাকা রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দেড় যুগ আগে কেটিএলের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কালীগঞ্জের মানুষকে রাজধানীতে যেতে একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করতে হতো। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হতো এবং নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হতো। সরাসরি বাস সার্ভিস পুনরায় চালু হওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হয়েছে।
তবে সরেজমিনে দেখা যায়, চলাচলকারী বেশিরভাগ বাসই বহু বছরের পুরোনো। কয়েকটি বাসের বাহ্যিক অবস্থা নাজুক এবং ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘ দূরত্বের এ রুটে যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আধুনিক ও ফিটনেস সনদপ্রাপ্ত বাস পরিচালনা করা জরুরি। অন্যথায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বাসভাড়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক যাত্রী। তাদের দাবি, বাসের মান অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ, সময়সূচি মেনে চলাচল, পর্যাপ্ত আসন ব্যবস্থা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘদিন পর বাস সার্ভিস চালু হওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এই উদ্যোগের প্রকৃত সুফল পেতে হলে নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত বাস পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে কোনোভাবেই গণপরিবহন পরিচালনা করা উচিত নয়।
কালীগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, নতুন এ বাস সার্ভিস শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও যাত্রীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠবে এবং রাজধানীর সঙ্গে কালীগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
অবশেষে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান হলো। গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান রুটে পুনরায় চালু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত সরাসরি বাস সার্ভিস। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হাজারো যাত্রী। তবে আনন্দের মধ্যেও নতুন করে দেখা দিয়েছে নিরাপত্তা উদ্বেগ। রুটে চলাচলকারী বেশিরভাগ বাসই পুরোনো, জরাজীর্ণ এবং ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থাকায় যাত্রীদের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে।
সোমবার উপজেলার ঘোড়াশাল ফেরিঘাট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড (কেটিএল)-এর বাস সার্ভিস উদ্বোধন করেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন। উদ্বোধনের পরপরই কালীগঞ্জ-ঢাকা রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দেড় যুগ আগে কেটিএলের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কালীগঞ্জের মানুষকে রাজধানীতে যেতে একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করতে হতো। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হতো এবং নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হতো। সরাসরি বাস সার্ভিস পুনরায় চালু হওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হয়েছে।
তবে সরেজমিনে দেখা যায়, চলাচলকারী বেশিরভাগ বাসই বহু বছরের পুরোনো। কয়েকটি বাসের বাহ্যিক অবস্থা নাজুক এবং ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘ দূরত্বের এ রুটে যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আধুনিক ও ফিটনেস সনদপ্রাপ্ত বাস পরিচালনা করা জরুরি। অন্যথায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বাসভাড়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক যাত্রী। তাদের দাবি, বাসের মান অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ, সময়সূচি মেনে চলাচল, পর্যাপ্ত আসন ব্যবস্থা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘদিন পর বাস সার্ভিস চালু হওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এই উদ্যোগের প্রকৃত সুফল পেতে হলে নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত বাস পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে কোনোভাবেই গণপরিবহন পরিচালনা করা উচিত নয়।
কালীগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, নতুন এ বাস সার্ভিস শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও যাত্রীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠবে এবং রাজধানীর সঙ্গে কালীগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
