রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

মেলান্দহে প্রেমিকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননীর অনশন


তৌহিদ হাসান
জামালপুর জেলা প্রতিনিধি , 2 ফলোয়ার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

মেলান্দহে প্রেমিকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননীর অনশন

​জামালপুরের মেলান্দহে দীর্ঘ চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের দাবিতে প্রেমিক আলী হোসেনের (২২) বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন দুই সন্তানের এক জননী। প্রেমিক আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় কোনো উপায় না পেয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের রূপসীহাঁটা গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন ওই নারী।

​চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকেই প্রেমিক আলী হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী নুরজাহানের মূল বাড়ি মেলান্দহের কুলিয়া ইউনিয়নের ভালুকা এলাকায়। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত। পূর্বে মাদারীপুরে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং সেখানে তাঁর ১৩ ও ১২ বছর বয়সী দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

​ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে ফেসবুকে প্রেমিক আলী হোসেনের সাথে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁর আগের সংসার ও সন্তানদের কথা জানা সত্ত্বেও আলী হোসেন এই সম্পর্ক চালিয়ে যান। গার্মেন্টস কর্মী নুরজাহান জানান, প্রেম চলাকালীন তিনি তাঁর উপার্জনের একটি বড় অংশ—প্রতি মাসে তিন থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত আলী হোসেনকে দিতেন। এমনকি সম্পর্কের একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আলী হোসেনের পাঠানো টাকায় গর্ভপাত করাতে বাধ্য হন বলেও দাবি করেন তিনি।

​ঘটনার বিবরণ দিয়ে নুরজাহান জানান, গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত তাঁরা মেলান্দহের ডেফলা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে একসঙ্গেই অবস্থান করছিলেন। রবিবার দুপুরে মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ এলাকায় পৌঁছালে প্রেমিক আলী হোসেন মায়ের অসুস্থতার কথা বলেন এবং ‘প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার’ অজুহাতে সটকে পড়েন। এরপর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে নুরজাহান দুশ্চিন্তায় পড়েন।

​পরে রাত ১০টার দিকে আলী হোসেনের রেখে যাওয়া একটি ব্যাগ ফেরত দেওয়ার কথা বলে উপজেলার জিন্নাহ মার্কেটে তাঁকে আসতে বলেন নুরজাহান। আলী হোসেন সেখানে এলে স্থানীয় কিছু লোক বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে প্রেমিককে সরিয়ে দেয়। এর পর থেকেই আলী হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।

​অবস্থা বেগতিক দেখে কোনো পথ না পেয়ে সোমবার দুপুরে আলী হোসেনের বাড়িতে অবস্থান নেন নুরজাহান। আবেগপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, "সে আমার সব কিছু জেনেবুঝেই চার বছর ধরে ভালোবাসার নাটক করেছে। আমার জমানো টাকা-পয়সা নিয়েছে। আজ আমার মান-সম্মান সব হারিয়েছে। আমি স্ত্রীর মর্যাদা পেতে চাই, তা না পাওয়া পর্যন্ত আমি এই বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাব না।"

​ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে প্রেমিক আলী হোসেনের বাড়িতে উৎসুক জনতার ঢল নামে। তবে অভিযুক্তদের মুঠোফোন বন্ধ ও বাড়ি ফাঁকা থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলাম বলেন, "মেয়েটি দুপুর থেকে অনশন করছে। ঘটনাটি সত্যি হলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক, দ্রুত এর একটি মীমাংসা হওয়া দরকার।"

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক জানান,  এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


মেলান্দহে প্রেমিকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননীর অনশন

প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ণ

featured Image

​জামালপুরের মেলান্দহে দীর্ঘ চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের দাবিতে প্রেমিক আলী হোসেনের (২২) বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন দুই সন্তানের এক জননী। প্রেমিক আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় কোনো উপায় না পেয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের রূপসীহাঁটা গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন ওই নারী।

​চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকেই প্রেমিক আলী হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী নুরজাহানের মূল বাড়ি মেলান্দহের কুলিয়া ইউনিয়নের ভালুকা এলাকায়। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত। পূর্বে মাদারীপুরে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং সেখানে তাঁর ১৩ ও ১২ বছর বয়সী দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

​ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে ফেসবুকে প্রেমিক আলী হোসেনের সাথে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁর আগের সংসার ও সন্তানদের কথা জানা সত্ত্বেও আলী হোসেন এই সম্পর্ক চালিয়ে যান। গার্মেন্টস কর্মী নুরজাহান জানান, প্রেম চলাকালীন তিনি তাঁর উপার্জনের একটি বড় অংশ—প্রতি মাসে তিন থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত আলী হোসেনকে দিতেন। এমনকি সম্পর্কের একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আলী হোসেনের পাঠানো টাকায় গর্ভপাত করাতে বাধ্য হন বলেও দাবি করেন তিনি।

​ঘটনার বিবরণ দিয়ে নুরজাহান জানান, গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত তাঁরা মেলান্দহের ডেফলা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে একসঙ্গেই অবস্থান করছিলেন। রবিবার দুপুরে মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ এলাকায় পৌঁছালে প্রেমিক আলী হোসেন মায়ের অসুস্থতার কথা বলেন এবং ‘প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার’ অজুহাতে সটকে পড়েন। এরপর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে নুরজাহান দুশ্চিন্তায় পড়েন।

​পরে রাত ১০টার দিকে আলী হোসেনের রেখে যাওয়া একটি ব্যাগ ফেরত দেওয়ার কথা বলে উপজেলার জিন্নাহ মার্কেটে তাঁকে আসতে বলেন নুরজাহান। আলী হোসেন সেখানে এলে স্থানীয় কিছু লোক বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে প্রেমিককে সরিয়ে দেয়। এর পর থেকেই আলী হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।

​অবস্থা বেগতিক দেখে কোনো পথ না পেয়ে সোমবার দুপুরে আলী হোসেনের বাড়িতে অবস্থান নেন নুরজাহান। আবেগপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, "সে আমার সব কিছু জেনেবুঝেই চার বছর ধরে ভালোবাসার নাটক করেছে। আমার জমানো টাকা-পয়সা নিয়েছে। আজ আমার মান-সম্মান সব হারিয়েছে। আমি স্ত্রীর মর্যাদা পেতে চাই, তা না পাওয়া পর্যন্ত আমি এই বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাব না।"

​ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে প্রেমিক আলী হোসেনের বাড়িতে উৎসুক জনতার ঢল নামে। তবে অভিযুক্তদের মুঠোফোন বন্ধ ও বাড়ি ফাঁকা থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলাম বলেন, "মেয়েটি দুপুর থেকে অনশন করছে। ঘটনাটি সত্যি হলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক, দ্রুত এর একটি মীমাংসা হওয়া দরকার।"

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক জানান,  এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত
চেয়ারম্যান- মো: এনায়েত হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর- মো: মনিরুজ্জামান
প্রধান সম্পাদক:
নির্বাহী সম্পাদক-
বার্তা সম্পাদক-

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
মেলান্দহে প্রেমিকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননীর অনশন
0:00 / 0:00
1x