দেবীগঞ্জে দ্বৈত দায়িত্বে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন। নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন না করার অভিযোগ, টিএ-ডিএ বিল যাচাইয়ের দাবি।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকের দ্বৈত দায়িত্ব পালনের কারণে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত তদারকি ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিদর্শন না করেও ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা (টিএ-ডিএ) উত্তোলন করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আবু বক্কর সিদ্দিক উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে না।
সরেজমিনে লক্ষীরহাট স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের পরিদর্শন খাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে তাঁর সর্বশেষ পরিদর্শনের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০২৬। অন্যান্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শন খাতায়ও নিয়মিত পরিদর্শনের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, পরিদর্শনে ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট সময়ে টিএ-ডিএ বিল কীভাবে প্রস্তুত ও অনুমোদন করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে পরিদর্শন সূচি, ভিজিট রেজিস্টার, ভ্রমণ বিবরণী এবং ভাতা উত্তোলন ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আবু বক্কর সিদ্দিককে প্রায়ই দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তাঁদের দাবি, একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর তদারকি কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “প্রায় চার মাস ধরে দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সব সময় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও আমি কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের চেষ্টা করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সময়ের পরিদর্শন ও টিএ-ডিএ-সংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করা হোক।
তবে পরিদর্শনের প্রকৃত চিত্র এবং ভাতা উত্তোলনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ণ
দেবীগঞ্জে দ্বৈত দায়িত্বে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন। নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন না করার অভিযোগ, টিএ-ডিএ বিল যাচাইয়ের দাবি।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকের দ্বৈত দায়িত্ব পালনের কারণে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত তদারকি ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিদর্শন না করেও ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা (টিএ-ডিএ) উত্তোলন করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আবু বক্কর সিদ্দিক উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে না।
সরেজমিনে লক্ষীরহাট স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের পরিদর্শন খাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে তাঁর সর্বশেষ পরিদর্শনের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০২৬। অন্যান্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শন খাতায়ও নিয়মিত পরিদর্শনের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, পরিদর্শনে ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট সময়ে টিএ-ডিএ বিল কীভাবে প্রস্তুত ও অনুমোদন করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে পরিদর্শন সূচি, ভিজিট রেজিস্টার, ভ্রমণ বিবরণী এবং ভাতা উত্তোলন ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আবু বক্কর সিদ্দিককে প্রায়ই দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তাঁদের দাবি, একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর তদারকি কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “প্রায় চার মাস ধরে দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সব সময় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও আমি কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের চেষ্টা করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সময়ের পরিদর্শন ও টিএ-ডিএ-সংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করা হোক।
তবে পরিদর্শনের প্রকৃত চিত্র এবং ভাতা উত্তোলনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
