বাবাকে খুব বেশি সময় কাছে পাননি। জীবনের অধিকাংশ সময়ই তিনি ব্যস্ত ছিলেন মানুষের কল্যাণে। পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সময় সীমিত হলেও মানুষের হৃদয়ে রেখে গেছেন গভীর ভালোবাসা, অসংখ্য স্মৃতি আর এক অনন্য আদর্শ। সেই আদর্শ বুকে ধারণ করেই বাবাকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান মরহুম নাজমুল হকের বড় ছেলে মো. নাহিদুল হক।
বাবার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণে নাহিদুল হক তাঁর বাবার জীবন, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং পরিবারের সঙ্গে তাঁর স্মৃতির কথা তুলে ধরেন।
নাহিদুল হক জানান, তাঁদের কাছে বাবার প্রায় ৫০০টি ছবি রয়েছে। তবে এসব ছবির অধিকাংশই রাজনৈতিক সহকর্মী, সাধারণ মানুষ এবং তাঁর প্রিয় মানুষদের সঙ্গে তোলা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাবার ছবি খুব বেশি নেই। সৌভাগ্যক্রমে তাঁর নিজের সঙ্গে বাবার একটি ছবি রয়েছে, যা ক্যাডেট কলেজে ভর্তির দিন তোলা হয়েছিল।
বাবাকে কাছে পাওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে নাহিদুল হক বলেন, ২০০৯ ও ২০১০ সালে অসুস্থতার সময় প্রায় দুই বছর বাবাকে কাছ থেকে পাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। এর আগে সকালে বাবাকে দেখার সৌভাগ্য হলেও রাতে তিনি বাড়ি ফেরার আগেই সন্তানদের ঘুমিয়ে পড়তে হতো। মানুষের জন্য বাবার নিরন্তর ব্যস্ততার কারণে পারিবারিক পরিসরে তাঁকে খুব বেশি সময় কাছে পাওয়া হয়নি।
তবে এ নিয়ে তাঁদের কোনো আক্ষেপ নেই। বরং মানুষের প্রতি বাবার ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আত্মনিবেদনের গল্প শুনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আরও বেড়েছে বলে জানান নাহিদুল হক।
তিনি বলেন, তাঁর বাবার জীবনের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে ছিল আলাদা গল্প, আবেগ ও সম্পর্ক। যাঁদের নিয়ে তিনি ভাবতেন, যাঁদের ভালোবাসতেন, তাঁদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি আজও মানুষের মনে অমলিন। সেই মানুষগুলো যখন পরিবারের কাছে এসে নাজমুল হকের সঙ্গে কাটানো সময়ের গল্প শোনান, তখন বাবার প্রতি তাঁদের ভালোবাসার গভীরতা নতুন করে উপলব্ধি করেন পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই বিস্ময়ভরা চোখে প্রশ্ন করেন, “তুমি নাজমুল ভাইয়ের ছেলে?”
নাহিদুল হকের ভাষায়, বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল মানুষের ভালোবাসা। তিনি কোনো অর্থসম্পদ রেখে যাননি; রেখে গেছেন এমন এক আদর্শ, যা তাঁদের জীবনের পথচলার শক্তি ও প্রেরণা।
তিনি বলেন, “আমার বাবা কোনো অর্থসম্পদ রেখে যাননি। আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের জন্য রেখে গেছেন তাঁর আদর্শ, দৃঢ় মনোবল, ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আর অজেয় মনোভাব।”
বাবাকে হারানোর বেদনা বুকে ধারণ করেই সামনের পথে এগিয়ে যেতে চান নাহিদুল হক। তিনি বলেন, “উনাকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে যতদিন বেঁচে থাকব, মানুষের জন্য কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।”
মরহুম নাজমুল হকের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বড় ছেলে মো. নাহিদুল হক। একই সঙ্গে বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন তিনি।
গড় রেটিং: ১/৫ (১ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ অপরাহ্ণ
বাবাকে খুব বেশি সময় কাছে পাননি। জীবনের অধিকাংশ সময়ই তিনি ব্যস্ত ছিলেন মানুষের কল্যাণে। পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সময় সীমিত হলেও মানুষের হৃদয়ে রেখে গেছেন গভীর ভালোবাসা, অসংখ্য স্মৃতি আর এক অনন্য আদর্শ। সেই আদর্শ বুকে ধারণ করেই বাবাকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান মরহুম নাজমুল হকের বড় ছেলে মো. নাহিদুল হক।
বাবার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণে নাহিদুল হক তাঁর বাবার জীবন, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং পরিবারের সঙ্গে তাঁর স্মৃতির কথা তুলে ধরেন।
নাহিদুল হক জানান, তাঁদের কাছে বাবার প্রায় ৫০০টি ছবি রয়েছে। তবে এসব ছবির অধিকাংশই রাজনৈতিক সহকর্মী, সাধারণ মানুষ এবং তাঁর প্রিয় মানুষদের সঙ্গে তোলা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাবার ছবি খুব বেশি নেই। সৌভাগ্যক্রমে তাঁর নিজের সঙ্গে বাবার একটি ছবি রয়েছে, যা ক্যাডেট কলেজে ভর্তির দিন তোলা হয়েছিল।
বাবাকে কাছে পাওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে নাহিদুল হক বলেন, ২০০৯ ও ২০১০ সালে অসুস্থতার সময় প্রায় দুই বছর বাবাকে কাছ থেকে পাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। এর আগে সকালে বাবাকে দেখার সৌভাগ্য হলেও রাতে তিনি বাড়ি ফেরার আগেই সন্তানদের ঘুমিয়ে পড়তে হতো। মানুষের জন্য বাবার নিরন্তর ব্যস্ততার কারণে পারিবারিক পরিসরে তাঁকে খুব বেশি সময় কাছে পাওয়া হয়নি।
তবে এ নিয়ে তাঁদের কোনো আক্ষেপ নেই। বরং মানুষের প্রতি বাবার ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আত্মনিবেদনের গল্প শুনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আরও বেড়েছে বলে জানান নাহিদুল হক।
তিনি বলেন, তাঁর বাবার জীবনের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে ছিল আলাদা গল্প, আবেগ ও সম্পর্ক। যাঁদের নিয়ে তিনি ভাবতেন, যাঁদের ভালোবাসতেন, তাঁদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি আজও মানুষের মনে অমলিন। সেই মানুষগুলো যখন পরিবারের কাছে এসে নাজমুল হকের সঙ্গে কাটানো সময়ের গল্প শোনান, তখন বাবার প্রতি তাঁদের ভালোবাসার গভীরতা নতুন করে উপলব্ধি করেন পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই বিস্ময়ভরা চোখে প্রশ্ন করেন, “তুমি নাজমুল ভাইয়ের ছেলে?”
নাহিদুল হকের ভাষায়, বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল মানুষের ভালোবাসা। তিনি কোনো অর্থসম্পদ রেখে যাননি; রেখে গেছেন এমন এক আদর্শ, যা তাঁদের জীবনের পথচলার শক্তি ও প্রেরণা।
তিনি বলেন, “আমার বাবা কোনো অর্থসম্পদ রেখে যাননি। আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের জন্য রেখে গেছেন তাঁর আদর্শ, দৃঢ় মনোবল, ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আর অজেয় মনোভাব।”
বাবাকে হারানোর বেদনা বুকে ধারণ করেই সামনের পথে এগিয়ে যেতে চান নাহিদুল হক। তিনি বলেন, “উনাকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে যতদিন বেঁচে থাকব, মানুষের জন্য কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।”
মরহুম নাজমুল হকের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বড় ছেলে মো. নাহিদুল হক। একই সঙ্গে বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন তিনি।
