নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বাকরপুর গ্রামে গ্রীন কোয়ালিশন কমিটি ও বারসিকের উদ্যোগে সম্প্রতি ব্যতিক্রমধর্মী অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি ‘ধরিত্রীর দরবার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কৃষক-কৃষাণী, মৃৎশিল্পী, পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় গ্রীন কোয়ালিশনের সদস্যরা অংশ নেন।প্রচলিত ফিতা কাটা বা প্রদীপ প্রজ্বলনের পরিবর্তে মাটি ও দেশীয় বীজ বিনিময়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।প্রায় ৩০ জন কৃষক-কৃষাণী মাটির সাথে তাদের নাড়ির সম্পর্কের স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরেন।পুরো অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন বারসিকের নেত্রকোনা অঞ্চলের ক্যাম্পেইন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক ফ্যাসিলিটেটর অনাবিলা সরকার।বলোপাপ্ত জীববৈচিত্র্য: অতীতে কচ্ছপ, সজারু, বাঘাইল্লা, ঘোইল সাপ, হেঁজা ও পাতিকাকের মতো অসংখ্য প্রাণী ও পাখির বিচরণ থাকলেও বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তনে আজ তা প্রায় বিলুপ্তির পথে।মৃৎশিল্পের সংকট: মৃৎশিল্পীরা জানান, বর্তমানে বালুমিশ্রিত মাটির কারণে মানসম্মত কাজ ব্যাহত হচ্ছে; টেকসই শিল্পের জন্য খাঁটি এঁটেল মাটি জরুরি।সামাজিক দায়বদ্ধতা: পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধ, নারীর স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় হয়।কৃষকদের উচ্চারণ: “মাটি আমাদের মা। মাটিই আমাদের জীবন, জীবিকা, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের ভিত্তি।”কৃতজ্ঞতা ও অনুতাপ: নির্বিচারে গাছ কাটা, মাটি নষ্ট করা ও জলাশয় ভরাটের মতো অন্যায়ের জন্য ধরিত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে সচেতন থাকার আবেগঘন প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।ঐতিহ্য প্রদর্শনী: স্থানীয় মাটির তৈরি তৈজসপত্র, কারুশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের প্রদর্শনী গ্রামীণ সংস্কৃতির গভীরতাকে ফুটিয়ে তোলে।আয়োজকদের মতে, প্রান্তিক মানুষের পরিবেশবান্ধব জীবনচর্চা ও জ্ঞানকে সামনে আনতে এই ‘ধরিত্রীর দরবার’ টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে এক অনন্য ভূমিকা রাখবে।