ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের মলাইশ গ্রামে এক মৎস্যচাষির পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে নির্মমভাবে লাখ লাখ টাকার মাছ নিধন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাতের আধারে কে বা কারা শত্রুতা করে পুকুরে বিষাক্ত কেমিক্যাল বা বিষ ঢেলে দেওয়ায় পানিতে ভেসে উঠেছে দেশীয় ও কার্প জাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণ পোনা ও বড় মাছ। এই বর্বরোচিত ঘটনায় ওই মৎস্যচাষি ও তার পরিবার সম্পূর্ণ নিঃস্ব এবং দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে ও প্রাপ্ত চিত্রে দেখা গেছে, পুকুর পাড়ের একটি বড় অংশ জুড়ে মরে যাওয়া বিপুল পরিমাণ মাছের স্তূপ জমে আছে। বিষের তীব্রতায় পুকুরের সিলভার কার্প, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন জাতের ছোট-বড় মাছ মরে পচে ভেসে উঠেছে, যা থেকে পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনের মতো চাষি সকালে পুকুরে মাছের খাবার দিতে গিয়ে দেখেন সব মাছ মরে ভেসে রয়েছে। এই দৃশ্য দেখে পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মৎস্যচাষি ও তাঁর পরিবার অত্যন্ত ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ধারদেনা এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা এই পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই এই মাছগুলো বাজারে বিক্রির উপযোগী হতো। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তাদের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিল। এই আর্থিক ক্ষতি তারা কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন, তা ভেবে কুল পাচ্ছেন না।
এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, মৎস্য সেক্টরে সরাইল দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এমন হিংসাত্মক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গ্রামীণ অর্থনীতি এবং উদ্যোক্তাদের স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এটি কেবল একজন চাষির ক্ষতি নয়, বরং একটি সামাজিক অপরাধ।
মলাইশ গ্রামের সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবার এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে জরুরি সরকারি বা বেসরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এবং সরাইল থানা পুলিশের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ পূর্বাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের মলাইশ গ্রামে এক মৎস্যচাষির পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে নির্মমভাবে লাখ লাখ টাকার মাছ নিধন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাতের আধারে কে বা কারা শত্রুতা করে পুকুরে বিষাক্ত কেমিক্যাল বা বিষ ঢেলে দেওয়ায় পানিতে ভেসে উঠেছে দেশীয় ও কার্প জাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণ পোনা ও বড় মাছ। এই বর্বরোচিত ঘটনায় ওই মৎস্যচাষি ও তার পরিবার সম্পূর্ণ নিঃস্ব এবং দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে ও প্রাপ্ত চিত্রে দেখা গেছে, পুকুর পাড়ের একটি বড় অংশ জুড়ে মরে যাওয়া বিপুল পরিমাণ মাছের স্তূপ জমে আছে। বিষের তীব্রতায় পুকুরের সিলভার কার্প, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন জাতের ছোট-বড় মাছ মরে পচে ভেসে উঠেছে, যা থেকে পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনের মতো চাষি সকালে পুকুরে মাছের খাবার দিতে গিয়ে দেখেন সব মাছ মরে ভেসে রয়েছে। এই দৃশ্য দেখে পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মৎস্যচাষি ও তাঁর পরিবার অত্যন্ত ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ধারদেনা এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা এই পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই এই মাছগুলো বাজারে বিক্রির উপযোগী হতো। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তাদের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিল। এই আর্থিক ক্ষতি তারা কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন, তা ভেবে কুল পাচ্ছেন না।
এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, মৎস্য সেক্টরে সরাইল দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এমন হিংসাত্মক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গ্রামীণ অর্থনীতি এবং উদ্যোক্তাদের স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এটি কেবল একজন চাষির ক্ষতি নয়, বরং একটি সামাজিক অপরাধ।
মলাইশ গ্রামের সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবার এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে জরুরি সরকারি বা বেসরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এবং সরাইল থানা পুলিশের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে
