জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের মহিপুর মাওলানা ভাসানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাময়িক বরখাস্ত এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর জাল করে ছাড়পত্র তৈরি এবং বিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজে লেইস প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (জীববিজ্ঞান) মো. সাজিউল ইসলাম ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মহিপুর মাওলানা ভাসানী উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের হয়। ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি মো. রফিকুল ইসলাম নান্টু বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর ১৮/২৫।
মামলাটিতে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল মো. সাজিউল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
এরপর সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থাতেই ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজে লেইস প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যান মো. সাজিউল ইসলাম। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেননি।
শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর জাল করে একটি ছাড়পত্র তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ওই ছাড়পত্র তৈরি করে রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজে দাখিল করা হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
এ বিষয়ে মহিপুর মাওলানা ভাসানী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান প্রধান বলেন, “আমার কোনো অনুমতি ছাড়াই তিনি প্রশিক্ষণে গেছেন। আমার স্বাক্ষর জাল করে একটি ছাড়পত্র তৈরি করে রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজে জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, “বিষয়টি আমি আজকেই জানতে পেরেছি। এটি সত্য হয়ে থাকলে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা। বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উঠছে একাধিক প্রশ্ন
সাময়িক বরখাস্ত থাকা একজন শিক্ষক কীভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি ছাড়াই প্রশিক্ষণে অংশ নিলেন, প্রশিক্ষণে ভর্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ছাড়পত্রটি কীভাবে তৈরি হলো এবং সেখানে ব্যবহৃত স্বাক্ষর আসল নাকি জাল—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
বিশেষ করে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাবি অনুযায়ী যদি তার অনুমতি ছাড়া এবং স্বাক্ষর জাল করে ছাড়পত্র তৈরি করে কোনো সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সংশ্লিষ্ট নথির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।
তবে স্বাক্ষর জাল ও অনুমতি ছাড়া প্রশিক্ষণে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মো. সাজিউল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নথিপত্র যাচাই, ছাড়পত্রের সত্যতা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ণ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের মহিপুর মাওলানা ভাসানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাময়িক বরখাস্ত এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর জাল করে ছাড়পত্র তৈরি এবং বিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজে লেইস প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (জীববিজ্ঞান) মো. সাজিউল ইসলাম ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মহিপুর মাওলানা ভাসানী উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের হয়। ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি মো. রফিকুল ইসলাম নান্টু বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর ১৮/২৫।
মামলাটিতে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল মো. সাজিউল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
এরপর সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থাতেই ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজে লেইস প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যান মো. সাজিউল ইসলাম। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেননি।
শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর জাল করে একটি ছাড়পত্র তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ওই ছাড়পত্র তৈরি করে রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজে দাখিল করা হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
এ বিষয়ে মহিপুর মাওলানা ভাসানী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান প্রধান বলেন, “আমার কোনো অনুমতি ছাড়াই তিনি প্রশিক্ষণে গেছেন। আমার স্বাক্ষর জাল করে একটি ছাড়পত্র তৈরি করে রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজে জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, “বিষয়টি আমি আজকেই জানতে পেরেছি। এটি সত্য হয়ে থাকলে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা। বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উঠছে একাধিক প্রশ্ন
সাময়িক বরখাস্ত থাকা একজন শিক্ষক কীভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি ছাড়াই প্রশিক্ষণে অংশ নিলেন, প্রশিক্ষণে ভর্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ছাড়পত্রটি কীভাবে তৈরি হলো এবং সেখানে ব্যবহৃত স্বাক্ষর আসল নাকি জাল—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
বিশেষ করে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাবি অনুযায়ী যদি তার অনুমতি ছাড়া এবং স্বাক্ষর জাল করে ছাড়পত্র তৈরি করে কোনো সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সংশ্লিষ্ট নথির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।
তবে স্বাক্ষর জাল ও অনুমতি ছাড়া প্রশিক্ষণে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মো. সাজিউল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নথিপত্র যাচাই, ছাড়পত্রের সত্যতা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
