দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি আগাছা ও সিন্ডিকেটমুক্ত আধুনিক কাঠামোতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে যিনি সুদূর আমেরিকা থেকে নিজের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে ফিরে এসেছেন, তাকে নিয়ে আজ একশ্রেণির অপপ্রচার ও ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ জাতীয় মন্তব্য আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
যারা আজ তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলছেন, তাদের কি একবারও আয়নায় নিজেদের রাজনৈতিক ইতিহাস দেখা উচিত।
এহসানুল হক মিলন কোনো বিশেষ কোটায় বা অদৃশ্য শক্তির আশীর্বাদে রাতারাতি ক্ষমতার মসনদে বসেননি। তিনি মাঠের রাজনীতি করেছেন, ঘাম ঝরিয়েছেন এবং জনগণের রায়ে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে জননেতার আসনে অভিষিক্ত হয়েছেন।
যে ব্যক্তি নিজের দেশের মাটির টানে উন্নত বিশ্বের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে ফিরে আসেন, তার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে সেই ত্যাগের মহিমাকে কি সম্মান জানানো সমীচীন নয়?
যখনই তিনি অতীতে শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছিল। দুর্নীতির একটি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয়ে তারা তার বিরুদ্ধে মোবাইল চুরি, ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির মতো হাস্যকর ও বানোয়াট মামলা দিয়ে চরিত্রহননের জঘন্য খেলায় মেতেছিল।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—এহসানুল হক মিলন পালিয়ে যাননি। যখন প্রতিবাদের ভাষা রুদ্ধ ছিল, তখনও তিনি ৭৮টি মিথ্যা মামলার বোঝা মাথায় নিয়েও মাথা নত করেননি। ৩৭ দিন রিমান্ড ও ৪ বছর কারাবাস যার আদর্শের পরীক্ষাকে প্রমাণিত করে, তাকে কি কেবল কয়েকটা অপপ্রচারে থামিয়ে দেওয়া সম্ভব?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিত এই মানুষটির স্বপ্ন আকাশছোঁয়া—তিনি বাংলাদেশকে একটি নকলমুক্ত, প্রশ্নফাঁসমুক্ত এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় গড়ে তুলতে চান। আর এই সংস্কারের উদ্যোগই আজ সেইসব সিন্ডিকেটের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, যারা শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণকে পুঁজি করে ফায়দা লোটে।
মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। এহসানুল হক মিলন তার অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দচয়নের জন্য সসম্মানে ক্ষমা চেয়েছেন। ক্ষমা চাওয়ার এই সংস্কৃতি সততার পরিচয় দেয়। কিন্তু যারা এই ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকে পুঁজি করে জল ঘোলা করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায়, বাংলাদেশের সচেতন ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক সমাজ তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আজ সম্পূর্ণ সজাগ।
এহসানুল হক মিলন কোনো সুবিধাবাদী নেতা নন, তিনি জনতার মানুষ। জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী অধ্যায় বা কোনো কোটার ওপর নির্ভর করে তিনি আজকের অবস্থানে আসেননি; তিনি এসেছেন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে। তাকে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা কোনো ষড়যন্ত্রের নেই। আজ সময় এসেছে তার এই শিক্ষা সংস্কারের উদ্যোগকে ব্যক্তিগত আবেগ দিয়ে নয়, বরং রাষ্ট্রের কল্যাণের নিরিখে বিচার করার।
আসুন, অন্ধকারের কুচক্রী মহলের গুজবে কান না দিয়ে একটি মেধাভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তার এই লড়াইকে সমর্থন করি। কারণ, শিক্ষা ধ্বংস হলে জাতি ধ্বংস হয়—আর সেই ধ্বংসের হাত থেকে আমাদের প্রজন্মকে বাঁচাতেই আজ এই কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর প্রয়োজন।
সাংবাদিকের নোট: একজন দায়িত্বশীল নাগরিক ও সাংবাদিক হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র ও জাতির স্বার্থে যেকোনো সংস্কারমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত। ব্যক্তি আক্রমণের চেয়ে সংস্কারের উদ্দেশ্য ও এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিয়ে আলোচনা করাই আজকের সময়ের দাবি।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ণ
দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি আগাছা ও সিন্ডিকেটমুক্ত আধুনিক কাঠামোতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে যিনি সুদূর আমেরিকা থেকে নিজের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে ফিরে এসেছেন, তাকে নিয়ে আজ একশ্রেণির অপপ্রচার ও ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ জাতীয় মন্তব্য আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
যারা আজ তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলছেন, তাদের কি একবারও আয়নায় নিজেদের রাজনৈতিক ইতিহাস দেখা উচিত।
এহসানুল হক মিলন কোনো বিশেষ কোটায় বা অদৃশ্য শক্তির আশীর্বাদে রাতারাতি ক্ষমতার মসনদে বসেননি। তিনি মাঠের রাজনীতি করেছেন, ঘাম ঝরিয়েছেন এবং জনগণের রায়ে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে জননেতার আসনে অভিষিক্ত হয়েছেন।
যে ব্যক্তি নিজের দেশের মাটির টানে উন্নত বিশ্বের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে ফিরে আসেন, তার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে সেই ত্যাগের মহিমাকে কি সম্মান জানানো সমীচীন নয়?
যখনই তিনি অতীতে শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছিল। দুর্নীতির একটি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয়ে তারা তার বিরুদ্ধে মোবাইল চুরি, ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির মতো হাস্যকর ও বানোয়াট মামলা দিয়ে চরিত্রহননের জঘন্য খেলায় মেতেছিল।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—এহসানুল হক মিলন পালিয়ে যাননি। যখন প্রতিবাদের ভাষা রুদ্ধ ছিল, তখনও তিনি ৭৮টি মিথ্যা মামলার বোঝা মাথায় নিয়েও মাথা নত করেননি। ৩৭ দিন রিমান্ড ও ৪ বছর কারাবাস যার আদর্শের পরীক্ষাকে প্রমাণিত করে, তাকে কি কেবল কয়েকটা অপপ্রচারে থামিয়ে দেওয়া সম্ভব?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিত এই মানুষটির স্বপ্ন আকাশছোঁয়া—তিনি বাংলাদেশকে একটি নকলমুক্ত, প্রশ্নফাঁসমুক্ত এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় গড়ে তুলতে চান। আর এই সংস্কারের উদ্যোগই আজ সেইসব সিন্ডিকেটের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, যারা শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণকে পুঁজি করে ফায়দা লোটে।
মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। এহসানুল হক মিলন তার অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দচয়নের জন্য সসম্মানে ক্ষমা চেয়েছেন। ক্ষমা চাওয়ার এই সংস্কৃতি সততার পরিচয় দেয়। কিন্তু যারা এই ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকে পুঁজি করে জল ঘোলা করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায়, বাংলাদেশের সচেতন ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক সমাজ তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আজ সম্পূর্ণ সজাগ।
এহসানুল হক মিলন কোনো সুবিধাবাদী নেতা নন, তিনি জনতার মানুষ। জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী অধ্যায় বা কোনো কোটার ওপর নির্ভর করে তিনি আজকের অবস্থানে আসেননি; তিনি এসেছেন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে। তাকে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা কোনো ষড়যন্ত্রের নেই। আজ সময় এসেছে তার এই শিক্ষা সংস্কারের উদ্যোগকে ব্যক্তিগত আবেগ দিয়ে নয়, বরং রাষ্ট্রের কল্যাণের নিরিখে বিচার করার।
আসুন, অন্ধকারের কুচক্রী মহলের গুজবে কান না দিয়ে একটি মেধাভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তার এই লড়াইকে সমর্থন করি। কারণ, শিক্ষা ধ্বংস হলে জাতি ধ্বংস হয়—আর সেই ধ্বংসের হাত থেকে আমাদের প্রজন্মকে বাঁচাতেই আজ এই কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর প্রয়োজন।
সাংবাদিকের নোট: একজন দায়িত্বশীল নাগরিক ও সাংবাদিক হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র ও জাতির স্বার্থে যেকোনো সংস্কারমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত। ব্যক্তি আক্রমণের চেয়ে সংস্কারের উদ্দেশ্য ও এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিয়ে আলোচনা করাই আজকের সময়ের দাবি।
