রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

মোঃ সোহেল

মোঃ সোহেল

বিশেষ প্রতিনিধি

যোগদান: 12 জুলাই, 2026

ভিসা নীতিতে ট্রাম্পের নতুন ‘শৃঙ্খল’

বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদের ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ এখন কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে মুক্তচিন্তা ও তথ্যপ্রবাহের পথে এক বড় অন্তরায়।​একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি বিষয়টি কেবল আন্তর্জাতিক চশমা দিয়ে দেখছি না, এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে আমাদের চারপাশে। সাম্প্রতিক সময়ে আমার সাথে যখন স্থানীয় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী এবং তরুণ সাংবাদিকদের কথা হয়, তখন তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট অনিশ্চয়তা দেখেছি। আমার নিজ এলাকা থেকে যারা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন, তারা এখন এই নতুন নিয়মের কারণে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। চার বছরের ভিসার সীমাবদ্ধতা তাদের দীর্ঘমেয়াদী গবেষণাপত্র ও ক্যারিয়ারের ওপর এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করেছে। তারা আমাকে বলছিলেন, গবেষণার মাঝপথে ভিসা নবায়নের অনিশ্চয়তা কেবল তাদের পড়াশোনাই নয়, তাদের মানসিক অবস্থাকেও বিপর্যস্ত করে তুলছে।​পেশাগত জীবনে আমি স্থানীয় দুর্নীতি বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম ধরি, সত্যকে তুলে আনার চেষ্টা করি। তাই আমার কাছে সাংবাদিকের স্বাধীনতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি জানি, সংবাদকর্মী মানেই কোনো দেশের জানালায় বসে থাকা চোখ—সেখানে যদি সময়ের বেড়াজাল টানা হয়, তবে সত্য উদ্ঘাটনের পথ রুদ্ধ হয়। যখন একজন বিদেশি সাংবাদিকের ভিসার মেয়াদ ৯০ থেকে ২৪০ দিনে সীমাবদ্ধ করা হয়, তখন তিনি আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। তখন তাকে ভিসার মেয়াদ টিকিয়ে রাখার জন্য নীতিনির্ধারকদের তোয়াজ করে চলতে হয়। এটি কেবল ওই সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সংকট নয়, এটি গোটা বিশ্বের সত্যের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, নবীনগর উপজেলা, ২১নং রতনপুর ইউনি, ​শাহপুর গ্রামের মাটি থেকে উঠে আসা একজন মানুষ হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং তথ্য আদান-প্রদানই বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি। কিন্তু এই কঠোর ভিসা নীতি সম্পর্ককে সংকীর্ণ করে তুলছে। যে সাংবাদিক বা গবেষক তার মেধা ও সাহসের জোরে বিশ্বমঞ্চে আমাদের প্রতিনিধিত্ব করেন, আজ তাদেরই আইনি লড়াইয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।​গণতন্ত্রের প্রধান দুটি স্তম্ভ—সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং উচ্চশিক্ষার অবাধ সুযোগ—এই ভিসা নীতিতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, নীতিনির্ধারকদের রাজনৈতিক এজেন্ডার উর্ধ্বে উঠে বিশ্বব্যাপী মেধা ও সত্যের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত।​অন্যথায়, এই ‘ভিসা শৃঙ্খল’ কেবল ভৌগোলিক সীমানা নয়, বরং মানুষের মেধা ও মুক্তচিন্তার বিকাশের পথকেও চিরতরে সংকুচিত করে তুলবে। বিশ্বায়ন মানে যদি হয় বাধার দেয়াল তোলা, তবে সেই ব্যর্থতার দায়ভার ইতিহাস নেবে।

ভিসা নীতিতে ট্রাম্পের নতুন ‘শৃঙ্খল’