শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে খুলনা জেলার রূপসা থানাধীন বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন খুলনা জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব সরকার ওমর ফারুক।শনিবার (১৭ অক্টোবর) তিনি রূপসা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ পূজা মণ্ডপগুলো ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, আলোকসজ্জা, ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি, নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ এবং ভক্তদের যাতায়াত ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। এ সময় তিনি পূজার সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, "দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য খুলনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।তিনি আরও বলেন, গুজব প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক পোস্ট ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপারের এই পরিদর্শনে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এবার রূপসা উপজেলা সহ খুলনা জেলার ৩৫০টিরও বেশি পূজা মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপকে গুরুত্ব বিবেচনায় তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।পুলিশ সুপারের এই পরিদর্শনের ফলে রূপসার পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়েছে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।