ফেনীর দীর্ঘদিনের বন্যা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ফলক উন্মোচনের পর তিনি সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে নদী খনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন তিনি।উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফেনীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মুহুরী, কহুয়া ও সংশ্লিষ্ট নদী-খালকেন্দ্রিক এলাকার বন্যা ও জলাবদ্ধতার ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি কৃষি সেচব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। প্রতিবছর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির পানিতে ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। এতে নদীর বাঁধ, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।দীর্ঘদিনের এই সমস্যা স্থায়ীভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফেনীতে এটি তারেক রহমানের প্রথম সফর বলে সরকারি সূত্রের বরাতে বাসস জানিয়েছে। এ সফরে তিনি পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাকে অভ্যর্থনা জানান।ফেনীর মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ নিরসনে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। প্রকল্পের মাধ্যমে নদী ও খাল পুনঃখনন, বাঁধ সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষি, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা রয়েছে।