সিলেট সার্কিট হাউসে মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আধুনিক আর্থিক কাঠামো নিশ্চিত করতে ১২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপির নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে একটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন বিষয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সম্প্রতি মাজারের দানবাক্সে তালা লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর মাজারের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় অধিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই একমত হন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, মাজারের সার্বিক উন্নয়ন, দানের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ দেবে।
তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তবে নতুন কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত নিয়মেই বিদ্যমান কমিটি দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করবে এবং তা মাজারের বিদ্যমান ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের কোনো সিদ্ধান্ত বা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে সরকার আগ্রহী নয়। বরং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের উদ্দেশ্য।
নবগঠিত কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার, মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুই প্রতিনিধি, মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি।
কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিলেটের জেলা প্রশাসক। এর আগে সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মাজারের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং মাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।সূত্র: sorejominbarta.com