ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ৬
নং ত্রিশাল ইউনিয়নের চিকনা মনোহর দিঘলিয়াপাড়া গ্রামে যেন নেমে এসেছে এক ভয়াবহ অন্ধকার। মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের প্রকাশ্য তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যাচ্ছে গ্রামের স্বাভাবিক শান্তিশৃঙ্খলা। কোমলমতি শিশু ও উদীয়মান যুবসমাজকে মরণনেশা মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে এবার একজোট হয়ে মাঠে নেমেছেন গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করার আকুল আকুতি জানিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানায় ২০৩ জন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর গণস্বাক্ষর সংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ত্রিশাল থানায়।
গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগে জানা যায়, এলাকার একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে প্রকাশ্যে গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের প্রাণঘাতী মাদকের কেনাবেচা ও সেবন চালিয়ে আসছে।
প্রতিবাদ করতে গেলেই নেমে আসে শারীরিক নির্যাতন ও মারধর। সাধারণ নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে পুরো গ্রামটিকে যেন একপ্রকার মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে এই চক্রটি।
মাদকের এই বিষাক্ত ছোবলে গ্রামের পরিবেশ দিন দিন বিষিয়ে উঠছে। বহিরাগত অচেনা ও সন্দেহভাজন অপরাধীদের আনাগোনা এবং মোড়ে মোড়ে আড্ডা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা প্রতিনিয়ত চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে চুরির উপদ্রব। বসতবাড়ির হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাসন থেকে শুরু করে কায়িক শ্রমে উপার্জিত গরু-ছাগল—কোনো কিছুই আর নিরাপদ থাকছে না। গ্রামে একটি সক্রিয় চক্র তৈরি হয়েছে, যারা প্রতিনিয়ত চুরি ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে মাদকের আড্ডায় উড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে উঠতি বয়সী তরুণরা ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ছে এই অপরাধচক্রে, যা পুরো গ্রামীণ সমাজকে ধসে দেওয়ার উপক্রম করেছে।
একজোট ২০৩ পরিবার, থানায় গণ-অভিযোগ : অপরাধীদের এমন বেপরোয়া তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ ঘরোয়াভাবে বৈঠকে বসেন। সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলেন তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০৩ জন ভুক্তভোগীর প্রত্যক্ষ স্বাক্ষর সংবলিত একটি গণ-অভিযোগ ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের আহ্বায়ক মো: জাহিদুল ইসলাম বলেন, "আমাদের উঠতি বয়সের ছেলেরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গ্রামের স্বাভাবিক শান্তি বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমরা সমাজকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।
থানা পুলিশ যদি দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই অপরাধীদের গ্রেফতার করে, তবেই আমাদের গ্রাম আবার আগের মতো শান্তিময় হয়ে উঠবে।" দ্রুত আইনি ব্যবস্থার দাবি বর্তমানে দিঘলিয়াপাড়ার বাসিন্দারা আইনি প্রতিকারের আশায় প্রহর গুনছেন। সাধারণ মানুষের এখন একটাই দাবি—অনতিবিলম্বে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হোক এবং চিকনা মনোহর গ্রামে পুনরায় সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।
গড় রেটিং: ১/৫ (১ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ৬
নং ত্রিশাল ইউনিয়নের চিকনা মনোহর দিঘলিয়াপাড়া গ্রামে যেন নেমে এসেছে এক ভয়াবহ অন্ধকার। মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের প্রকাশ্য তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যাচ্ছে গ্রামের স্বাভাবিক শান্তিশৃঙ্খলা। কোমলমতি শিশু ও উদীয়মান যুবসমাজকে মরণনেশা মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে এবার একজোট হয়ে মাঠে নেমেছেন গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করার আকুল আকুতি জানিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানায় ২০৩ জন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর গণস্বাক্ষর সংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ত্রিশাল থানায়।
গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগে জানা যায়, এলাকার একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে প্রকাশ্যে গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের প্রাণঘাতী মাদকের কেনাবেচা ও সেবন চালিয়ে আসছে।
প্রতিবাদ করতে গেলেই নেমে আসে শারীরিক নির্যাতন ও মারধর। সাধারণ নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে পুরো গ্রামটিকে যেন একপ্রকার মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে এই চক্রটি।
মাদকের এই বিষাক্ত ছোবলে গ্রামের পরিবেশ দিন দিন বিষিয়ে উঠছে। বহিরাগত অচেনা ও সন্দেহভাজন অপরাধীদের আনাগোনা এবং মোড়ে মোড়ে আড্ডা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা প্রতিনিয়ত চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে চুরির উপদ্রব। বসতবাড়ির হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাসন থেকে শুরু করে কায়িক শ্রমে উপার্জিত গরু-ছাগল—কোনো কিছুই আর নিরাপদ থাকছে না। গ্রামে একটি সক্রিয় চক্র তৈরি হয়েছে, যারা প্রতিনিয়ত চুরি ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে মাদকের আড্ডায় উড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে উঠতি বয়সী তরুণরা ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ছে এই অপরাধচক্রে, যা পুরো গ্রামীণ সমাজকে ধসে দেওয়ার উপক্রম করেছে।
একজোট ২০৩ পরিবার, থানায় গণ-অভিযোগ : অপরাধীদের এমন বেপরোয়া তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ ঘরোয়াভাবে বৈঠকে বসেন। সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলেন তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০৩ জন ভুক্তভোগীর প্রত্যক্ষ স্বাক্ষর সংবলিত একটি গণ-অভিযোগ ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের আহ্বায়ক মো: জাহিদুল ইসলাম বলেন, "আমাদের উঠতি বয়সের ছেলেরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গ্রামের স্বাভাবিক শান্তি বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমরা সমাজকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।
থানা পুলিশ যদি দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই অপরাধীদের গ্রেফতার করে, তবেই আমাদের গ্রাম আবার আগের মতো শান্তিময় হয়ে উঠবে।" দ্রুত আইনি ব্যবস্থার দাবি বর্তমানে দিঘলিয়াপাড়ার বাসিন্দারা আইনি প্রতিকারের আশায় প্রহর গুনছেন। সাধারণ মানুষের এখন একটাই দাবি—অনতিবিলম্বে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হোক এবং চিকনা মনোহর গ্রামে পুনরায় সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।
