ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভের সময় পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে কানে কানে সরকার সরানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, "পুলিশ যখন আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন তাদের মধ্যে কয়েকজন কানে কানে বলছিল, 'এই সরকারকে সরিয়ে দিন। আমি রাজস্থান থেকে এসেছি, আমি হরিয়ানা থেকে এসেছি। আমরা তো শুধু এই পোশাকটি পরে আছি।'"
কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, ডিউটির খাতিরে পুলিশ সদস্যরা নির্দেশ পালন করতে বাধ্য হলেও তারাও দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেতরে ভেতরে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। রাহুলের ভাষ্যমতে, "তারা জানে যে দেশে একটি অন্যায় বা অপরাধ হচ্ছে। বিক্ষোভকারী এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে তারা নিজেদের সন্তানদেরই দেখতে পাচ্ছে।"
মঙ্গলবার কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে আকস্মিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন দলটির শীর্ষ সারির নেতারা।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা রাহুল গান্ধীর হাত-পা ধরে তাকে স্থানান্তরিত করছেন। আটক করার পর তাকে উত্তর-পশ্চিম দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে রাখা হয় এবং গভীর রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল আরও বলেন, "বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জনগণের কষ্ট ও শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরাই আমার মূল দায়িত্ব।" পুলিশি পদক্ষেপকে সামান্য বিষয় উল্লেখ করে তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, "শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ঘুষি-লাথি খাওয়ায় আমার কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজন হলে দেশের জন্য আরও অনেক কিছু সহ্য করতে আমি প্রস্তুত।"
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী।
তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে ভারতে মোট ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ একটি ঘটনাতেও প্রকৃত দোষীদের সাজা হয়নি।
গড়ে প্রতি মাসে একটি করে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ফলে ভারতের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ধসে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে 'দুর্নীতিগ্রস্ত' ও 'অযোগ্য' আখ্যা দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, তাকে অবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা উচিত এবং শিক্ষার্থীদের পদত্যাগের এই দাবি শতভাগ যৌক্তিক।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ণ
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভের সময় পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে কানে কানে সরকার সরানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, "পুলিশ যখন আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন তাদের মধ্যে কয়েকজন কানে কানে বলছিল, 'এই সরকারকে সরিয়ে দিন। আমি রাজস্থান থেকে এসেছি, আমি হরিয়ানা থেকে এসেছি। আমরা তো শুধু এই পোশাকটি পরে আছি।'"
কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, ডিউটির খাতিরে পুলিশ সদস্যরা নির্দেশ পালন করতে বাধ্য হলেও তারাও দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেতরে ভেতরে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। রাহুলের ভাষ্যমতে, "তারা জানে যে দেশে একটি অন্যায় বা অপরাধ হচ্ছে। বিক্ষোভকারী এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে তারা নিজেদের সন্তানদেরই দেখতে পাচ্ছে।"
মঙ্গলবার কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে আকস্মিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন দলটির শীর্ষ সারির নেতারা।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা রাহুল গান্ধীর হাত-পা ধরে তাকে স্থানান্তরিত করছেন। আটক করার পর তাকে উত্তর-পশ্চিম দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে রাখা হয় এবং গভীর রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল আরও বলেন, "বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জনগণের কষ্ট ও শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরাই আমার মূল দায়িত্ব।" পুলিশি পদক্ষেপকে সামান্য বিষয় উল্লেখ করে তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, "শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ঘুষি-লাথি খাওয়ায় আমার কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজন হলে দেশের জন্য আরও অনেক কিছু সহ্য করতে আমি প্রস্তুত।"
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী।
তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে ভারতে মোট ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ একটি ঘটনাতেও প্রকৃত দোষীদের সাজা হয়নি।
গড়ে প্রতি মাসে একটি করে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ফলে ভারতের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ধসে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে 'দুর্নীতিগ্রস্ত' ও 'অযোগ্য' আখ্যা দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, তাকে অবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা উচিত এবং শিক্ষার্থীদের পদত্যাগের এই দাবি শতভাগ যৌক্তিক।
