ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তিতে আয়োজিত স্মরণসভায় নিহত ও আহতদের পরিবার সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছে। গত বছরের ২১শে জুলাইয়ের ওই দুর্ঘটনায় ২৮ শিশুসহ অন্তত ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। মঙ্গলবার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী স্বজনরা তাদের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা সামলে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা যে সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। দুর্ঘটনাকবলিতদের এই সংকল্প জাতি কখনো ভুলবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে নিহত শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর স্বামী মনসুর হেলাল বিবিসি বাংলার বিশেষ ডকুমেন্টারির প্রসঙ্গ টেনে সরকারের গঠিত তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশের দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ৮০০ থেকে ৯০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ভবনটিতে মাত্র একটি পথ ছিল। বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ভবন নির্মাণের নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে আশু সমাধান প্রার্থনা করেন।
দুর্ঘটনায় আহত ৫৭ জনের অনেকেই এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মেহেরীন জানায়, সে শারীরিক জ্বালা-পোড়া ও মানসিক ট্রমার কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না এবং স্কুলেও যেতে পারছে না। একইভাবে ষষ্ঠ শ্রেণির নুরে জান্নাত ইউশাসহ অন্যান্য আহত শিক্ষার্থীরাও এখনো দুঃস্বপ্ন ও ট্রমার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে বলে তাদের অভিভাবকরা জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আশ্বাস দেন যে, আহত শিক্ষার্থীদের যদি অতিরিক্ত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তবে তার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে। তবে তদন্ত কমিশন প্রস্তাবিত ক্ষতিপূরণের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ণ
ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তিতে আয়োজিত স্মরণসভায় নিহত ও আহতদের পরিবার সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছে। গত বছরের ২১শে জুলাইয়ের ওই দুর্ঘটনায় ২৮ শিশুসহ অন্তত ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। মঙ্গলবার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী স্বজনরা তাদের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা সামলে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা যে সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। দুর্ঘটনাকবলিতদের এই সংকল্প জাতি কখনো ভুলবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে নিহত শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর স্বামী মনসুর হেলাল বিবিসি বাংলার বিশেষ ডকুমেন্টারির প্রসঙ্গ টেনে সরকারের গঠিত তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশের দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ৮০০ থেকে ৯০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ভবনটিতে মাত্র একটি পথ ছিল। বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ভবন নির্মাণের নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে আশু সমাধান প্রার্থনা করেন।
দুর্ঘটনায় আহত ৫৭ জনের অনেকেই এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মেহেরীন জানায়, সে শারীরিক জ্বালা-পোড়া ও মানসিক ট্রমার কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না এবং স্কুলেও যেতে পারছে না। একইভাবে ষষ্ঠ শ্রেণির নুরে জান্নাত ইউশাসহ অন্যান্য আহত শিক্ষার্থীরাও এখনো দুঃস্বপ্ন ও ট্রমার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে বলে তাদের অভিভাবকরা জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আশ্বাস দেন যে, আহত শিক্ষার্থীদের যদি অতিরিক্ত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তবে তার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে। তবে তদন্ত কমিশন প্রস্তাবিত ক্ষতিপূরণের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি।
