রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

কানাডার পণ্যে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক: বাণিজ্য যুদ্ধ আরও তীব্র


মো: মনিরুজ্জামান
মো: মনিরুজ্জামান বার্তা বিভাগ প্রধান
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

কানাডার পণ্যে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক: বাণিজ্য যুদ্ধ আরও তীব্র
ছবির ক্যাপশান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (বায়ে) ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি (ডানে)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও অ্যালকোহলের প্রতি কানাডা "অসম আচরণ" করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের জেরে পাল্টা পদক্ষেপের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

ওয়াইন, হকি স্টিক ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন ভোগ্য ও শিল্পপণ্যের ওপর নতুন এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং মাছসহ কয়েকটি প্রধান রপ্তানি পণ্য এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে এবং ইউএসএমসিএ চুক্তির আওতাধীন বা আওতাবহির্ভূত সকল পণ্যের ওপরই এটি প্রযোজ্য হবে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা "আরও জোরদার" করতে কানাডা প্রস্তুত। এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন শুল্ক আরোপ কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো চুক্তি লঙ্ঘনের একতরফা বাণিজ্য পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা। তিনি আরও মন্তব্য করেন, এটি "কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতিও হুমকি"।

ট্রাম্পের অভিযোগ, ইউএসএমসিএ চুক্তির আওতার বাইরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা কর আরোপ করে "অযৌক্তিক" এবং বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। অন্যদিকে, দুগ্ধপণ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নীতির বিরোধিতা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, কারণ কানাডা নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি বিদেশি দুগ্ধপণ্য আমদানিতে ৩০০ শতাংশেরও বেশি শুল্ক আরোপ করে।

গত বছর থেকে কানাডার বেশিরভাগ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিক্রির ওপর যে বয়কট চলছে, সেটিও যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষের একটি বড় কারণ। কানাডার প্রাদেশিক প্রধানরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ধাতু ও গাড়িশিল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ওপর আরোপিত শুল্ক তুলে নেয়, তবে তারা এই বয়কট তুলে নেবেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কিছু ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর কানাডাও ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ট্রাম্পের আরোপ করা ব্যাপক আন্তর্জাতিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালত রায়ে জানায়, প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। তবে সোমবারের এই নতুন শুল্ক ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ ধারার আওতায় আরোপ করা হচ্ছে, যা বাণিজ্যে বৈষম্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রধান ক্যান্ডেস লেইং এই শুল্ক আরোপকে "দুঃখজনক সিদ্ধান্ত" বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে, অর্থাৎ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে, আলোচনায় অর্থবহ অগ্রগতি অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্টিলড স্পিরিটস কাউন্সিলের প্রধান ক্রিস সোয়ঙ্গারও দুই পক্ষকে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


কানাডার পণ্যে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক: বাণিজ্য যুদ্ধ আরও তীব্র

প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ণ

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও অ্যালকোহলের প্রতি কানাডা "অসম আচরণ" করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের জেরে পাল্টা পদক্ষেপের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

ওয়াইন, হকি স্টিক ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন ভোগ্য ও শিল্পপণ্যের ওপর নতুন এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং মাছসহ কয়েকটি প্রধান রপ্তানি পণ্য এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে এবং ইউএসএমসিএ চুক্তির আওতাধীন বা আওতাবহির্ভূত সকল পণ্যের ওপরই এটি প্রযোজ্য হবে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা "আরও জোরদার" করতে কানাডা প্রস্তুত। এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন শুল্ক আরোপ কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো চুক্তি লঙ্ঘনের একতরফা বাণিজ্য পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা। তিনি আরও মন্তব্য করেন, এটি "কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতিও হুমকি"।

ট্রাম্পের অভিযোগ, ইউএসএমসিএ চুক্তির আওতার বাইরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা কর আরোপ করে "অযৌক্তিক" এবং বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। অন্যদিকে, দুগ্ধপণ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নীতির বিরোধিতা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, কারণ কানাডা নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি বিদেশি দুগ্ধপণ্য আমদানিতে ৩০০ শতাংশেরও বেশি শুল্ক আরোপ করে।

গত বছর থেকে কানাডার বেশিরভাগ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিক্রির ওপর যে বয়কট চলছে, সেটিও যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষের একটি বড় কারণ। কানাডার প্রাদেশিক প্রধানরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ধাতু ও গাড়িশিল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ওপর আরোপিত শুল্ক তুলে নেয়, তবে তারা এই বয়কট তুলে নেবেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কিছু ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর কানাডাও ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ট্রাম্পের আরোপ করা ব্যাপক আন্তর্জাতিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালত রায়ে জানায়, প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। তবে সোমবারের এই নতুন শুল্ক ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ ধারার আওতায় আরোপ করা হচ্ছে, যা বাণিজ্যে বৈষম্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রধান ক্যান্ডেস লেইং এই শুল্ক আরোপকে "দুঃখজনক সিদ্ধান্ত" বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে, অর্থাৎ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে, আলোচনায় অর্থবহ অগ্রগতি অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্টিলড স্পিরিটস কাউন্সিলের প্রধান ক্রিস সোয়ঙ্গারও দুই পক্ষকে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
কানাডার পণ্যে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক: বাণিজ্য যুদ্ধ আরও তীব্র
0:00 / 0:00
1x