স্প্যানিশ ফুটবলার মার্ক কুকুরেয়ার মাঠের বাইরের ব্যক্তিগত জীবন সংগ্রামের একটি অংশ হলো তার ছেলে মাতেও। মাত্র তিন বছর বয়সে মাতেওর অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) শনাক্ত হয়, যা অটিজমের তুলনামূলকভাবে মৃদু পর্যায় (লেভেল-১) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।
বোস্টন চিলড্রেনস হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এএসডি একটি স্নায়ুবিক বিকাশজনিত অবস্থা যা শিশুর চিন্তাভাবনা, কথা বলা, চলাফেরা ও আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে। মাতেওর নার্সারিতে যাওয়ার পর থেকেই কুকুরেয়া ও তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন যে, অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলায় সে প্রায়শই একা থাকত।
ছেলের অটিজম শনাক্ত হওয়ার পর কুকুরেয়া স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিইকে জানান, "আমাদের জীবনটাই বদলে দিয়েছে"। তিনি আরও বলেন, "ও একটু বড় হওয়ার পর দেখলাম, ও কথা বলছে না, আধো আধো শব্দও করছে না। নিজের সন্তানকে কষ্ট পেতে দেখার চেয়ে কঠিন আর কিছু নেই।"
ছেলের অটিজম নিয়ে কথা বলা এখনো কঠিন হলেও, এই অভিজ্ঞতা কুকুরেয়াকে ধৈর্য, সহমর্মিতা ও সংবেদনশীলতা শিখিয়েছে। একজন শীর্ষস্থানীয় ফুটবলার হিসেবে তিনি তার পরিচিতিকে অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ব্যবহার করছেন।
কুকুরেয়া বলেন, "আমাদের যে পরিচিতি আছে, তা যদি এই বিষয়টিকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে এবং আরও পরিবারকে সাহায্য করতে পারে, তাহলে আমি খুবই খুশি হবো।" তিনি আরও যোগ করেন, "এর ফলে যদি আরও স্কুল, সহায়তা ও সাপোর্ট সেন্টার গড়ে ওঠে, সেটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।"
শুরুতে মাতেওর স্কুল থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাননি কুকুরেয়া ও তার স্ত্রী ক্লডিয়া রদ্রিগেজ। অভিভাবক হিসেবে তারা তখন নিজেদের অসহায় ও দিশেহারা মনে করতেন।
ক্লডিয়া রদ্রিগেজ জানান, "স্কুল থেকে আমরা খুব একটা সহায়তা পাইনি। জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম মাসের মধ্য দিয়ে গেছি আমরা তখন।" তিনি আরও বলেন, "প্রতিদিন আমরা দু'জন একসঙ্গে মাতেওকে স্কুলে পৌঁছে দিতাম, আর বাড়ি ফিরতাম কাঁদতে কাঁদতে। প্রতিটা দিন।"
কুকুরেয়া উল্লেখ করেন যে, মাতেওকে মাথায় রেখেই তাদের সব পরিকল্পনা করতে হয়। চিকিৎসকেরা অটিজম শনাক্ত করলেও, অভিভাবক হিসেবে তারা এর জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তাই তাদের অনেক কিছু শিখতে হয়েছে এবং মাতেও-ও তাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গরম আবহাওয়ায় মাতেও অস্বস্তি বোধ করে, সে ঠান্ডা পরিবেশ বা সুইমিং পুল পছন্দ করে। এতদিন তাকে ভাইদের সঙ্গে গ্যালারিতে খেলা দেখতে আনা হয়নি, তবে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের মতো এবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে মাতেও উপস্থিত থাকতে পারে বলে কুকুরেয়া জানিয়েছেন।
২৮ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার সম্প্রতি ইংলিশ ক্লাব চেলসি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন। গোল করার পর পেঙ্গুইনের মতো লাফিয়ে উদযাপন করাটা তার স্বতন্ত্র পরিচয় হয়ে উঠেছে, যা তিনি তার পরিবারকে উৎসর্গ করেন।
কুকুরেয়া ব্যাখ্যা করেন, "ইন্টারনেটে দেখেছিলাম, পেঙ্গুইন একবার সঙ্গী বেছে নিলে সারাজীবন তার সঙ্গেই থাকে। পরিবারের সঙ্গে তাদের বন্ধন অটুট থাকে।" তিনি আরও বলেন, "আমার এই উদযাপন পরিবারের জন্য। ভালো-খারাপ সব সময় তারা আমার পাশে থেকেছে।"
কুকুরেয়ার সঙ্গী ক্লডিয়া রদ্রিগেজ এবং তাদের তিন সন্তান – মাতেও, রিও ও বেলা। তিনি সবসময় বলেন, ফুটবলের চেয়েও তার কাছে পরিবার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এবারের আসরে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন কুকুরেয়া।
মার্ক কুকুরেয়া স্বীকার করেন যে, ফুটবলারদের জীবন বাইরে থেকে যতই নিখুঁত মনে হোক না কেন, তাদেরও ব্যক্তিগত সমস্যা থাকে। এই অভিজ্ঞতা তাকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে শিখিয়েছে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ণ
স্প্যানিশ ফুটবলার মার্ক কুকুরেয়ার মাঠের বাইরের ব্যক্তিগত জীবন সংগ্রামের একটি অংশ হলো তার ছেলে মাতেও। মাত্র তিন বছর বয়সে মাতেওর অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) শনাক্ত হয়, যা অটিজমের তুলনামূলকভাবে মৃদু পর্যায় (লেভেল-১) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।
বোস্টন চিলড্রেনস হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এএসডি একটি স্নায়ুবিক বিকাশজনিত অবস্থা যা শিশুর চিন্তাভাবনা, কথা বলা, চলাফেরা ও আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে। মাতেওর নার্সারিতে যাওয়ার পর থেকেই কুকুরেয়া ও তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন যে, অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলায় সে প্রায়শই একা থাকত।
ছেলের অটিজম শনাক্ত হওয়ার পর কুকুরেয়া স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিইকে জানান, "আমাদের জীবনটাই বদলে দিয়েছে"। তিনি আরও বলেন, "ও একটু বড় হওয়ার পর দেখলাম, ও কথা বলছে না, আধো আধো শব্দও করছে না। নিজের সন্তানকে কষ্ট পেতে দেখার চেয়ে কঠিন আর কিছু নেই।"
ছেলের অটিজম নিয়ে কথা বলা এখনো কঠিন হলেও, এই অভিজ্ঞতা কুকুরেয়াকে ধৈর্য, সহমর্মিতা ও সংবেদনশীলতা শিখিয়েছে। একজন শীর্ষস্থানীয় ফুটবলার হিসেবে তিনি তার পরিচিতিকে অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ব্যবহার করছেন।
কুকুরেয়া বলেন, "আমাদের যে পরিচিতি আছে, তা যদি এই বিষয়টিকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে এবং আরও পরিবারকে সাহায্য করতে পারে, তাহলে আমি খুবই খুশি হবো।" তিনি আরও যোগ করেন, "এর ফলে যদি আরও স্কুল, সহায়তা ও সাপোর্ট সেন্টার গড়ে ওঠে, সেটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।"
শুরুতে মাতেওর স্কুল থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাননি কুকুরেয়া ও তার স্ত্রী ক্লডিয়া রদ্রিগেজ। অভিভাবক হিসেবে তারা তখন নিজেদের অসহায় ও দিশেহারা মনে করতেন।
ক্লডিয়া রদ্রিগেজ জানান, "স্কুল থেকে আমরা খুব একটা সহায়তা পাইনি। জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম মাসের মধ্য দিয়ে গেছি আমরা তখন।" তিনি আরও বলেন, "প্রতিদিন আমরা দু'জন একসঙ্গে মাতেওকে স্কুলে পৌঁছে দিতাম, আর বাড়ি ফিরতাম কাঁদতে কাঁদতে। প্রতিটা দিন।"
কুকুরেয়া উল্লেখ করেন যে, মাতেওকে মাথায় রেখেই তাদের সব পরিকল্পনা করতে হয়। চিকিৎসকেরা অটিজম শনাক্ত করলেও, অভিভাবক হিসেবে তারা এর জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তাই তাদের অনেক কিছু শিখতে হয়েছে এবং মাতেও-ও তাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গরম আবহাওয়ায় মাতেও অস্বস্তি বোধ করে, সে ঠান্ডা পরিবেশ বা সুইমিং পুল পছন্দ করে। এতদিন তাকে ভাইদের সঙ্গে গ্যালারিতে খেলা দেখতে আনা হয়নি, তবে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের মতো এবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে মাতেও উপস্থিত থাকতে পারে বলে কুকুরেয়া জানিয়েছেন।
২৮ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার সম্প্রতি ইংলিশ ক্লাব চেলসি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন। গোল করার পর পেঙ্গুইনের মতো লাফিয়ে উদযাপন করাটা তার স্বতন্ত্র পরিচয় হয়ে উঠেছে, যা তিনি তার পরিবারকে উৎসর্গ করেন।
কুকুরেয়া ব্যাখ্যা করেন, "ইন্টারনেটে দেখেছিলাম, পেঙ্গুইন একবার সঙ্গী বেছে নিলে সারাজীবন তার সঙ্গেই থাকে। পরিবারের সঙ্গে তাদের বন্ধন অটুট থাকে।" তিনি আরও বলেন, "আমার এই উদযাপন পরিবারের জন্য। ভালো-খারাপ সব সময় তারা আমার পাশে থেকেছে।"
কুকুরেয়ার সঙ্গী ক্লডিয়া রদ্রিগেজ এবং তাদের তিন সন্তান – মাতেও, রিও ও বেলা। তিনি সবসময় বলেন, ফুটবলের চেয়েও তার কাছে পরিবার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এবারের আসরে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন কুকুরেয়া।
মার্ক কুকুরেয়া স্বীকার করেন যে, ফুটবলারদের জীবন বাইরে থেকে যতই নিখুঁত মনে হোক না কেন, তাদেরও ব্যক্তিগত সমস্যা থাকে। এই অভিজ্ঞতা তাকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে শিখিয়েছে।
