বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও এবারের পরিস্থিতির ভিন্নতা লক্ষ্য করেছেন আবহাওয়াবিদরা। মৌসুমি নিম্নচাপটি উপকূলের খুব কাছ দিয়ে পশ্চিমমুখী অগ্রসর হওয়ায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদের মতে, নিম্নচাপের দিক পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টির মেঘ চট্টগ্রামেই আটকে গিয়েছিল, যা এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
পাহাড়ধসের পেছনে বৃষ্টির ভূমিকা থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর ভয়াবহতা বেড়েছে মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে। কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক হারে পাহাড় কাটা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করার ফলে পাহাড়ের মাটির বাঁধন দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদারের মতে, চট্টগ্রামের বালুময় পাহাড়গুলো প্রাকৃতিকভাবেই ক্ষয়িষ্ণু এবং অনিয়ন্ত্রিত বসতির কারণে সেখানে ঝুঁকি অনেক বেশি।
গত দুই দশকে চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড়ধসে প্রায় তিনশো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ২০০৭ ও ২০১৭ সালের ঘটনাগুলো ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকাগুলো বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, বিশেষ করে যেখানে পাহাড় কেটে ঘনবসতি গড়ে তোলা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ বিপর্যয় এড়াতে পাহাড়ের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা এবং পাহাড় কাটার মতো অপরাধের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতাই পারে পাহাড়ধসের এই ঝুঁকি থেকে জনজীবন রক্ষা করতে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও এবারের পরিস্থিতির ভিন্নতা লক্ষ্য করেছেন আবহাওয়াবিদরা। মৌসুমি নিম্নচাপটি উপকূলের খুব কাছ দিয়ে পশ্চিমমুখী অগ্রসর হওয়ায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদের মতে, নিম্নচাপের দিক পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টির মেঘ চট্টগ্রামেই আটকে গিয়েছিল, যা এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
পাহাড়ধসের পেছনে বৃষ্টির ভূমিকা থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর ভয়াবহতা বেড়েছে মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে। কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক হারে পাহাড় কাটা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করার ফলে পাহাড়ের মাটির বাঁধন দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদারের মতে, চট্টগ্রামের বালুময় পাহাড়গুলো প্রাকৃতিকভাবেই ক্ষয়িষ্ণু এবং অনিয়ন্ত্রিত বসতির কারণে সেখানে ঝুঁকি অনেক বেশি।
গত দুই দশকে চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড়ধসে প্রায় তিনশো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ২০০৭ ও ২০১৭ সালের ঘটনাগুলো ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকাগুলো বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, বিশেষ করে যেখানে পাহাড় কেটে ঘনবসতি গড়ে তোলা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ বিপর্যয় এড়াতে পাহাড়ের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা এবং পাহাড় কাটার মতো অপরাধের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতাই পারে পাহাড়ধসের এই ঝুঁকি থেকে জনজীবন রক্ষা করতে।
