রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও সম্ভাবনা

মার্কিন ভিসানীতিতে পরিবর্তন


মো: মনিরুজ্জামান
মো: মনিরুজ্জামান বার্তা বিভাগ প্রধান
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

মার্কিন ভিসানীতিতে পরিবর্তন
ছবির ক্যাপশান, স্ট্যাচু অব লিবার্টি, নিউ ইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতিতে নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ পাঁচ বছরের বদলে চার বছর করা হয়েছে। সেইসঙ্গে, 'ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস' (ডিএস) এর সময়সীমাও চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ করতে চার বছরের বেশি সময় লাগলে তাকে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। এর আগে, এফ-১ এবং জে-১ ভিসাধারীরা ডিগ্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারতেন, কিন্তু নতুন নীতিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি'র (ডিএইচএস) অধীন সংস্থা ইউএসসিআইএস (ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস) সরাসরি এই বিষয়টি দেখভাল করবে।

এছাড়া, বিদেশি শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সরকারের অনুমতি ছাড়া চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের মধ্যে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হবে। কোর্স শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে, যা আগে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড ছিল।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনজীবী রাজু মহাজন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, যারা বর্তমানে পাঁচ বছরের ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তাদের ভিসাও বর্তমান সিস্টেমে ট্রানজিশন হয়ে যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত দুই বছরে ভিসা সংক্রান্ত অনেক নীতিগত পরিবর্তন আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে স্থগিত বা বাতিল হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর পড়তে যাওয়া বর্ণনা ভৌমিক নতুন ভিসানীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এখানে কিছুদিন পর পর নিয়ম পরিবর্তন হচ্ছে, তাই পুরো বিষয় নিয়ে আমরা চিন্তিত। তবে তার ধারণা, যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী, তাদের খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়, বরং যারা এনরোল্ড নয় বা ভিসার অপব্যবহার করছে, তারাই বিপদে পড়বে।

পিএইচডি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নোবেল মনে করেন, মার্কিন সরকার এই নিয়মটি করেছে যাতে এখানে স্থায়ীভাবে থাকাকে নিরুৎসাহিত করা যায়। তিনি বলেন, যারা এফ-১ ভিসাকে ব্যবহার করে অন্যকিছু করে, তারাই বিপদে পড়বে। তবে যারা বৈধভাবে পড়াশোনা করে, তাদের জন্য এটি ভালো হয়েছে এবং অনিয়ম বন্ধ হবে।

ডক্টরেটসহ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অনেক কোর্সে চার বছরের বেশি সময় লাগে, বিশেষ করে যেখানে গবেষণা ও গবেষণাপত্র প্রকাশের প্রয়োজন হয়। তাই, নতুন নিয়মের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে পিএইচডি ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা কার্যক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর।

তবে আইনজীবী রাজু মহাজন মনে করেন, এতে খুব একটা সমস্যা হবে না। তার মতে, পিএইচডি শিক্ষার্থীরা চার বছরের ভিসা নিয়ে আসবে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করবে। এই এক্সটেনশন আগেও হতো, তবে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিএসও'র বদলে ফেডারেল সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং নিয়ম মেনে পড়াশোনা করছেন, তাদের আবেদন অনুমোদিত হবে। কিন্তু যারা পড়াশোনা না করে অন্য কাজে যুক্ত আছেন বা স্টুডেন্ট স্ট্যাটাসের অপব্যবহার করছেন, তাদের জন্যই ঝুঁকি বাড়বে। মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য হবে বলে তিনি জানান।

ভিসানীতির অপব্যবহার ঠেকানো ছাড়াও আসন্ন নির্বাচন এই পরিবর্তনের একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করেন রাজু মহাজন। তিনি বলেন, নভেম্বরে নির্বাচন থাকায় রিপাবলিকান পার্টি ভোটারদের খুশি করতে একের পর এক ঘোষণা দিচ্ছে, যার বেশিরভাগই দীর্ঘমেয়াদে হয়তো টিকবে না।

পড়াশোনার পর কাজের সুযোগ, অর্থাৎ অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি)-তেও নতুন নীতির প্রভাব পড়তে পারে। রাজু মহাজন জানান, গ্র্যাজুয়েশন শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে ওপিটির আবেদন করা যায় এবং অনুমোদনের ৬০ দিনের মধ্যে চাকরি খুঁজে নিতে হয়। তবে ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড মূলত তাদের জন্য যারা পড়াশোনা বা চাকরি না করে দেশে ফিরে যাবেন।

সব মিলিয়ে, নতুন নিয়মগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো স্টুডেন্ট ভিসার অপব্যবহার ঠেকানো। যারা ভিসার স্ট্যাটাস ধরে রাখতে একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রোগ্রাম পরিবর্তন করে, তাদের ওপরই নতুন নিয়মের প্রভাব বেশি পড়বে। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


মার্কিন ভিসানীতিতে পরিবর্তন

প্রকাশের তারিখ : রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ণ

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতিতে নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ পাঁচ বছরের বদলে চার বছর করা হয়েছে। সেইসঙ্গে, 'ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস' (ডিএস) এর সময়সীমাও চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ করতে চার বছরের বেশি সময় লাগলে তাকে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। এর আগে, এফ-১ এবং জে-১ ভিসাধারীরা ডিগ্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারতেন, কিন্তু নতুন নীতিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি'র (ডিএইচএস) অধীন সংস্থা ইউএসসিআইএস (ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস) সরাসরি এই বিষয়টি দেখভাল করবে।

এছাড়া, বিদেশি শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সরকারের অনুমতি ছাড়া চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের মধ্যে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হবে। কোর্স শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে, যা আগে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড ছিল।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনজীবী রাজু মহাজন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, যারা বর্তমানে পাঁচ বছরের ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তাদের ভিসাও বর্তমান সিস্টেমে ট্রানজিশন হয়ে যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত দুই বছরে ভিসা সংক্রান্ত অনেক নীতিগত পরিবর্তন আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে স্থগিত বা বাতিল হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর পড়তে যাওয়া বর্ণনা ভৌমিক নতুন ভিসানীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এখানে কিছুদিন পর পর নিয়ম পরিবর্তন হচ্ছে, তাই পুরো বিষয় নিয়ে আমরা চিন্তিত। তবে তার ধারণা, যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী, তাদের খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়, বরং যারা এনরোল্ড নয় বা ভিসার অপব্যবহার করছে, তারাই বিপদে পড়বে।

পিএইচডি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নোবেল মনে করেন, মার্কিন সরকার এই নিয়মটি করেছে যাতে এখানে স্থায়ীভাবে থাকাকে নিরুৎসাহিত করা যায়। তিনি বলেন, যারা এফ-১ ভিসাকে ব্যবহার করে অন্যকিছু করে, তারাই বিপদে পড়বে। তবে যারা বৈধভাবে পড়াশোনা করে, তাদের জন্য এটি ভালো হয়েছে এবং অনিয়ম বন্ধ হবে।

ডক্টরেটসহ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অনেক কোর্সে চার বছরের বেশি সময় লাগে, বিশেষ করে যেখানে গবেষণা ও গবেষণাপত্র প্রকাশের প্রয়োজন হয়। তাই, নতুন নিয়মের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে পিএইচডি ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা কার্যক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর।

তবে আইনজীবী রাজু মহাজন মনে করেন, এতে খুব একটা সমস্যা হবে না। তার মতে, পিএইচডি শিক্ষার্থীরা চার বছরের ভিসা নিয়ে আসবে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করবে। এই এক্সটেনশন আগেও হতো, তবে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিএসও'র বদলে ফেডারেল সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং নিয়ম মেনে পড়াশোনা করছেন, তাদের আবেদন অনুমোদিত হবে। কিন্তু যারা পড়াশোনা না করে অন্য কাজে যুক্ত আছেন বা স্টুডেন্ট স্ট্যাটাসের অপব্যবহার করছেন, তাদের জন্যই ঝুঁকি বাড়বে। মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য হবে বলে তিনি জানান।

ভিসানীতির অপব্যবহার ঠেকানো ছাড়াও আসন্ন নির্বাচন এই পরিবর্তনের একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করেন রাজু মহাজন। তিনি বলেন, নভেম্বরে নির্বাচন থাকায় রিপাবলিকান পার্টি ভোটারদের খুশি করতে একের পর এক ঘোষণা দিচ্ছে, যার বেশিরভাগই দীর্ঘমেয়াদে হয়তো টিকবে না।

পড়াশোনার পর কাজের সুযোগ, অর্থাৎ অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি)-তেও নতুন নীতির প্রভাব পড়তে পারে। রাজু মহাজন জানান, গ্র্যাজুয়েশন শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে ওপিটির আবেদন করা যায় এবং অনুমোদনের ৬০ দিনের মধ্যে চাকরি খুঁজে নিতে হয়। তবে ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড মূলত তাদের জন্য যারা পড়াশোনা বা চাকরি না করে দেশে ফিরে যাবেন।

সব মিলিয়ে, নতুন নিয়মগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো স্টুডেন্ট ভিসার অপব্যবহার ঠেকানো। যারা ভিসার স্ট্যাটাস ধরে রাখতে একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রোগ্রাম পরিবর্তন করে, তাদের ওপরই নতুন নিয়মের প্রভাব বেশি পড়বে। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
মার্কিন ভিসানীতিতে পরিবর্তন
0:00 / 0:00
1x