২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টাটি মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হলেও তা তুরস্কের রাজনীতিকে পুরোপুরি পুনর্গঠিত করেছে। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের পাশাপাশি বিদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এসেছে।
অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে জারি করা জরুরি অবস্থা ২০১৮ সাল পর্যন্ত বলবৎ ছিল। এ সময় তুরস্কের ইতিহাসে অন্যতম বড় শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ধর্মগুরু ফেতুল্লাহ গুলেনের নেটওয়ার্ককে দায়ী করে হাজার হাজার সেনা কর্মকর্তা, বিচারক, পুলিশ ও সরকারি কর্মচারীকে গ্রেফতার বা বরখাস্ত করা হয়, যদিও ২০২৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গুলেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
২০১৭ সালের গণভোটের মাধ্যমে তুরস্কে সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে শক্তিশালী নির্বাহী রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত হয় এবং সমস্ত ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। সমালোচকরা একে কর্তৃত্ববাদের দিকে যাত্রা বলে অভিহিত করলেও সমর্থকদের দাবি, এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এনেছে।
এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে বলে দাবি করেছে ফ্রিডম হাউজসহ বিভিন্ন সংস্থা। ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে তুরস্কের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১৬৩তম স্থানে। এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চে ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এবং ২০২৬ সালের মে মাসে প্রধান বিরোধী দলের নেতৃত্বেও বিচারিক হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
তবে সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনগুলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করেছে। ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে তুর্কি সামরিক বাহিনীকে বেসামরিক নিয়ন্ত্রণে এনে রাজনীতিতে তাদের হস্তক্ষেপের যুগের অবসান ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিরিয়ায় সামরিক অভিযানসহ তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতেও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক বড় পরিবর্তন এসেছে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ণ
২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টাটি মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হলেও তা তুরস্কের রাজনীতিকে পুরোপুরি পুনর্গঠিত করেছে। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের পাশাপাশি বিদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এসেছে।
অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে জারি করা জরুরি অবস্থা ২০১৮ সাল পর্যন্ত বলবৎ ছিল। এ সময় তুরস্কের ইতিহাসে অন্যতম বড় শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ধর্মগুরু ফেতুল্লাহ গুলেনের নেটওয়ার্ককে দায়ী করে হাজার হাজার সেনা কর্মকর্তা, বিচারক, পুলিশ ও সরকারি কর্মচারীকে গ্রেফতার বা বরখাস্ত করা হয়, যদিও ২০২৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গুলেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
২০১৭ সালের গণভোটের মাধ্যমে তুরস্কে সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে শক্তিশালী নির্বাহী রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত হয় এবং সমস্ত ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। সমালোচকরা একে কর্তৃত্ববাদের দিকে যাত্রা বলে অভিহিত করলেও সমর্থকদের দাবি, এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এনেছে।
এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে বলে দাবি করেছে ফ্রিডম হাউজসহ বিভিন্ন সংস্থা। ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে তুরস্কের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১৬৩তম স্থানে। এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চে ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এবং ২০২৬ সালের মে মাসে প্রধান বিরোধী দলের নেতৃত্বেও বিচারিক হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
তবে সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনগুলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করেছে। ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে তুর্কি সামরিক বাহিনীকে বেসামরিক নিয়ন্ত্রণে এনে রাজনীতিতে তাদের হস্তক্ষেপের যুগের অবসান ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিরিয়ায় সামরিক অভিযানসহ তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতেও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক বড় পরিবর্তন এসেছে।
