রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আকুতি

ত্রিশালে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে যুবদল নেতা শাহাবুল আলমের খোলা চিঠি


মোঃ আরোয়ার জাহান পারভেজ
মোঃ আরোয়ার জাহান পারভেজ নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

ত্রিশালে  প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে যুবদল নেতা শাহাবুল আলমের খোলা চিঠি
"সবাই পাইছে পুরস্কার, আমি পাইছি বহিষ্কার"

ময়মনসিংহের ত্রিশালের আলোচিত বিএনপি নেতা সাবেক যুবদলনেতা শাহ মো. শাহাবুল আলম নিজের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আকুতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। 

 

বৃহস্পতিবার(১৬ জুলাই) নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি বহিষ্কারাদেশের কপির একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবির ওপর লেখা ছিল— “সবাই পাইছে পুরস্কার, আমি পাইছি বহিষ্কার এর সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন।

 

চিঠিতে তিনি নিজেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক সাবেক সভাপতি, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সদস্য এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের (বহিষ্কৃত) সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।

 

খোলা চিঠিতে তিনি লেখেন, “বিষয়: আমাদের কান্না শুনতে কি পান না?”—যা রাজনৈতিক জীবনের নানা ত্যাগ, নির্যাতন বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি তার হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।

এদিকে, শাহ মো. শাহাবুল আলমের এই পোস্ট ঘিরে মন্তব্য করেছেন তার কয়েকজন সমর্থক সাধারণ কর্মী। তারা বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

 

রাকিবুল হাসান খান মন্তব্য করেন, “শাহাবুল ভাইয়ের মতো কর্মীবান্ধব নেতাকে বহিষ্কার নয়, সম্মান দেওয়া উচিত। তিনি দলের দুর্দিনে রাজপথে ছিলেন এবং মামলা-হামলা কারাভোগ করেছেন। তার ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হোক।

 

ফারুক শেখ মন্তব্য করেন, “আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যে ব্যক্তি বিএনপির জন্য জীবন-যৌবন উৎসর্গ করলো, সে কেন আজও বহিষ্কৃত?”

 

মনির হোসাইন লেখেন, “ত্রিশাল উপজেলার সর্বোচ্চ কারা নির্যাতিত যুবনেতা শাহ মো. শাহাবুল আলম ভাইয়ের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চাই।

মামুন মুক্তা নামে একজন তার মন্তব্যে লেখেন, “এদলের জন্য যিনি দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তার অবদান মূল্যায়ন করা উচিত। আমরা তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাই।

 

বিষয়ে শাহ মো. শাহাবুল আলম বলেন, “আমি বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে এবং বিশেষ করে ২৮ অক্টোবরের পরবর্তী কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে গিয়ে ২৯টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার আসামি হতে হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মোট ১১ বার গ্রেপ্তার হয়ে সর্বমোট ২৮৮ দিন কারাভোগ করেছি।

 

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের মতো চরম শিক্ষাগত মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছিলাম। এছাড়া ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের দিন জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়ে তিনটি মামলায় ১০ দিনের পুলিশি রিমান্ড ভোগ করতে হয়েছে।

 

তিনি দাবি করেন, দলের জন্য দীর্ঘদিন ত্যাগ নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও বহিষ্কারাদেশ পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে কষ্ট পেয়েছেন। তাই ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

তবে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন তার সমর্থকরা।

 

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


ত্রিশালে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে যুবদল নেতা শাহাবুল আলমের খোলা চিঠি

প্রকাশের তারিখ : শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ণ

featured Image

ময়মনসিংহের ত্রিশালের আলোচিত বিএনপি নেতা সাবেক যুবদলনেতা শাহ মো. শাহাবুল আলম নিজের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আকুতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। 

 

বৃহস্পতিবার(১৬ জুলাই) নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি বহিষ্কারাদেশের কপির একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবির ওপর লেখা ছিল— “সবাই পাইছে পুরস্কার, আমি পাইছি বহিষ্কার এর সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন।

 

চিঠিতে তিনি নিজেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক সাবেক সভাপতি, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সদস্য এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের (বহিষ্কৃত) সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।

 

খোলা চিঠিতে তিনি লেখেন, “বিষয়: আমাদের কান্না শুনতে কি পান না?”—যা রাজনৈতিক জীবনের নানা ত্যাগ, নির্যাতন বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি তার হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।

এদিকে, শাহ মো. শাহাবুল আলমের এই পোস্ট ঘিরে মন্তব্য করেছেন তার কয়েকজন সমর্থক সাধারণ কর্মী। তারা বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

 

রাকিবুল হাসান খান মন্তব্য করেন, “শাহাবুল ভাইয়ের মতো কর্মীবান্ধব নেতাকে বহিষ্কার নয়, সম্মান দেওয়া উচিত। তিনি দলের দুর্দিনে রাজপথে ছিলেন এবং মামলা-হামলা কারাভোগ করেছেন। তার ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হোক।

 

ফারুক শেখ মন্তব্য করেন, “আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যে ব্যক্তি বিএনপির জন্য জীবন-যৌবন উৎসর্গ করলো, সে কেন আজও বহিষ্কৃত?”

 

মনির হোসাইন লেখেন, “ত্রিশাল উপজেলার সর্বোচ্চ কারা নির্যাতিত যুবনেতা শাহ মো. শাহাবুল আলম ভাইয়ের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চাই।

মামুন মুক্তা নামে একজন তার মন্তব্যে লেখেন, “এদলের জন্য যিনি দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তার অবদান মূল্যায়ন করা উচিত। আমরা তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাই।

 

বিষয়ে শাহ মো. শাহাবুল আলম বলেন, “আমি বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে এবং বিশেষ করে ২৮ অক্টোবরের পরবর্তী কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে গিয়ে ২৯টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার আসামি হতে হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মোট ১১ বার গ্রেপ্তার হয়ে সর্বমোট ২৮৮ দিন কারাভোগ করেছি।

 

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের মতো চরম শিক্ষাগত মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছিলাম। এছাড়া ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের দিন জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়ে তিনটি মামলায় ১০ দিনের পুলিশি রিমান্ড ভোগ করতে হয়েছে।

 

তিনি দাবি করেন, দলের জন্য দীর্ঘদিন ত্যাগ নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও বহিষ্কারাদেশ পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে কষ্ট পেয়েছেন। তাই ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

তবে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন তার সমর্থকরা।

 


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ত্রিশালে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে যুবদল নেতা শাহাবুল আলমের খোলা চিঠি
0:00 / 0:00
1x