রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

আবু সাঈদের বলিদান: জুলাইয়ের ঐক্য ভেঙেছিল ক্ষমতার দ্বন্দ্বে


মো: মনিরুজ্জামান
মো: মনিরুজ্জামান বার্তা বিভাগ প্রধান
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

আবু সাঈদের বলিদান: জুলাইয়ের ঐক্য ভেঙেছিল ক্ষমতার দ্বন্দ্বে
ছবির ক্যাপশান, পাঁচই অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান

গত জুলাই মাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে তৎকালীন সরকার এর বিরোধিতা করে। পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে মারমুখী হয়ে ওঠে, যার ফলে সংঘর্ষও দেখা দেয়।

এই উত্তেজনার মধ্যেই ১৬ই জুলাই রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন। সেসময় ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, আবু সাঈদ পুলিশের গুলির সামনে দু’হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছেন। তার এই দৃশ্য এবং পরবর্তী মৃত্যু আন্দোলনে এক নাটকীয় পরিবর্তন আনে, যা দ্রুত সবখানে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোড়ন তোলে। লেখক ও রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ওই মুহূর্তটাই হয়ে ওঠে "আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট"।

মহিউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আবু সাঈদের মৃত্যু দুটি বিষয় ঘটিয়েছে— প্রথমত, আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা ও সব দল-মতের ঐক্য তৈরি হয়েছে; দ্বিতীয়ত, আন্দোলনে গতি এনে সেটাকে সরকার পতন আন্দোলনের দিকে নিয়ে গেছে। তিনি ঊনসত্তরের আসাদ এবং নব্বইয়ের ডাক্তার মিলনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, "এ ধরনের আন্দোলনে যদি কেউ নিহত হয়, তখন আন্দোলন বেগবান হয়। এখানে আবু সাঈদের মৃত্যুটাও আন্দোলনে সঞ্জীবনী শক্তির মতো কাজ করেছে।"

পরবর্তী দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও ব্যাপকতা লাভ করে এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যোগ দেয়। মহিউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, "আওয়ামী লীগ, তার সমর্থক এবং আওয়ামী লীগের কোলাবরেটর যারা, তারা বাদ দিয়ে বাকি সবার মধ্যে আমরা একটা ঐকবদ্ধ অবস্থান দেখলাম। এটা হয়ে গেলো 'হাসিনা হটাও' আন্দোলন। আবু সাঈদের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই এটা শুরু।"

তবে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে নতুন এক রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়, যা জুলাইয়ের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে প্রথম হোঁচট দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা বলেন, তখন কে, কী সুবিধা নেবে সেই হিসেব-নিকেশ শুরু হয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "একেবারে ইউনিয়ন লেভেল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের টপ পর্যায় পর্যন্ত ক্ষমতা যেভাবে বিলি-বণ্টন হয়, সেই বিলি-বণ্টনের পুরো ব্যবস্থাটা হঠাৎ করে ভ্যানিশ (অদৃশ্য) হয়ে যায়। এরকম একটা পতনের পরে এই পুরো স্ট্রাকচারের জায়গাগুলোতে নতুন কেউ আসার জন্য একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়।"

এই প্রতিযোগিতায় মূলত রাজনৈতিক শক্তিগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারাও যুক্ত হন। মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, "বড় দল হিসেবে এখানে বিএনপি একটা পক্ষ ছিল। আবার ওই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর একটা বড় রকমের পুনরুত্থান হলো। তারাও একটা পক্ষ। আবার যারা আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন, তারাও একটা পক্ষ হয়ে গেলেন, নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকলেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "দেখা গেলো, কেউ সচিবালয়ে নিজের লোক বসাচ্ছে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের লোক বসাচ্ছে। সেখানে একধরনের প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দ্বৈরথ তৈরি হলো।"

জুলাইয়ের আন্দোলন কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হলেও পরে তা শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজনৈতিক দলগুলো শুরুতে নেপথ্যে কাজ করলেও, ৫ই অগাস্টের পর তারা সামনে চলে আসে এবং তাদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সামিনা লুৎফা মনে করেন, যারা আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন তাদের রাজনৈতিক সংগঠন না থাকায় রাজনৈতিক দলগুলো সামনে এসে নিজেদের ক্রেডিট দাবি করে, যা ঐক্য নষ্ট করে। তিনি বলেন, "এখানে মাস্টারমাইন্ড ঘোষণাও আমরা দেখেছি।"

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেসময় সব পক্ষ, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। ক্ষমতা ভাগাভাগিই ছিল এই বিভক্তির মূল কারণ। মহিউদ্দিন আহমদ এবং সামিনা লুৎফা উভয়েই একমত যে, "ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারাই ছিল এখানে মুখ্য" এবং "কে দ্রুত ক্ষমতায় যাবে, কোন প্রসেসে যাবে সেটাই ছিল মূল বিষয়।" সামিনা লুৎফা আরও বলেন, "আপনি চিন্তা করেন, বিএনপির মতো দলকে বলতে হয়েছে যে, আমরা তখন চাপে পড়ে এইটাতে (সংস্কারে) রাজি হয়েছি। কারণ তা না হলে নির্বাচন পিছিয়ে যাবে। মানে সবগুলো রাজনৈতিক দলেরই এখানে মূল উদ্দেশ্য ছিল আমি কীভাবে ক্ষমতায় যাবো।"

এই বিভক্তি সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের পরও এর কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এর ফলে জনগণের মধ্যে 'বিভ্রান্তি বাড়ছে' এবং "এখন একটা ধারণা হয়েছে যে মানুষ আবারো প্রতারিত হচ্ছে। মানুষ একবার বাহাত্তর সালে প্রতারিত হয়েছে, নব্বইয়ে প্রতারিত হয়েছে এবং এবারও এ ধারণাটা জেঁকে বসেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে যে, তাহলে কেন আমরা বারবার আন্দোলন করি। তখনই অনেকে বলতে শুরু করেছেন যে, আগেই তো আমরা ভালো ছিলাম।"

আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম এখনো ছেলের পাসপোর্ট সাইজের একমাত্র ছবিটি আগলে রেখেছেন, আর বাবা মকবুল হোসেন প্রায় প্রতিদিনই সন্তানের কবরে দোয়া করেন। মকবুল হোসেন বলেন, "ছেলে হারানোর যে কষ্ট, আমার আত্মাটা এতদিনেও ঠাণ্ডা হইলো না। হয়তো সে সামনে ঘোরাঘুরি করতো, চাকরি করতো, বিয়ে-শাদি করতো, বাড়ি-ঘর করতো। আমার সামনে থাকতো। এগুলো তো কিছু হলো না।" আবু সাঈদের মৃত্যু তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করলেও, ৫ই অগাস্টের পর সেই ঐক্য আর থাকেনি, বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে ক্ষমতার ভাগাভাগি ও রাজনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্বে। 

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


আবু সাঈদের বলিদান: জুলাইয়ের ঐক্য ভেঙেছিল ক্ষমতার দ্বন্দ্বে

প্রকাশের তারিখ : শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ণ

featured Image

গত জুলাই মাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে তৎকালীন সরকার এর বিরোধিতা করে। পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে মারমুখী হয়ে ওঠে, যার ফলে সংঘর্ষও দেখা দেয়।

এই উত্তেজনার মধ্যেই ১৬ই জুলাই রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন। সেসময় ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, আবু সাঈদ পুলিশের গুলির সামনে দু’হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছেন। তার এই দৃশ্য এবং পরবর্তী মৃত্যু আন্দোলনে এক নাটকীয় পরিবর্তন আনে, যা দ্রুত সবখানে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোড়ন তোলে। লেখক ও রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ওই মুহূর্তটাই হয়ে ওঠে "আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট"।

মহিউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আবু সাঈদের মৃত্যু দুটি বিষয় ঘটিয়েছে— প্রথমত, আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা ও সব দল-মতের ঐক্য তৈরি হয়েছে; দ্বিতীয়ত, আন্দোলনে গতি এনে সেটাকে সরকার পতন আন্দোলনের দিকে নিয়ে গেছে। তিনি ঊনসত্তরের আসাদ এবং নব্বইয়ের ডাক্তার মিলনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, "এ ধরনের আন্দোলনে যদি কেউ নিহত হয়, তখন আন্দোলন বেগবান হয়। এখানে আবু সাঈদের মৃত্যুটাও আন্দোলনে সঞ্জীবনী শক্তির মতো কাজ করেছে।"

পরবর্তী দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও ব্যাপকতা লাভ করে এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যোগ দেয়। মহিউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, "আওয়ামী লীগ, তার সমর্থক এবং আওয়ামী লীগের কোলাবরেটর যারা, তারা বাদ দিয়ে বাকি সবার মধ্যে আমরা একটা ঐকবদ্ধ অবস্থান দেখলাম। এটা হয়ে গেলো 'হাসিনা হটাও' আন্দোলন। আবু সাঈদের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই এটা শুরু।"

তবে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে নতুন এক রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়, যা জুলাইয়ের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে প্রথম হোঁচট দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা বলেন, তখন কে, কী সুবিধা নেবে সেই হিসেব-নিকেশ শুরু হয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "একেবারে ইউনিয়ন লেভেল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের টপ পর্যায় পর্যন্ত ক্ষমতা যেভাবে বিলি-বণ্টন হয়, সেই বিলি-বণ্টনের পুরো ব্যবস্থাটা হঠাৎ করে ভ্যানিশ (অদৃশ্য) হয়ে যায়। এরকম একটা পতনের পরে এই পুরো স্ট্রাকচারের জায়গাগুলোতে নতুন কেউ আসার জন্য একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়।"

এই প্রতিযোগিতায় মূলত রাজনৈতিক শক্তিগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারাও যুক্ত হন। মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, "বড় দল হিসেবে এখানে বিএনপি একটা পক্ষ ছিল। আবার ওই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর একটা বড় রকমের পুনরুত্থান হলো। তারাও একটা পক্ষ। আবার যারা আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন, তারাও একটা পক্ষ হয়ে গেলেন, নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকলেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "দেখা গেলো, কেউ সচিবালয়ে নিজের লোক বসাচ্ছে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের লোক বসাচ্ছে। সেখানে একধরনের প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দ্বৈরথ তৈরি হলো।"

জুলাইয়ের আন্দোলন কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হলেও পরে তা শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজনৈতিক দলগুলো শুরুতে নেপথ্যে কাজ করলেও, ৫ই অগাস্টের পর তারা সামনে চলে আসে এবং তাদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সামিনা লুৎফা মনে করেন, যারা আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন তাদের রাজনৈতিক সংগঠন না থাকায় রাজনৈতিক দলগুলো সামনে এসে নিজেদের ক্রেডিট দাবি করে, যা ঐক্য নষ্ট করে। তিনি বলেন, "এখানে মাস্টারমাইন্ড ঘোষণাও আমরা দেখেছি।"

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেসময় সব পক্ষ, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। ক্ষমতা ভাগাভাগিই ছিল এই বিভক্তির মূল কারণ। মহিউদ্দিন আহমদ এবং সামিনা লুৎফা উভয়েই একমত যে, "ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারাই ছিল এখানে মুখ্য" এবং "কে দ্রুত ক্ষমতায় যাবে, কোন প্রসেসে যাবে সেটাই ছিল মূল বিষয়।" সামিনা লুৎফা আরও বলেন, "আপনি চিন্তা করেন, বিএনপির মতো দলকে বলতে হয়েছে যে, আমরা তখন চাপে পড়ে এইটাতে (সংস্কারে) রাজি হয়েছি। কারণ তা না হলে নির্বাচন পিছিয়ে যাবে। মানে সবগুলো রাজনৈতিক দলেরই এখানে মূল উদ্দেশ্য ছিল আমি কীভাবে ক্ষমতায় যাবো।"

এই বিভক্তি সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের পরও এর কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এর ফলে জনগণের মধ্যে 'বিভ্রান্তি বাড়ছে' এবং "এখন একটা ধারণা হয়েছে যে মানুষ আবারো প্রতারিত হচ্ছে। মানুষ একবার বাহাত্তর সালে প্রতারিত হয়েছে, নব্বইয়ে প্রতারিত হয়েছে এবং এবারও এ ধারণাটা জেঁকে বসেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে যে, তাহলে কেন আমরা বারবার আন্দোলন করি। তখনই অনেকে বলতে শুরু করেছেন যে, আগেই তো আমরা ভালো ছিলাম।"

আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম এখনো ছেলের পাসপোর্ট সাইজের একমাত্র ছবিটি আগলে রেখেছেন, আর বাবা মকবুল হোসেন প্রায় প্রতিদিনই সন্তানের কবরে দোয়া করেন। মকবুল হোসেন বলেন, "ছেলে হারানোর যে কষ্ট, আমার আত্মাটা এতদিনেও ঠাণ্ডা হইলো না। হয়তো সে সামনে ঘোরাঘুরি করতো, চাকরি করতো, বিয়ে-শাদি করতো, বাড়ি-ঘর করতো। আমার সামনে থাকতো। এগুলো তো কিছু হলো না।" আবু সাঈদের মৃত্যু তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করলেও, ৫ই অগাস্টের পর সেই ঐক্য আর থাকেনি, বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে ক্ষমতার ভাগাভাগি ও রাজনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্বে। 


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
আবু সাঈদের বলিদান: জুলাইয়ের ঐক্য ভেঙেছিল ক্ষমতার দ্বন্দ্বে
0:00 / 0:00
1x