আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য অতিক্রম করে। এটি বৈশ্বিক সমুদ্রপথে তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ, যার প্রায় ৮০ শতাংশ এশিয়া অভিমুখে যায়। বিশ্বের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশও এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়, যেখানে কাতারের মতো বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশগুলো এই রুটের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল।
হরমুজ প্রণালি ইরানকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়ায় উপসাগরীয় উৎপাদকরা দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সৌদি আরবের এক হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট বা পেট্রোলাইন পাইপলাইন। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় নির্মিত এই নেটওয়ার্ক দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্রকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু রপ্তানি টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ২০১৯ সালে জরুরি ব্যবহারের জন্য এর সক্ষমতা দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হয়।
একইভাবে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ৪০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন (এডকপ) তৈরি করেছে। এটি আবুধাবির হাবশান তেলক্ষেত্রকে ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে রপ্তানির সুযোগ করে দিয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড ফুজাইরাহতে নতুন বহুমুখী বন্দর এবং বিদ্যমান বন্দরে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করছে, যার লক্ষ্য জেবেল আলির ওপর নির্ভরতা কমানো।
তবে এসব বিকল্প ব্যবস্থার প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো সক্ষমতা। আইইএ-এর হিসাব অনুযায়ী, এগুলো দৈনিক মাত্র ৩৫ লাখ থেকে ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল অন্যদিকে সরিয়ে নিতে পারে, যা হরমুজ প্রণালির দৈনিক দুই কোটি ব্যারেলের তুলনায় অনেক কম। কিংস কলেজ লন্ডনের ডেভিড বি. রবার্টস মন্তব্য করেছেন, "এটিও এখনো যথেষ্ট নয়", কারণ ইয়ানবুর লোডিং টার্মিনালগুলো এত বেশি তেল দ্রুত পরিচালনার জন্য নকশা করা হয়নি। মার্চ মাসে ফুজাইরাহর স্থাপনায় এবং এপ্রিল মাসে পেট্রোলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা এই বিকল্প পথগুলোর দুর্বলতা তুলে ধরে।
ইরানও হরমুজ এড়িয়ে যাওয়ার নিজস্ব রুট তৈরি করেছে। উপসাগরের মাথায় অবস্থিত গোরেহ থেকে ওমান উপসাগরের জাস্ক রপ্তানি টার্মিনাল পর্যন্ত এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লাখ ব্যারেল পরিবহনের জন্য পরিকল্পিত এই পাইপলাইন ইরানি তেলকে হরমুজ প্রণালি ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ দেয়। তবে বাস্তবে নিষেধাজ্ঞা এবং অসম্পূর্ণ টার্মিনাল অবকাঠামোর কারণে এর ব্যবহার পরিকল্পিত সক্ষমতার অনেক নিচে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন রপ্তানি রুটও বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো ৬০০ মাইল দীর্ঘ কিরকুক-জেইহান পাইপলাইন, যা উত্তর ইরাকের কিরকুক অঞ্চল থেকে তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর চেইহানে তেল পরিবহন করে। দুই বছর ছয় মাস বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এটি পুনরায় চালু হয় এবং ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ এর পরিবহন দৈনিক প্রায় আড়াই লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। এছাড়াও, ইরাকি তেলকে উপসাগর এড়িয়ে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম কিরকুক-বানিয়াস পাইপলাইন পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আরও উচ্চাভিলাষী প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ফোর সিজ প্রজেক্ট, যা সিরিয়া ও তুরস্কের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর, কৃষ্ণ সাগর, কাস্পিয়ান সাগর ও আরব উপসাগরকে যুক্ত করার জন্য প্রস্তাবিত পরিবহন ও জ্বালানি নেটওয়ার্ক। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তুরস্কের জ্বালানিমন্ত্রী আলপারস্লান বায়রাকতার কাতার ও তুরস্ককে সংযুক্ত করার জন্য ২০০৯ সালে প্রস্তাবিত গ্যাস পাইপলাইনের পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেন। এছাড়া, ১৯৮৩ সালে প্রথম প্রস্তাবিত বসরা-আকাবা পাইপলাইনের দাবিও আবার জোরালো হয়েছে, যা ইরাকি তেলকে জর্ডানের লোহিত সাগরীয় বন্দর আকাবায় পৌঁছে দেবে।
তবে সিঙ্গাপুরের এস. রাজরত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হুজেইর ইজেকিয়েল জুলহিশাম সতর্ক করেছেন যে এসব প্রকল্প নতুন ধরনের নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। তার মতে, এই রুটগুলো এমন রাষ্ট্রগুলোর হাতে জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে, যারা নিজেরা জ্বালানি উৎপাদক নয়, কিন্তু ট্রানজিট রাষ্ট্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, ইরাক বা সিরিয়া অতিক্রমকারী যেকোনো রুট আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা, সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ঝুঁকির মুখে থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
মিসরের সুমেদ পাইপলাইন লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে সুয়েজ খাল এড়িয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর একটি পথ তৈরি করেছে, যা প্রতিদিন ২৫ লাখ থেকে ২৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের হামলায় বৃহত্তর সুয়েজ করিডরের দুর্বলতা তুলে ধরেছে। সংঘাত শুরুর পর সুমেদ পাইপলাইনে তেলের প্রবাহ বাড়লেও এর তুলনামূলক সীমিত সক্ষমতা এখনো ইউরোপীয় সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা বলে ডেভিড রবার্টস মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (রুসি)-এর মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ড. এইচ. এ. হেলিয়ার বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো ক্রমশ হরমুজের ওপর তাদের নির্ভরতা কমাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি মনে করেন, অতীতের মতো আর হরমুজের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা সম্ভব নয় বলে আঞ্চলিক সরকারগুলো বিকল্প রপ্তানি রুট উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাবে। তবে হেলিয়ারের বিশ্বাস, এসব বিকল্প একেবারে হরমুজের জায়গা নেবে না, বরং "একটি রুটের জায়গায় আরেকটি রুটের সরল প্রতিস্থাপন হবে না।"
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য অতিক্রম করে। এটি বৈশ্বিক সমুদ্রপথে তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ, যার প্রায় ৮০ শতাংশ এশিয়া অভিমুখে যায়। বিশ্বের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশও এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়, যেখানে কাতারের মতো বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশগুলো এই রুটের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল।
হরমুজ প্রণালি ইরানকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়ায় উপসাগরীয় উৎপাদকরা দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সৌদি আরবের এক হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট বা পেট্রোলাইন পাইপলাইন। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় নির্মিত এই নেটওয়ার্ক দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্রকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু রপ্তানি টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ২০১৯ সালে জরুরি ব্যবহারের জন্য এর সক্ষমতা দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হয়।
একইভাবে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ৪০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন (এডকপ) তৈরি করেছে। এটি আবুধাবির হাবশান তেলক্ষেত্রকে ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে রপ্তানির সুযোগ করে দিয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড ফুজাইরাহতে নতুন বহুমুখী বন্দর এবং বিদ্যমান বন্দরে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করছে, যার লক্ষ্য জেবেল আলির ওপর নির্ভরতা কমানো।
তবে এসব বিকল্প ব্যবস্থার প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো সক্ষমতা। আইইএ-এর হিসাব অনুযায়ী, এগুলো দৈনিক মাত্র ৩৫ লাখ থেকে ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল অন্যদিকে সরিয়ে নিতে পারে, যা হরমুজ প্রণালির দৈনিক দুই কোটি ব্যারেলের তুলনায় অনেক কম। কিংস কলেজ লন্ডনের ডেভিড বি. রবার্টস মন্তব্য করেছেন, "এটিও এখনো যথেষ্ট নয়", কারণ ইয়ানবুর লোডিং টার্মিনালগুলো এত বেশি তেল দ্রুত পরিচালনার জন্য নকশা করা হয়নি। মার্চ মাসে ফুজাইরাহর স্থাপনায় এবং এপ্রিল মাসে পেট্রোলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা এই বিকল্প পথগুলোর দুর্বলতা তুলে ধরে।
ইরানও হরমুজ এড়িয়ে যাওয়ার নিজস্ব রুট তৈরি করেছে। উপসাগরের মাথায় অবস্থিত গোরেহ থেকে ওমান উপসাগরের জাস্ক রপ্তানি টার্মিনাল পর্যন্ত এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লাখ ব্যারেল পরিবহনের জন্য পরিকল্পিত এই পাইপলাইন ইরানি তেলকে হরমুজ প্রণালি ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ দেয়। তবে বাস্তবে নিষেধাজ্ঞা এবং অসম্পূর্ণ টার্মিনাল অবকাঠামোর কারণে এর ব্যবহার পরিকল্পিত সক্ষমতার অনেক নিচে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন রপ্তানি রুটও বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো ৬০০ মাইল দীর্ঘ কিরকুক-জেইহান পাইপলাইন, যা উত্তর ইরাকের কিরকুক অঞ্চল থেকে তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর চেইহানে তেল পরিবহন করে। দুই বছর ছয় মাস বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এটি পুনরায় চালু হয় এবং ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ এর পরিবহন দৈনিক প্রায় আড়াই লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। এছাড়াও, ইরাকি তেলকে উপসাগর এড়িয়ে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম কিরকুক-বানিয়াস পাইপলাইন পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আরও উচ্চাভিলাষী প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ফোর সিজ প্রজেক্ট, যা সিরিয়া ও তুরস্কের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর, কৃষ্ণ সাগর, কাস্পিয়ান সাগর ও আরব উপসাগরকে যুক্ত করার জন্য প্রস্তাবিত পরিবহন ও জ্বালানি নেটওয়ার্ক। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তুরস্কের জ্বালানিমন্ত্রী আলপারস্লান বায়রাকতার কাতার ও তুরস্ককে সংযুক্ত করার জন্য ২০০৯ সালে প্রস্তাবিত গ্যাস পাইপলাইনের পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেন। এছাড়া, ১৯৮৩ সালে প্রথম প্রস্তাবিত বসরা-আকাবা পাইপলাইনের দাবিও আবার জোরালো হয়েছে, যা ইরাকি তেলকে জর্ডানের লোহিত সাগরীয় বন্দর আকাবায় পৌঁছে দেবে।
তবে সিঙ্গাপুরের এস. রাজরত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হুজেইর ইজেকিয়েল জুলহিশাম সতর্ক করেছেন যে এসব প্রকল্প নতুন ধরনের নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। তার মতে, এই রুটগুলো এমন রাষ্ট্রগুলোর হাতে জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে, যারা নিজেরা জ্বালানি উৎপাদক নয়, কিন্তু ট্রানজিট রাষ্ট্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, ইরাক বা সিরিয়া অতিক্রমকারী যেকোনো রুট আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা, সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ঝুঁকির মুখে থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
মিসরের সুমেদ পাইপলাইন লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে সুয়েজ খাল এড়িয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর একটি পথ তৈরি করেছে, যা প্রতিদিন ২৫ লাখ থেকে ২৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের হামলায় বৃহত্তর সুয়েজ করিডরের দুর্বলতা তুলে ধরেছে। সংঘাত শুরুর পর সুমেদ পাইপলাইনে তেলের প্রবাহ বাড়লেও এর তুলনামূলক সীমিত সক্ষমতা এখনো ইউরোপীয় সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা বলে ডেভিড রবার্টস মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (রুসি)-এর মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ড. এইচ. এ. হেলিয়ার বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো ক্রমশ হরমুজের ওপর তাদের নির্ভরতা কমাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি মনে করেন, অতীতের মতো আর হরমুজের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা সম্ভব নয় বলে আঞ্চলিক সরকারগুলো বিকল্প রপ্তানি রুট উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাবে। তবে হেলিয়ারের বিশ্বাস, এসব বিকল্প একেবারে হরমুজের জায়গা নেবে না, বরং "একটি রুটের জায়গায় আরেকটি রুটের সরল প্রতিস্থাপন হবে না।"
