রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় ইইউর নতুন ভাবনা: বয়সসীমা নির্ধারণ


মো: মনিরুজ্জামান
মো: মনিরুজ্জামান বার্তা বিভাগ প্রধান
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় ইইউর নতুন ভাবনা: বয়সসীমা নির্ধারণ
মোবাইল ফোনের পর্দায় ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, ফেসবুক, টুইচ ও রেডিট অ্যাপের লোগো। ছবিটি ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তোলারয়টার্স

শিশুদের মানসিক ও আবেগগত বিকাশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের বয়সসীমা বেঁধে দিয়েছে। এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) একই ধরনের পদক্ষেপের কথা ভাবছে। সম্প্রতি ইইউর একটি উপদেষ্টা প্যানেল সুপারিশ করেছে যে, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্ল্যাটফর্ম নিরাপদ প্রমাণ করতে না পারলে ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ রাখা উচিত।

এই সুপারিশের ভিত্তিতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, "শৈশব কারও জন্য অপেক্ষা করবে না। একবার শৈশব চলে গেলে তা আর কখনোই ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।" গাড়ি চালানো ও অ্যালকোহল সেবনের প্রচলিত নিয়মের উদাহরণ টেনে ভন ডার লেন বলেন, যেসব কাজের জন্য পরিপক্বতার প্রয়োজন, সমাজ সেগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করে দেয়। একইভাবে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বয়সসীমা থাকা উচিত।

একজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের মতে, তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনোভাবেই স্ক্রিনের সামনে আনা উচিত নয়। শিশুদের বয়স ও পরিপক্বতা বিবেচনা করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে বাড়ানো দরকার। ভন ডার লেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের 'অন্তহীন স্ক্রলিং'–এর মতো বিষয়গুলোকেও আসক্তিমূলক নকশা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এই আসক্তির জায়গাটি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইইউর গঠিত একটি বিশেষ প্যানেল গত সোমবার তাদের প্রতিবেদন ভন ডার লেনের কাছে জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা নিরাপদ কি না, তা প্রমাণ করার দায়িত্ব তাদেরই। এই দায় কোনো নিয়ামক সংস্থা, অভিভাবক বা শিশুদের ওপর বর্তায় না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যতক্ষণ না এই প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ডিজিটাল সেবাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে, ততক্ষণ ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ সীমিত রাখা উচিত। প্যানেলটি ১৩ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্যও অতিরিক্ত কিছু সতর্কতামূলক বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে সদস্যদেশগুলোকে অনুরোধ করেছে।

ইইউর এই ভাবনার আগেই অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে। টিকটক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশাধিকার সীমিত করতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ চালু বা অনুমোদন করেছে দেশগুলো। ইন্দোনেশিয়া ৪৭ লাখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে, অস্ট্রেলিয়া শিশুদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রযুক্তি কোম্পানির জরিমানা দ্বিগুণ করছে এবং যুক্তরাজ্য মাঝরাতের পর ১৬-১৭ বছর বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করবে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় ইইউর নতুন ভাবনা: বয়সসীমা নির্ধারণ

প্রকাশের তারিখ : শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ

featured Image

শিশুদের মানসিক ও আবেগগত বিকাশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের বয়সসীমা বেঁধে দিয়েছে। এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) একই ধরনের পদক্ষেপের কথা ভাবছে। সম্প্রতি ইইউর একটি উপদেষ্টা প্যানেল সুপারিশ করেছে যে, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্ল্যাটফর্ম নিরাপদ প্রমাণ করতে না পারলে ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ রাখা উচিত।

এই সুপারিশের ভিত্তিতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, "শৈশব কারও জন্য অপেক্ষা করবে না। একবার শৈশব চলে গেলে তা আর কখনোই ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।" গাড়ি চালানো ও অ্যালকোহল সেবনের প্রচলিত নিয়মের উদাহরণ টেনে ভন ডার লেন বলেন, যেসব কাজের জন্য পরিপক্বতার প্রয়োজন, সমাজ সেগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করে দেয়। একইভাবে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বয়সসীমা থাকা উচিত।

একজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের মতে, তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনোভাবেই স্ক্রিনের সামনে আনা উচিত নয়। শিশুদের বয়স ও পরিপক্বতা বিবেচনা করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে বাড়ানো দরকার। ভন ডার লেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের 'অন্তহীন স্ক্রলিং'–এর মতো বিষয়গুলোকেও আসক্তিমূলক নকশা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এই আসক্তির জায়গাটি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইইউর গঠিত একটি বিশেষ প্যানেল গত সোমবার তাদের প্রতিবেদন ভন ডার লেনের কাছে জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা নিরাপদ কি না, তা প্রমাণ করার দায়িত্ব তাদেরই। এই দায় কোনো নিয়ামক সংস্থা, অভিভাবক বা শিশুদের ওপর বর্তায় না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যতক্ষণ না এই প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ডিজিটাল সেবাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে, ততক্ষণ ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ সীমিত রাখা উচিত। প্যানেলটি ১৩ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্যও অতিরিক্ত কিছু সতর্কতামূলক বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে সদস্যদেশগুলোকে অনুরোধ করেছে।

ইইউর এই ভাবনার আগেই অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে। টিকটক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশাধিকার সীমিত করতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ চালু বা অনুমোদন করেছে দেশগুলো। ইন্দোনেশিয়া ৪৭ লাখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে, অস্ট্রেলিয়া শিশুদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রযুক্তি কোম্পানির জরিমানা দ্বিগুণ করছে এবং যুক্তরাজ্য মাঝরাতের পর ১৬-১৭ বছর বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করবে।


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় ইইউর নতুন ভাবনা: বয়সসীমা নির্ধারণ
0:00 / 0:00
1x