রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

এসএসসি ও এইচএসসি প্রশ্নপত্র: প্রণয়ন প্রক্রিয়া, কঠোর নিরাপত্তা ও ভুলের কারণ


মো: মনিরুজ্জামান
মো: মনিরুজ্জামান বার্তা বিভাগ প্রধান
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

এসএসসি ও এইচএসসি প্রশ্নপত্র: প্রণয়ন প্রক্রিয়া, কঠোর নিরাপত্তা ও ভুলের কারণ
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে মাঝে মধ্যেই ভুল ধরা পড়ে

দেশের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি, চূড়ান্তকরণ ও বিতরণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। একটি খসড়া প্রশ্নপত্র থেকে পরীক্ষার হল পর্যন্ত পৌঁছাতে একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়, যেখানে নির্বাচিত শিক্ষক ও কর্মকর্তারা যুক্ত থাকেন। সম্প্রতি বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত ২রা জুলাই থেকে শুরু হয়েছে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জেসমিন তাসলিমা বানূ জানিয়েছেন, বর্তমানে যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, তার তৈরির প্রক্রিয়া গত বছর শুরু হয়েছিল। প্রতিটি শিক্ষাবোর্ডে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের একটি তালিকা থাকে, যাদের মধ্য থেকে একেকটি বিষয়ের জন্য চারজন শিক্ষককে খসড়া প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই শিক্ষকরা পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক বছর আগে বোর্ডের নির্দিষ্ট কক্ষে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় সিলবাস অনুযায়ী চারটি ভিন্ন খসড়া প্রশ্নপত্র তৈরি করেন।

খসড়া প্রশ্নপত্র তৈরির পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিমার্জনের জন্য আরও চারজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম হোসেন আলী জানান, এই শিক্ষকরাও বোর্ডের নির্দিষ্ট কক্ষে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কাজ করেন এবং খাবারের জন্যও তাদের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি থাকে না। এই ধাপে তারা ভুল সংশোধন ও প্রয়োজনে নতুন প্রশ্নপত্র যোগ করার কাজ করেন।

পরিমার্জন শেষে প্রতিটি শিক্ষা বোর্ড থেকে একেকটি বিষয়ের ওপর চার সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করে সিলগালা অবস্থায় ঢাকায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এই কমিটির দায়িত্বে থাকেন। সেখানে লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের চার সেট প্রশ্নপত্র চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে দুই সেট সরাসরি বিজি প্রেসে ছাপার জন্য পাঠানো হয় এবং বাকি দুই সেট সংরক্ষণ করা হয়।

চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র ছাপার জন্য সরকারি ছাপাখানায় পাঠানো হয় পরীক্ষার অন্তত তিন থেকে চার মাস আগে, কারণ এই প্রক্রিয়ায় দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগতে পারে। ছাপার কাজে যুক্ত ব্যক্তিরাও যাতে প্রশ্নপত্র দেখতে বা ফাঁস করতে না পারেন, সেদিকে কঠোর নজর রাখা হয়। ছাপানো শেষে প্রশ্নভর্তি প্যাকেট সিলগালা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় বিভিন্ন জেলার ট্রেজারি কার্যালয়ে পাঠানো হয়, এরপর উপজেলা পর্যায়ে সেগুলো থানায় রাখা হয়।

পরীক্ষার দিন সকালে পুলিশি পাহারায় প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়। কেন্দ্রগুলোতে প্রশ্নপত্রের সিলগালা ইচ্ছামতো খোলা যায় না। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা মিজ বানূ জানান, পরীক্ষা শুরুর ৪০ থেকে ৫০ মিনিট আগে ঢাকায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান লটারির মাধ্যমে একটি সেট নির্বাচন করেন এবং সেই তথ্য দ্রুত কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর কেবল ওই নির্বাচিত সেটে পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং দ্বিতীয় সেটটি অক্ষত অবস্থায় বোর্ড অফিসে ফেরত পাঠানো হয়।

এত কঠোর প্রক্রিয়া সত্ত্বেও মাঝে মাঝে প্রশ্নপত্রে ভুল দেখা যায়। যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম হোসেন আলী বলেন, এর কিছু ভুল প্রিন্টিং মিসটেক বা ছাপানোর ত্রুটির কারণে হয়। তবে সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের সৃজনশীল অংশের দু’টি প্রশ্নে যে ভুল ধরা পড়েছে, তা ছাপানোর ত্রুটি ছিল না, বরং এটিকে ‘দায়িত্বে অবহেলা’ বলা যেতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ভোগান্তির জন্য দুঃখপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রশ্নগুলো তাদের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তৈরি করা হয়েছিল। কর্মকর্তারা জানান, ছাপানোর পর থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রশ্নপত্র দেখার সুযোগ না থাকায় এ ধরনের ত্রুটি সংশোধন করা যায় না। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


এসএসসি ও এইচএসসি প্রশ্নপত্র: প্রণয়ন প্রক্রিয়া, কঠোর নিরাপত্তা ও ভুলের কারণ

প্রকাশের তারিখ : বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ণ

featured Image

দেশের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি, চূড়ান্তকরণ ও বিতরণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। একটি খসড়া প্রশ্নপত্র থেকে পরীক্ষার হল পর্যন্ত পৌঁছাতে একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়, যেখানে নির্বাচিত শিক্ষক ও কর্মকর্তারা যুক্ত থাকেন। সম্প্রতি বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত ২রা জুলাই থেকে শুরু হয়েছে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জেসমিন তাসলিমা বানূ জানিয়েছেন, বর্তমানে যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, তার তৈরির প্রক্রিয়া গত বছর শুরু হয়েছিল। প্রতিটি শিক্ষাবোর্ডে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের একটি তালিকা থাকে, যাদের মধ্য থেকে একেকটি বিষয়ের জন্য চারজন শিক্ষককে খসড়া প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই শিক্ষকরা পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক বছর আগে বোর্ডের নির্দিষ্ট কক্ষে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় সিলবাস অনুযায়ী চারটি ভিন্ন খসড়া প্রশ্নপত্র তৈরি করেন।

খসড়া প্রশ্নপত্র তৈরির পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিমার্জনের জন্য আরও চারজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম হোসেন আলী জানান, এই শিক্ষকরাও বোর্ডের নির্দিষ্ট কক্ষে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কাজ করেন এবং খাবারের জন্যও তাদের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি থাকে না। এই ধাপে তারা ভুল সংশোধন ও প্রয়োজনে নতুন প্রশ্নপত্র যোগ করার কাজ করেন।

পরিমার্জন শেষে প্রতিটি শিক্ষা বোর্ড থেকে একেকটি বিষয়ের ওপর চার সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করে সিলগালা অবস্থায় ঢাকায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এই কমিটির দায়িত্বে থাকেন। সেখানে লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের চার সেট প্রশ্নপত্র চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে দুই সেট সরাসরি বিজি প্রেসে ছাপার জন্য পাঠানো হয় এবং বাকি দুই সেট সংরক্ষণ করা হয়।

চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র ছাপার জন্য সরকারি ছাপাখানায় পাঠানো হয় পরীক্ষার অন্তত তিন থেকে চার মাস আগে, কারণ এই প্রক্রিয়ায় দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগতে পারে। ছাপার কাজে যুক্ত ব্যক্তিরাও যাতে প্রশ্নপত্র দেখতে বা ফাঁস করতে না পারেন, সেদিকে কঠোর নজর রাখা হয়। ছাপানো শেষে প্রশ্নভর্তি প্যাকেট সিলগালা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় বিভিন্ন জেলার ট্রেজারি কার্যালয়ে পাঠানো হয়, এরপর উপজেলা পর্যায়ে সেগুলো থানায় রাখা হয়।

পরীক্ষার দিন সকালে পুলিশি পাহারায় প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়। কেন্দ্রগুলোতে প্রশ্নপত্রের সিলগালা ইচ্ছামতো খোলা যায় না। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা মিজ বানূ জানান, পরীক্ষা শুরুর ৪০ থেকে ৫০ মিনিট আগে ঢাকায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান লটারির মাধ্যমে একটি সেট নির্বাচন করেন এবং সেই তথ্য দ্রুত কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর কেবল ওই নির্বাচিত সেটে পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং দ্বিতীয় সেটটি অক্ষত অবস্থায় বোর্ড অফিসে ফেরত পাঠানো হয়।

এত কঠোর প্রক্রিয়া সত্ত্বেও মাঝে মাঝে প্রশ্নপত্রে ভুল দেখা যায়। যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম হোসেন আলী বলেন, এর কিছু ভুল প্রিন্টিং মিসটেক বা ছাপানোর ত্রুটির কারণে হয়। তবে সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের সৃজনশীল অংশের দু’টি প্রশ্নে যে ভুল ধরা পড়েছে, তা ছাপানোর ত্রুটি ছিল না, বরং এটিকে ‘দায়িত্বে অবহেলা’ বলা যেতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ভোগান্তির জন্য দুঃখপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রশ্নগুলো তাদের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তৈরি করা হয়েছিল। কর্মকর্তারা জানান, ছাপানোর পর থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রশ্নপত্র দেখার সুযোগ না থাকায় এ ধরনের ত্রুটি সংশোধন করা যায় না। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
এসএসসি ও এইচএসসি প্রশ্নপত্র: প্রণয়ন প্রক্রিয়া, কঠোর নিরাপত্তা ও ভুলের কারণ
0:00 / 0:00
1x