রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি বা পড়ে যাওয়ার অনুভূতি: কখন সতর্ক হবেন?


মো: মনিরুজ্জামান
মো: মনিরুজ্জামান বার্তা বিভাগ প্রধান
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি বা পড়ে যাওয়ার অনুভূতি: কখন সতর্ক হবেন?
ছবির ক্যাপশান, অধিকাংশ মানুষই হিপনিক জার্ক বা ঘুমের মধ্যে আচমকা ঝাঁকুনি অনুভব করেন – প্রতীকী ছবি

ঘুমের মধ্যে আচমকা ঝাঁকুনি বা ওপর থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি অনেকেরই হয়। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিন্ধুজা জানান, দশজনের মধ্যে সাতজনই জীবনে কোনো না কোনো সময় এমনটা অনুভব করেছেন। এটি হিপনিক জার্ক নামে পরিচিত।

এই আচমকা ঝাঁকুনির তীব্রতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। কারো ক্ষেত্রে এটি এতটাই হালকা যে তারা নিজেরা অনুভব করতে পারেন না, আবার কারো ক্ষেত্রে তীব্রতা বেশি হওয়ায় ঘুম ভেঙে যায়।

হিপনিক জার্ক মূলত অনিচ্ছাকৃত পেশী সংকোচন যা ঘুমের সময় ঘটে। ডা. সিন্ধুজা ব্যাখ্যা করেন, জেগে থাকা অবস্থা থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় যাওয়ার সময়, অর্থাৎ ঘুমের প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়ে এটি দেখা যায়।

আমাদের ঘুম নন র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (এনআরইএম) এবং র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএম) এই দু'টি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত। ঘুমের এই চারটে চক্র ৯০ থেকে ১১০ মিনিট অন্তর পরিবর্তিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশানাল স্লিপ ফাউন্ডেশন একে মাংসপেশীর আকস্মিক ও স্বতঃস্ফূর্ত ঝাঁকুনি হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা জেগে থাকা অবস্থা থেকে ঘুমে যাওয়ার সময় বেশি দেখা যায়।

ডা. সিন্ধুজা অবশ্য বলেছেন, সব ক্ষেত্রে এটিকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া যায় না। ২০১৬ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬০% থেকে ৭০% মানুষ তাদের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এটি অনুভব করেছেন।

মার্কিন ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফর্মেশন (এনসিবিআই) অনুসারে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি কোনো রোগের লক্ষণ নয়। তবে পুনরাবৃত্তিক কাঁপুনি স্নায়বিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

গুরুতর ক্ষেত্রে বুক ধড়ফড় করা, মৃগীরোগ, নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজিজ বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মতো অন্তর্নিহিত কারণও প্রতিফলিত হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বেশিরভাগ সময় হিপনিক জার্কের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ থাকে না। তবে ডা. সিন্ধুজা কয়েকটি ফ্যাক্টরের কথা উল্লেখ করেছেন যা এই সমস্যা বাড়াতে পারে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির গবেষণা অনুযায়ী, অতিরিক্ত চাপ, উদ্বেগ এবং ক্লান্তি এই পেশী স্পন্দনের ফ্রিকোয়েন্সি ও তীব্রতা বাড়িয়ে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ সিস্টেমের মতে, স্ট্রেস ও উদ্বেগ মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র এবং কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা জেগে থাকা থেকে গভীর ঘুমে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তোলে।

দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা, স্লিপ ডিজঅর্ডার, রাতে পাতলা ঘুম বা অনিয়মিত ঘুমের কারণেও ঘুমের সময় হঠাৎ ঝাঁকুনির আশঙ্কা বাড়তে পারে বলে ডা. সিন্ধুজা জানিয়েছেন।

ডা. সিন্ধুজা পরামর্শ দিয়েছেন, যদি ঘন ঘন এই ধরনের ঝাঁকুনি হয় এবং এর সঙ্গে কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এগুলো দীর্ঘস্থায়ী স্নায়বিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে, যেমন ডিমেনশিয়া বা মৃগী রোগের প্রাথমিক ইঙ্গিত। তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

হিপনিক জার্ক হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘনঘন শ্বাস নেওয়া, ঘাম হওয়া, আচমকা ঝাঁকুনি বা শূন্যে পড়ে যাওয়ার মতো এক অদ্ভুত সংবেদনশীল অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

এসব বিষয় সম্পর্কে জানতে বিবিসি তামিল স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিন্ধুজার সঙ্গে বিশদে কথা বলেছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি বা পড়ে যাওয়ার অনুভূতি: কখন সতর্ক হবেন?

প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ

featured Image

ঘুমের মধ্যে আচমকা ঝাঁকুনি বা ওপর থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি অনেকেরই হয়। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিন্ধুজা জানান, দশজনের মধ্যে সাতজনই জীবনে কোনো না কোনো সময় এমনটা অনুভব করেছেন। এটি হিপনিক জার্ক নামে পরিচিত।

এই আচমকা ঝাঁকুনির তীব্রতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। কারো ক্ষেত্রে এটি এতটাই হালকা যে তারা নিজেরা অনুভব করতে পারেন না, আবার কারো ক্ষেত্রে তীব্রতা বেশি হওয়ায় ঘুম ভেঙে যায়।

হিপনিক জার্ক মূলত অনিচ্ছাকৃত পেশী সংকোচন যা ঘুমের সময় ঘটে। ডা. সিন্ধুজা ব্যাখ্যা করেন, জেগে থাকা অবস্থা থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় যাওয়ার সময়, অর্থাৎ ঘুমের প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়ে এটি দেখা যায়।

আমাদের ঘুম নন র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (এনআরইএম) এবং র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএম) এই দু'টি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত। ঘুমের এই চারটে চক্র ৯০ থেকে ১১০ মিনিট অন্তর পরিবর্তিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশানাল স্লিপ ফাউন্ডেশন একে মাংসপেশীর আকস্মিক ও স্বতঃস্ফূর্ত ঝাঁকুনি হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা জেগে থাকা অবস্থা থেকে ঘুমে যাওয়ার সময় বেশি দেখা যায়।

ডা. সিন্ধুজা অবশ্য বলেছেন, সব ক্ষেত্রে এটিকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া যায় না। ২০১৬ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬০% থেকে ৭০% মানুষ তাদের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এটি অনুভব করেছেন।

মার্কিন ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফর্মেশন (এনসিবিআই) অনুসারে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি কোনো রোগের লক্ষণ নয়। তবে পুনরাবৃত্তিক কাঁপুনি স্নায়বিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

গুরুতর ক্ষেত্রে বুক ধড়ফড় করা, মৃগীরোগ, নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজিজ বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মতো অন্তর্নিহিত কারণও প্রতিফলিত হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বেশিরভাগ সময় হিপনিক জার্কের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ থাকে না। তবে ডা. সিন্ধুজা কয়েকটি ফ্যাক্টরের কথা উল্লেখ করেছেন যা এই সমস্যা বাড়াতে পারে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির গবেষণা অনুযায়ী, অতিরিক্ত চাপ, উদ্বেগ এবং ক্লান্তি এই পেশী স্পন্দনের ফ্রিকোয়েন্সি ও তীব্রতা বাড়িয়ে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ সিস্টেমের মতে, স্ট্রেস ও উদ্বেগ মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র এবং কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা জেগে থাকা থেকে গভীর ঘুমে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তোলে।

দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা, স্লিপ ডিজঅর্ডার, রাতে পাতলা ঘুম বা অনিয়মিত ঘুমের কারণেও ঘুমের সময় হঠাৎ ঝাঁকুনির আশঙ্কা বাড়তে পারে বলে ডা. সিন্ধুজা জানিয়েছেন।

ডা. সিন্ধুজা পরামর্শ দিয়েছেন, যদি ঘন ঘন এই ধরনের ঝাঁকুনি হয় এবং এর সঙ্গে কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এগুলো দীর্ঘস্থায়ী স্নায়বিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে, যেমন ডিমেনশিয়া বা মৃগী রোগের প্রাথমিক ইঙ্গিত। তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

হিপনিক জার্ক হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘনঘন শ্বাস নেওয়া, ঘাম হওয়া, আচমকা ঝাঁকুনি বা শূন্যে পড়ে যাওয়ার মতো এক অদ্ভুত সংবেদনশীল অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

এসব বিষয় সম্পর্কে জানতে বিবিসি তামিল স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিন্ধুজার সঙ্গে বিশদে কথা বলেছে।


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি বা পড়ে যাওয়ার অনুভূতি: কখন সতর্ক হবেন?
0:00 / 0:00
1x