বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করতে চালু হয়েছে 'বাংলা কিউআর' কোড। এটি ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার সরকারি লক্ষ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এই পদ্ধতির লেনদেন ফি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে, যা গ্রাহকদের খরচ বাড়াতে পারে কিনা, সে বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশের জন্য তৈরি একটি সর্বজনীন কিউআর কোড স্ট্যান্ডার্ড। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করে একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে পারবেন। এর ফলে দোকানে একাধিক কিউআর কোড রাখার ঝামেলা দূর হবে এবং গ্রাহকদের নতুন অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে না।
সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ডিজিটাল বা ক্যাশলেস করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ভবিষ্যতে সব সরকারি পেমেন্ট সেবাকে কিউআর কোড-ভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও কিউআর-ভিত্তিক লেনদেন সম্ভব কিনা, তা নিয়েও কাজ চলছে।
ডিজিটাল লেনদেনের জন্য ব্যাংকগুলো মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) নামে একটি পরিচালনা খরচ চার্জ করে। ২০২৪ সালে বাংলা কিউআর চালুর সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এমডিআরের ঊর্ধ্বসীমা ব্যাংক কার্ডে ০.৫০% এবং এমএফএস-এ ০.৮০% ধার্য করার কথা ছিল। তবে পহেলা জুলাই থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক এই 'ঊর্ধ্বসীমা' তুলে দিয়ে 'সর্বনিম্ন' হার ১ শতাংশ বেঁধে দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই এক শতাংশ ফি ব্যাংক এবং ব্যবসায়ীর মধ্যকার বিষয়, গ্রাহকের পকেট থেকে এটি নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে অর্থনীতিবিদদের অনেকে মনে করেন, ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চার্জ বসালে ডিজিটাল পেমেন্ট জনপ্রিয়তা হারাবে। তারা এমডিআর ফি কমানোর (যেমন ০.৫%) এবং বিক্রেতা যেন গ্রাহকের ওপর দায় না চাপায়, তা নজরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট সহজ হলে বিক্রি বাড়ে এবং পরিচালন খরচ কমে। নগদ অর্থ গোনা, ব্যাংকে জমা দেওয়া এবং চুরির ঝুঁকিও দূর হয়। ব্যাংকগুলো নিজেদের প্রচারণার জন্য ফি মওকুফসহ নানা অফারও দিতে পারে, যা লেনদেনকে আরও আকর্ষণীয় করবে। ক্রেডিট কার্ডের মতো এটিও ধীরে ধীরে মানুষের অভ্যাসে পরিণত হবে।
মাঠপর্যায়ে বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ, সাইবার নিরাপত্তা, লেনদেনের তথ্য থেকে করের বোঝা চাপানোর ভয় এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ উত্তোলনের জটিলতা এগুলোর মধ্যে অন্যতম। ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট এবং লেনদেনের জটিলতা দূর করাও জরুরি।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নেতা হেলাল উদ্দিন উল্লেখ করেছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নগদ অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি একটি সমস্যা হতে পারে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, বাংলা কিউআর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ডিজিটাল আর্থিক পরিচিতি তৈরি করবে, যার ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো ভবিষ্যতে জামানতবিহীন ঋণ প্রদানে উৎসাহিত হতে পারে।
বিআইবিএম-এর অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব মনে করেন, শুরুতে কিছু জটিলতা থাকলেও সময়ের সাথে সাথে মানুষ এই পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হবে। ছোট ব্যবসায়ীরা বরং বেশি সুবিধা পাবেন, কারণ এটি টাকা রাখার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ফি ততটা বোঝা মনে হবে না।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করতে চালু হয়েছে 'বাংলা কিউআর' কোড। এটি ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার সরকারি লক্ষ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এই পদ্ধতির লেনদেন ফি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে, যা গ্রাহকদের খরচ বাড়াতে পারে কিনা, সে বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশের জন্য তৈরি একটি সর্বজনীন কিউআর কোড স্ট্যান্ডার্ড। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করে একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে পারবেন। এর ফলে দোকানে একাধিক কিউআর কোড রাখার ঝামেলা দূর হবে এবং গ্রাহকদের নতুন অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে না।
সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ডিজিটাল বা ক্যাশলেস করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ভবিষ্যতে সব সরকারি পেমেন্ট সেবাকে কিউআর কোড-ভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও কিউআর-ভিত্তিক লেনদেন সম্ভব কিনা, তা নিয়েও কাজ চলছে।
ডিজিটাল লেনদেনের জন্য ব্যাংকগুলো মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) নামে একটি পরিচালনা খরচ চার্জ করে। ২০২৪ সালে বাংলা কিউআর চালুর সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এমডিআরের ঊর্ধ্বসীমা ব্যাংক কার্ডে ০.৫০% এবং এমএফএস-এ ০.৮০% ধার্য করার কথা ছিল। তবে পহেলা জুলাই থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক এই 'ঊর্ধ্বসীমা' তুলে দিয়ে 'সর্বনিম্ন' হার ১ শতাংশ বেঁধে দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই এক শতাংশ ফি ব্যাংক এবং ব্যবসায়ীর মধ্যকার বিষয়, গ্রাহকের পকেট থেকে এটি নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে অর্থনীতিবিদদের অনেকে মনে করেন, ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চার্জ বসালে ডিজিটাল পেমেন্ট জনপ্রিয়তা হারাবে। তারা এমডিআর ফি কমানোর (যেমন ০.৫%) এবং বিক্রেতা যেন গ্রাহকের ওপর দায় না চাপায়, তা নজরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট সহজ হলে বিক্রি বাড়ে এবং পরিচালন খরচ কমে। নগদ অর্থ গোনা, ব্যাংকে জমা দেওয়া এবং চুরির ঝুঁকিও দূর হয়। ব্যাংকগুলো নিজেদের প্রচারণার জন্য ফি মওকুফসহ নানা অফারও দিতে পারে, যা লেনদেনকে আরও আকর্ষণীয় করবে। ক্রেডিট কার্ডের মতো এটিও ধীরে ধীরে মানুষের অভ্যাসে পরিণত হবে।
মাঠপর্যায়ে বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ, সাইবার নিরাপত্তা, লেনদেনের তথ্য থেকে করের বোঝা চাপানোর ভয় এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ উত্তোলনের জটিলতা এগুলোর মধ্যে অন্যতম। ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট এবং লেনদেনের জটিলতা দূর করাও জরুরি।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নেতা হেলাল উদ্দিন উল্লেখ করেছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নগদ অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি একটি সমস্যা হতে পারে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, বাংলা কিউআর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ডিজিটাল আর্থিক পরিচিতি তৈরি করবে, যার ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো ভবিষ্যতে জামানতবিহীন ঋণ প্রদানে উৎসাহিত হতে পারে।
বিআইবিএম-এর অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব মনে করেন, শুরুতে কিছু জটিলতা থাকলেও সময়ের সাথে সাথে মানুষ এই পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হবে। ছোট ব্যবসায়ীরা বরং বেশি সুবিধা পাবেন, কারণ এটি টাকা রাখার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ফি ততটা বোঝা মনে হবে না।
