কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকা বন্যার রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে নাজিরাবাজার চৌরাস্তা থেকে বংশাল রুকন উদ্দিন জামে মসজিদ, যা নাজিরাবাজার বড় মসজিদ নামে পরিচিত, পর্যন্ত পুরো সড়ক হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে।
সরেজমিন দেখা যাচ্ছে, ঐতিহ্যবাহী বংশাল রুকন উদ্দিন জামে মসজিদের প্রধান ফটকের সামনে জমে আছে এক থেকে দেড় ফুট পানি। মসজিদের সিঁড়ি ও স্টিলের রেলিংয়ের অর্ধেকটাই পানির নিচে। মুসল্লিদের মসজিদেক প্রবেশে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে মূল সড়কের অবস্থা আরও শোচনীয়। নাজিরাবাজার চৌরাস্তা থেকে মসজিদমুখী রাস্তায় রিকশার চাকা ও মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের অর্ধেক ডুবে গেছে। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ছাতা হাতে পথচারীরা হাঁটুপানি ভেঙে চলাচল করছেন। দোকানপাটের সামনে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই নাজিরাবাজারের এই অংশটিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পুরনো ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নালা পরিষ্কার না করাই এর মূল কারণ। রাস্তার পানি নামতে না পারায় বাসাবাড়ি, দোকান ও মসজিদের সামনে কৃত্রিম বন্যা তৈরি হয়েছে।
একজন রিকশাচালক জানান, "চাকা ঘোরে না, যাত্রীও নাই। পানি ঠেইলা রিকশা চালানো যায় না। সারাদিনের রোজগার বন্ধ।" মসজিদের একজন মুসল্লি বলেন, "অজু করে আসলেও মসজিদে ঢোকার আগে পায়ে আবার নোংরা পানি লাগে। নামাজ পড়তে কষ্ট হয়।"
১. অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন: এলাকার ড্রেনগুলো পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে।
২. নিচু এলাকা: পুরান ঢাকার এই অংশ তুলনামূলক নিচু হওয়ায় আশপাশের পানিও এখানে এসে জমে।
৩. জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি: রাস্তায় জমে থাকা নোংরা পানি থেকে চর্মরোগ, ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
৪. যান চলাচল ব্যাহত: মূল সড়কে হাঁটুপানি জমায় রিকশা, মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ।
দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ড্রেনেজ লাইন সংস্কার ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্র দেখা গেলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
আবহাওয়া অফিস আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় নাজিরাবাজারসহ পুরান ঢাকার নিচু এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকা বন্যার রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে নাজিরাবাজার চৌরাস্তা থেকে বংশাল রুকন উদ্দিন জামে মসজিদ, যা নাজিরাবাজার বড় মসজিদ নামে পরিচিত, পর্যন্ত পুরো সড়ক হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে।
সরেজমিন দেখা যাচ্ছে, ঐতিহ্যবাহী বংশাল রুকন উদ্দিন জামে মসজিদের প্রধান ফটকের সামনে জমে আছে এক থেকে দেড় ফুট পানি। মসজিদের সিঁড়ি ও স্টিলের রেলিংয়ের অর্ধেকটাই পানির নিচে। মুসল্লিদের মসজিদেক প্রবেশে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে মূল সড়কের অবস্থা আরও শোচনীয়। নাজিরাবাজার চৌরাস্তা থেকে মসজিদমুখী রাস্তায় রিকশার চাকা ও মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের অর্ধেক ডুবে গেছে। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ছাতা হাতে পথচারীরা হাঁটুপানি ভেঙে চলাচল করছেন। দোকানপাটের সামনে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই নাজিরাবাজারের এই অংশটিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পুরনো ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নালা পরিষ্কার না করাই এর মূল কারণ। রাস্তার পানি নামতে না পারায় বাসাবাড়ি, দোকান ও মসজিদের সামনে কৃত্রিম বন্যা তৈরি হয়েছে।
একজন রিকশাচালক জানান, "চাকা ঘোরে না, যাত্রীও নাই। পানি ঠেইলা রিকশা চালানো যায় না। সারাদিনের রোজগার বন্ধ।" মসজিদের একজন মুসল্লি বলেন, "অজু করে আসলেও মসজিদে ঢোকার আগে পায়ে আবার নোংরা পানি লাগে। নামাজ পড়তে কষ্ট হয়।"
১. অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন: এলাকার ড্রেনগুলো পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে।
২. নিচু এলাকা: পুরান ঢাকার এই অংশ তুলনামূলক নিচু হওয়ায় আশপাশের পানিও এখানে এসে জমে।
৩. জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি: রাস্তায় জমে থাকা নোংরা পানি থেকে চর্মরোগ, ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
৪. যান চলাচল ব্যাহত: মূল সড়কে হাঁটুপানি জমায় রিকশা, মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ।
দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ড্রেনেজ লাইন সংস্কার ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্র দেখা গেলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
আবহাওয়া অফিস আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় নাজিরাবাজারসহ পুরান ঢাকার নিচু এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
